শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

আজ শেষ হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ১০:২০ এএম, ১১ আগস্ট ২০১৯ রোববার

মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা পাঠ ও জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার দুপুরে আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা শুরু হয়। খুতবা পাঠ করেছেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে আশ-শায়খ। খুতবায় সঠিক ইসলামের পথে মুসলিমদের ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয় এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
এর আগে আরাফাত ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যদিয়ে হজ পালন করতে হয়। 

শুক্রবার মিনায় রাত্রি যাপনের পর শনিবার সকাল থেকেই আরাফাত ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে এখানে যেতে হয়। হাজিরা নামিরা মসজিদ থেকে দেয়া খুতবা শোনার পর জোহর ও আসরের নামাজ একইসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। তারপর হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরান তেলওয়াতের মাধ্যমে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে রওনা দেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করেন হাজিরা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন।

আজ রোববার সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

এদিকে মক্কা অঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল জানান, হাজিদের সেবা দিতে শত কোটি ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তারা। মিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অতিথিদের স্বস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে তারা কুণ্ঠিত নন। ফয়সাল আরো জানান, হাজিদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি সামরিক-বেসামরিক সদস্য এবং ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করা হয়েছে।