ব্রেকিং:
দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় দেশ সেরা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মিশু জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বিষ প্রয়োগে সর্বশান্ত মৎস্য চাষী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সংবর্ধনা পাঁচ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন মসজিদের দেয়ালে ফাটল, আতঙ্কে মুসল্লিরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার মাদক বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত মাদকসেবীর হুমকিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ শিক্ষার্থীর ফুটপাত দখলমুক্ত করলেন ইউএনও শারীরিক সক্ষম হলেই রক্তদান করবে শিক্ষার্থীরা একই তেলে বার বার রান্না ক্যান্সার ও হৃদরোগের কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ওপর জোর দেয়ার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী নারীর মনে জায়গা পাওয়ার উপায় পানিতে পড়া ফোন যেভাবে দ্রুত সারিয়ে তুলবেন যে কারণে ‘সুদ’ হারাম উদ্বোধন হলো শেখ কামাল ক্লাব কাপ আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন মুখ: কাদের

সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

১০০১

হামলার আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া শত পরিবার

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০১৯  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নোয়াগাঁও ইউপির বুড্ডা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর শেখ সামসু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে নারী ও শিশুরা গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যাচ্ছে। পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। ফলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে।

জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বুড্ডা গ্রামের অলি আহাদ মৃধা মেম্বার ও শামসু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় সামসু মিয়া নিহত হয়। ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর শামসু মিয়ার ছেলে হাসেন মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জনকে আসামী করে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকে নিহত শামসু মিয়ার লোকজন প্রতিনিয়তই অলি আহাদ মৃধা মেম্বারের লোকজনদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার আতঙ্কে অলি আহাদ মেম্বারের লোকজন এলাকা ছাড়লে প্রথম দফায় ১৫ সেপ্টম্বর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর অলি আহাদ গ্রুপের সায়েদুল ইসলাম বাদী হয়ে শামসু মিয়ার লোকজনকে বিবাদী করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে। এখবর জানার পর ৩০ সেপ্টেম্বর ফের হামলা ও লুটপাট চালায় শামসু মিয়ার পক্ষের লোকজন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রাম জুড়ে সুনসান নিরবতা। বেশিরভাগ বাড়িরই ঘর তালাবদ্ধ। যারাও বাড়িতে আছেন দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছেন। বাইরের কোন লোকজন দেখলেই নিজেকে আড়ালের চেষ্টা করছেন তারা। সকলের মাঝেই আতংক বিরাজ করছে। গ্রামের বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। গ্রেফতার এড়াতে গ্রামের পুরুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রামের আঞ্জু মৃধার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাড়ির ৬ টি ঘর লুটপাট করা হয়ছে। দা দিয়ে কুপিয়ে ঘরের আসবাবপত্র, তৈজসপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে গ্রামের নুরু মৃধার বাড়িতে গিয়েও।

সাংবাদিকদের দেখে এগিয়ে আসেন পারভিন বেগম। তিনি জানান, লুটপাটের সময় গোয়াল থেকে তার শেষ সম্বল গরুটিও নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লুটেরারা। গতরাতে তার বসতঘরে আগুন দেয়ারও চেষ্টা করে। নিরাপত্তার কারণে রাতে পাশের বাড়িতে গিয়ে সব নারীরা নির্ঘুম রাত কাটান বলেও তিনি জানান। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়েছেন বলেও জানান তিনি।

শাহবাজপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শাহিনুর আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, লুটপাটের সময় তার পাঠ্য বইও নিয়ে গেছে। এখন সে ভয়ে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠেন শামসু মিয়ার পক্ষের লোকজন। আবু তাহের নামের একজন সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। তিনি হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে তার ভাই এর হত্যার বিচার দাবী করেন।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহদাৎ হোসেন বলেন, ১৪ই সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ডের পর বেশ কয়েকদিন সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এতদিন পুলিশ দিয়ে পাহাড়া দেয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে দাবি করেন।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর