সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

চাঁদের পৃষ্ঠে কী অবস্থায় রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম?

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ১০:৩২ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

সফলতার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ব্যর্থ হয়ে যায় ভারতের চন্দ্রযান ২ ল্যান্ডার বিক্রমের মিশন। এটি নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গিয়েছিল। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

গেল কয়েকদিন ধরেই চন্দ্রযান ২ -এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে ইসরো’র কন্ট্রোল রুম থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এটা স্পষ্ট যে, ভারতের এই স্বপ্নযান এখনো নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে।

তবে এরই মধ্যে ইসরো জানিয়েছে, আরবিটারটির এক বছর কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমানে এটি সাত বছর কাজ করতে পারবে। তাদের দাবি, সফল ও উন্নত উৎক্ষেপণের ফলে অরবিটারের জ্বালানি কম খরচ হয়েছে এবং কর্মক্ষমতা বেড়েছে। বিক্রমের কী অবস্থা, তা জানতে ইসরোর ভরসা এখন ওই অরবিটার।

চন্দ্রযান ২ -এর অরবিটার থেকে তোলা তাপচিত্র (থার্মাল ইমেজ) ছবি এখন ইসরোর হাতে রয়েছে। তাপচিত্রে বিক্রমের উপস্থিতি টের পাওয়া গেলেও এটি কী অবস্থায় রয়েছে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা জানাতে পারেনননি ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন।

তবে ইসরো দাবি করেছে, বিক্রম ভেঙে যায়নি। আবার অক্ষত অবস্থায় যে রয়েছে, তাও নিশ্চিত নয়। দুই কিলোমিটার ওপর থেকে আছড়ে পড়লে বা বেশি গতিবেগ নিয়ে অবতরণ করলে এর যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেটা ঘটে থাকলেও বিক্রম কাজ করবে না।

ইসরোর একটি সূত্র বলছে, বিক্রমকে পালকের মতো অবতরণ বা সফট ল্যান্ডিংয়ের সক্ষমতায় তৈরি করা হয়েছিল। ফলে বেশি গতিবেগ নিয়ে নামলে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সে যেখানে নেমেছে, ঠিক সেখানে ভূমিরূপ কেমন তাও জানা নেই। এতে বিক্রমের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।

সবশেষ ইসরো জানিয়েছে, চন্দ্রযান-২ এর মিশন ব্যর্থতার ত্রুটি খোঁজার জন্য কমিটি নিয়োগ করা হয়েছে। শিগগিরই তারা রিপোর্ট দেবে। তবে বিক্রমের সঙ্গে আদৌ যোগাযোগ করা যাবে কি না, এ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২.১ কিমি ওপরে থাকার সময় বিক্রমের সঙ্গে ইসরোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানান, অবতরণ ঠিকমতো হয়নি।