বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিতার বিপক্ষে নির্বাচনী মাঠে ভোট চাইছেন মেয়ে

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ১২:১৯ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার

পিতার বিপক্ষে ভোট চাইলেন মেয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে সিংহ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার মেয়ে ও মহাজোট মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার স্ত্রী নীলা নিজ জন্মভূমিতে পিতার বিপক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন। নীলা সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির  ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান সাংসদ জিয়াউল হক মৃধার বড় মেয়ে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে দলের মনোনয়ন  বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে “সিংহ” প্রতীকে নির্বাচন করছেন নীলার পিতা জিয়াউল হক মৃধা। তার স্বামী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া দলের পক্ষে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে “লাঙ্গল” প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

বিকেলে সরাইল সদর ও কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় পিতার বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন মেয়ে নীলা। এসময় নীলা তার স্বামী রেজাউল ইসলামের পক্ষে “লাঙ্গল” প্রতীকে ভোট চান। বাপের বাড়ি এলাকায় স্বামীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা, এতে স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 বিকেলে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় প্রধান সড়কের আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতাকর্মীদের নিয়ে যখন মেয়ে নীলা প্রচারণা করেন , তখন সেই মূহূর্তে ঘটনাস্থলে হাজির হন নীলার পিতা সাংসদ জিয়াউল হক। সড়কে নেতাকর্মীদের চাপে সাংসদ জিয়াউল হককে বহনকারী গাড়িটি সড়কে কিছু সময় আটকা পড়ে থাকে। তবে জিয়াউল হক গাড়ি থেকে নামেননি।

এসময় সামনাসামনি সাংসদ জিয়াউল হককে দেখে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী আড়ালে মুখ লুকানোর চেষ্টা করলেও পিতার সামনেই বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে মেয়ে নীলা একটুও ইতস্তবোধ করেননি।

প্রচারণার সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মেয়েদের জন্মলগ্ন থেকেই বিয়ের পর স্বামীর বাড়িই আপন ঠিকানা। যার কারনে স্বামীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালানোটা স্বাভাবিক বিষয়। এটাই একজন স্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্ত ও নৈতিক দায়িত্ব।

যদিও নীলার পিতা মেয়ের জামাইর সাথে দলীয় মনোনয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে গিয়ে বলেছেন মরে গেলেও যেন মেয়ের জামাতা তাকে মাঠি দিতে না যান।

এসময় এক যুবক জানান, হাইরে ক্ষমতা, যে মেয়ের জামাতার দয়ায় ইনি (জিয়াউল হক মৃধা) দুই এমপি হয়েছেন সেই মেয়েকেই আজ উনার শত্রু হতে হলো। ক্ষমতার লোভেই আজ বাবার কাছ থেকে মেয়েকে আলাদা হতে হলো।