ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

১৪৮

৬২০ টাকার মূলধনে কোটিপতি!

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২০  

অভাবের তাড়নায় জেদের বশে দেশ ছেড়েছিলেন সাইফুল্লাহ গাজী। জেদ মিটতেই দেশে ফিরে ঢাকায় গার্মেন্টেসে শুরু করেন শ্রমিকের কাজ। কাজের মজুরিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন সাইফুল্লাহ। মজুরি থেকে অবশিষ্ট থাকা ৬২০ টাকায় অ্যাকুরিয়াম মাছের চাষ শুরু করেন। আর সেই মাছ চাষ তাকে আজ বানিয়েছে কোটিপতি।

এক সময় বিদেশ থেকে আমদানি করা অ্যাকুরিয়ার মাছ সৌখিন ব্যক্তিদের বাসা-বাড়িতে শোভা পেত। কিন্তু উদ্যোমী সাইফুল্লাহ চেষ্টায় দেশ থেকে উৎপাদিত মাছ এখন সৌখিনদের বাসা-বাড়িতে যাচ্ছে। এখন দেড় কোটি টাকার মূলধন খাটিয়ে ব্যবসা করছেন সাইফুল্লাহ।

সাইফুল্লাহ গাজী। যিনি সাতক্ষীরার কলারোয়ার বজ্রবকশা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ২১টি পুকুরে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকুরিয়ামের মাছ চাষ করছেন তিনি। বিশাল মূলধন খাটানোর পাশপাশি ৫০ জন বেকারের কর্মসংস্থান করেছেন সাইফুল্লাহ। তার পুকুরে বাহারি রঙের মাছে সমারোহ দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালে পাত্রে শব্দ করে মাছকে খাওয়ার দাওয়াত দেন সাইফুল্লাহ। শব্দ শুনে পুকুরের এক কিনারে জমা হয় সব রঙিন মাছ। এরপর খাবার ছিটিয়ে দিলেই নিমিষেই খাবার খেয়ে তৃপ্ত হয় মাছগুলো। সাইফুলের ডাক ও মাছেদের সাড়া দেয়ার এক অপূর্ব দৃশ্য দেখে অবাক স্থানীয়রা। তার পুকুরে রয়েছে বেশ কয়েক ধরনের অ্যাকুরিয়ার মাছ। এর মধ্যে রয়েছে কমেট লাল, কৈ কাপ গোল্ড ফিস, ওরেন্টা গোল্ড, ব্যাল্ক মোর, মলি, প্লাটি।

 

 

সফল উদ্যোক্তা সাইফুল্লাহ গাজী বলেন, ১৯৯৭ সালে অভাবের কারণে জেদের বশে প্রতিবেশী দেশ ভারতে কাজে যাই। সেখানে টেক্সটাইল মিলে কাজ করার পাশাপাশি একটি গ্রামীণ এলাকায় যাই। সেখানে বেশ কয়েকটি পুকুরে নানা রঙের মাছ চাষ দেখতে পাই। এরপর জিদ মিটে গেলে দেশে ফিরে আসি।

অভাবের তাড়নায় ১৯৯৯ সালে আবারো বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে কাজ শুরু করি। কিন্তু পর্যাপ্ত আয় না থাকায় সন্তুষ্টি মেলেনি। তখন মিরপুর-১৩ তে একটি অ্যাকুরিয়ামের দোকান দেখি। ভারত থেকে সৃষ্ট আকাঙ্ক্ষা আর মিরপুরের দোকান দেখে অ্যাকুরিয়াম মাছ চাষের প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, আগ্রহ থাকলেও মূলধন ছিল না। অবশেষে মাসের বেতনের সব টাকা খরচ করে অবশিষ্ট ৬২০ টাকা ছিল। সেই টাকায় কয়েকটি মাছ নিয়ে বাড়িতে রওনা হই। বাড়িতে অ্যাকুরিয়ামের মাছগুলোকে এনে কলসে পালন করি। এক সময় মাছগুলো ডিম দেয়। কিন্তু পুরুষ মাছের অভাবে ডিমগুলো থেকে বাচ্চা উৎপন্ন হচ্ছিল না। এভাবেই অ্যাকুরিয়ারম মাছ চাষের শুরু।

সাইফুল্লাহ বলেন, প্রথমে ১০ রকমের মাছ আনলেও ৯ ধরনের মাছকেই বাঁচানো যেত না। তবে পাঁচ বছরের অক্লান্ত সাধনায় ৯ ধরনের মাছ প্রস্তুত করতে সক্ষম হই। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।  ৬২০ টাকার মূলধন এখন দেড় কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২১টি পুকুরে চাষ করা অ্যাকুরিয়ামের পিছনে ৫০ জন পরিশ্রম করছেন।

তিনি বলেন, নিজের বেকারত্ব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরো পাঁচজনের বেকারত্ব দূর করতেই চেষ্টা করছি। এখন আমার চাষ করা অ্যাকুরিয়াম মাছ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশ রফতানি করার ইচ্ছা আছে। এতে নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশ লাভবান হবে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সারাবাংলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর