বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সিপিআর সম্পর্কে জানুন

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ১২:২০ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

জীবনে চলার পথে নানা রকমের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। তবে সেই বিপদে ঘাবড়ে যাওয়াটা বোকামি। তাই বিপদ এড়াতে কিছু উপায় জেনে রাখা প্রয়োজন। কারো হার্ট অ্যাটাক হলে বা পানিতে ডুবে গেলে বা ইলেক্ট্রিক শক খেলে  ঘাবড়ে না গিয়ে জরুরিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তাকে সিপিআর দিতে হবে। এরপর রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। এটা টিভি, সিনেমায় আমরা অনেকবার দেখেছি।

হার্ট অ্যাটাক, পানিতে ডুবে যাওয়া বা ইলেক্ট্রিক শকের মত বিভিন্ন কারণে শ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে জরুরিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সিপিআর দেয়া হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা করে শুইয়ে দিয়ে বুকের ওপর হাত দিয়ে চাপ দিতে হয়। এটি বিশ্বব্যাপী বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত।

সিপিআর কি?
কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) হলো একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা কৌশল। সাময়িকভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ কিছু সময় কৃত্রিমভাবে চালিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করাকে বলে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর।

সিপিআর কীভাবে করতে হয়?
ব্যক্তির এক পাশে এসে বুক বরাবর বসে এক হাতের তালুকে বুকের মাঝ বরাবর স্থাপন করতে হবে। তার ওপর অপর হাত স্থাপন করে ওপরের হাতের আঙুল দিয়ে নিচের হাতকে আঁকড়ে ধরতে হবে। হাতের কনুই ভাঁজ না করে সোজাভাবে বুকের ওপর চাপ দিতে হবে। এমন গতিতে চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন প্রতি মিনিটে ১০০-১২০টি চাপ প্রয়োগ করা যায়। এভাবে প্রতি ৩০টি চাপ প্রয়োগের পর আক্রান্তের মুখে মুখ রেখে দুবার ফুঁ দিতে হবে। এমনভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন বুকের পাঁজর ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি নিচে নামে। যাতে চাপ হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ পড়ে।

হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বা জ্ঞান ফিরে আসা অথবা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালু হওয়া পর্যন্ত একইভাবে সিপিআর চালিয়ে যেতে হবে। জ্ঞান ফিরলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস চালু হলে তাকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। এর পর হাসপাতালে নিয়ে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।