ব্রেকিং:
সদর সার্কেলে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের যোগদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন গ্রেফতার গাছের চারার মধ্যে গাঁজা পাচারেও শেষ রক্ষা হলো না নারীর টিফিন বক্সে হাজার টাকার মাদক! নদী দূষণ ও দখল প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীর ওপর হামলা সরাইলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লাখো মানুষ! ভুল আসামির সাজা খাটার বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ বই পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষায় বদল আনছে সরকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের তিন কোটি অবৈধ স্মার্টফোন! ইসলামে ধর্ষণ-হত্যা প্রতিরোধে করণীয় অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে মহাতারকা হয়েছেন যারা ‘অন্তঃস্বত্ত্বা’ বুবলীকে ডলার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছেন শাকিব! দেশপ্রেমীরা দুর্নীতি করে না: পরশ করোনায় মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ালো তালাক দেয়া স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে হত্যা ট্রেনে খোলা খাবার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার নয় প্রকল্প অনুমোদন চীনকে ছয় ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিল বাংলাদেশ কাঠ-লোহার মিস্ত্রি হয়েও করেন দাঁতের চিকিৎসা
  • বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৭ ১৪২৬

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

২২৮

হেলেপড়া ভবনসহ আরো ১৫ বাড়ি ভাঙার অভিযোগ

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

কামরাঙ্গীরচরের খলিফাঘাটের কাজীর পাড়ার হেলে পড়া পাঁচতলা ভবন ভেঙে ফেলার সময় নিরাপদ দুরুত্বে থাকা আরো প্রায় ১২ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

এসব বাড়ি গুলি ছিল আধা-পাকা দ্বিতল ভবন ও টিনসেডের। যেখানে প্রায় শতাধিক ঘর ছিল। এসব বাড়িতে জুতার, ডাস্টার, পুতুল তৈরির কারাখানাসহ বিভিন্ন কারখানা ও অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করতেন। বাড়িগুলো ভেকু দিয়ে একেবারে গুড়িয়ে দেয়ায় শতশত পরিবার এখন নিঃস্ব।  

বুধবার দুপুরে সরেজমিন প্রতিবেদনে গেলে বাড়ির মালিক ও ভুক্তভোগিরা এই অভিযোগ করেন।

মো. আকবর হোসেন ও মো. হোসেন নামে দুই ভাই জানান, এখানে তাদের একটি দ্বিতল আধা-পাকা বাড়ি ছিল। বাড়িতে ১৪টি ঘর ছিল। সেখানে নিম্ন আয়ের লোকজন ভাড়া থাকতো। বাড়িটি হেলেপড়া ভবন থেকে নিরাপদ দুরুত্বেই ছিল। মঙ্গলবার রাত ৮টার সময় হঠাৎ তারদের বাড়িটি ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। বাড়ির ভেতরে মানুষের আসবাবপত্র ফ্রিজ, টিভি, আলমারি, কাঠের ফার্নিচারসহ প্রয়োজনীয় কাপড়র-চোপড় কিছুই বের করতে পারেনি। এক কথায় মানুষজন শুধু তাদের পরনের কাপড় পরেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রশাসন তাদেরকে না জানিয়েই এবং কোনো সময় না দিয়েই তাদের বাড়ি ভেঙে ফেলছে। এতে তারা কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছে। আমরা সরকারে কাছে এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরন দাবি করছি।

 

 

মো. আহাদ জানান, তাদের এখানে দ্বিতল আধা-পাকা একটি বাড়ি ছিল। সেখানে ২৬টি ঘর ছিল। এই বাড়িতে কয়েকটি জুতার কারখানা ও নিম্ন আয়ের মানুষ ভাড়ায় বসবাস করতো। তাদের বাড়ি ভেঙে ফেলার জন্য কোনো সময়ও দেয়া হয়নি এবং বাড়ি ভাঙার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবানী দেয়া হয়নি। হঠাৎ করেই তাদের বাড়িটি ভেঙে ফেলায় মানুষজন তাদের ঘর থেকে কোন জিনিসপত্র বের করতে পারেনি। বাড়ি ভেঙে ফেলায় আমার প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

আলতাফ হোসেন নামে জুতার কারখানার এক ম্যানেজার জানান, এখানে ১০ থেকে ১২টি জুতার কারখানা ছিল। কারখানাগুলোতে প্রায় ১২ থেকে১৫ লাখ টাকার মালামাল, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল। কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ কারখানাগুলো ভেঙে ফেলায় তারা সেখান থেকে কিছুই বের করতে পারেননি। এতে সব কিছু হারিয়ে তারা এখন পথে বসেছে। 

আধা-পাকা টিনসেড বাড়ির মালিক মো. অপু মিয়া জানান, তার বাড়িতেই একটি জুতার কারখানা ছিল। আমার আয়ের একমাত্র উৎস ছিল এটি। এখানে ৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলে আমরা সব মালামাল বের করতে পারতাম। কিন্তু কোনো সময় না দিয়েই আমার বাড়িটি ভেঙে ফেলে সবকিছু ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, হেলেপড়া ভবনটি যেখানে ২৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময়ের মধ্যে তাদের সরে যেতে বলা হলে তারা দ্রুত অন্যত্র সরে যেতে পারতো। কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে কিছুই বলেনি। 

মনোয়ার বেগম নামে এক পুতুল কারখানার মালিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এখানে তার একটি কারখানা ছিল। সেখানে ৫টি সেলাই মেশিন ও পুতুল তৈরির মালামাল ছিল। সব মিলিয়ে সেখানে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। একমাত্র তাদের আয়ের উৎস ছিল এটি। কিন্তু মুহুর্থের মধ্যে তার কারখানা ভেকুদিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তার দুই ছেলে মেশিন ও মালপত্রগুলো বের করার কন্য একটু সময় চাইলে তাকে উল্টো হুমকি দেয়া হয়।

 

 

এ ব্যাপারে ৫৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিরাপত্তার জন্য হেলে পড়া ভবনের আশেপাশের বাড়ির গুলোর মানুষজনকে দ্রুত অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে। ঘিঞ্চি জায়গায় হেলেপড়া ভবনটিকে ভেঙে ফেলার জন্য ভেকু ও প্রয়োজনীয় গাড়ি ভেতরে প্রবেশের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কিছু বাড়িঘর ভাঙা পড়েছে। 

ঘটনাস্থলে দ্বায়িত্বরত কামরাঙ্গীরচর থানার এএসআই মো. রবিউল হোসেন জানান, হেলেপড়া ভবনটিকে ভেঙে ফেলার জন্য ভেতরে প্রয়োজনীয় গাড়ি প্রবেশের জন্য হয়তো কিছু বাড়িঘর ভাঙা পড়েছে। 

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হেলেপড়া ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর