ব্রেকিং:
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিবহন ধর্মঘট,পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা! মাদকসহ দুই ব্যবসায়ী আটক গৃহবধূর মৃত্যুতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক মানব কল্যান সংঘঠনের উদ্যোগে শীতবন্ত্র বিতরণ ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধরা পড়লো প্রতারক দম্পতি! বিদ্যালয়ের মাঠে গণ-কবরের স্মৃতি অনির্বাণ উদ্বোধন ট্রেনের ধাক্কা থেকে অল্পের জন্যে রক্ষা পেল অটোরিকশা তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুলছাত্র আটক ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিবাদ করা যাবে না জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পথচারী ও যাত্রীরা গাঁজার বস্তায় ঘুমিয়ে পড়ল মাদকাসক্ত যুবক! দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন মোটরসাইকেল নিয়ে ফেঁসে গেলেন এসআই সাজেকে চান্দের গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার বেড়েছে ডলারের দাম ফোনের স্টোরেজ বাড়াবেন যেভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য নেদারল্যান্ডের ৩৯ লাখ পাউন্ড অনুদান ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম কাঁচা মরিচ! র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে হাইকোর্টে তলব

বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৮৩১

সীমান্ত হাটে এক জন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত টাকার জিনিস কিনতে পারবে?

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত হাট। এ হাটে রয়েছে ৫০টি দোকান। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ২৫টি ও ভারতীয়দের জন্য ২৫ টি দোকান। প্রথমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ধাক্কা খেলেও নানামুখী উদ্যোগ নেয়ায় হাটটি জমে উঠেছে।

বাংলাদেশ-ভারত’র এক একর ৫০ শতাংশ ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় সীমান্ত হাট। ২০১৫ সালের ৬ জুন কমলাসাগর ও তারাপুরে সীমান্ত হাটটি চালু হয়। প্রতি সপ্তাহে হাটের জন্য দুই হাজার টিকেট বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য এক হাজার ও ভারতীয়দের জন্য এক হাজার টিকেট বরাদ্দ রয়েছে। কসবা ইউএনওে কার্যালয় থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিয়ে অগ্রিম টিকেট কেনা যায়। প্রতি টিকেটের মূল্য ৩০ টাকা। এছাড়া হাটবারে হাটের গেইট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিয়ে টিকেট কেনা যায়। তবে ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকায় বাংলাদেশি ক্রেতাদের অনেকেই কসবা ইউএনও’র কার্যালয় থেকে টিকেট কিনেন।

প্রতি সপ্তাহের রোববার সীমান্ত হাটটি বসে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। হাট চালুর পর থেকে ভারতীয়দের ব্যবসা ভালো হলেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ে। এতে বেশ কিছু দিন হাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানামুখী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কেনাবেচা পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে।

 

 

বর্ডার হাটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত পণ্য সামগ্রী হচ্ছে-শাড়ি, লুঙ্গি, স্থানীয় কুটির শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী, শুঁটকি, ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত পণ্য সামগ্রী হচ্ছে- শাক-সবজি, ফল, বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, ওয়াশিং পাউডার, চকলেট, মসলা জাতীয় দ্রব্য, থ্রি-পিস, শাড়িসহ কুটির শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যাদি, ক্রোকারিজ সামগ্রী।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ইকরাম মিয়া জানান, ব্যবসা আগের চেয়ে ভালো। আগে প্রতি হাটে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হলেও এখন ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজীপাড়ার বাসিন্দা মাজহারুল করিম অভি জানান, হাট দেখতে এসে পছন্দ অনুযায়ী পণ্য-সামগ্রী দেখেন। তাই পরিবারের জন্য পণ্য সামগ্রী কিনেছেন। হাটটি ধীরে ধীরে জমে উঠছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ২৫টি দোকান থাকলেও সবকটি দোকান খোলা হয় না বলে জানান এ ক্রেতা ।

বাজারের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, সীমান্ত হাটে বাংলাদেশের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্য আগের চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি। ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় তেল, সাবান, শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক, শাড়ি, থ্রি-পিস বেশি পছন্দ।

সীমান্ত হাটে আসা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালঘরের কেশব দাস, বিনা দাস জানান, বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে হাটে এসেছেন। পরে সেখান থেকে পছন্দ অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য কিনেছেন।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা ঝুটন সাহা, তুলি সাহা, লিটন সাহা জানান, ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে এ হাটটি নিরাপদ। স্বজনদের দেখার পাশাপাশি কেনাকাটাও করা যায়। 

এ ব্যাপারে কসবা ইউএনও মাসুদুল আলম জানান, আগামী বাজার থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মানুষ হাটে প্রবেশ করতে পারবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এক বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় চার কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য কিনেছে। অপরদিকে ভারতীয়রা ৩৫ লাখ টাকার বাংলাদেশি পণ্য কিনেছে। এ বাণিজ্যিক ঘাটতি দূর করতে অধিক ভারতীয় পণ্য না কিনতে হাটে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ২০০ ডলার (১৬০০০) টাকার সর্বোচ্চ জিনিস কিনতে পারবে। কিন্তু তা বাণিজ্যিকের জন্য নয়। এ বাণিজ্যিক ঘাটতি দূর করতে আরো চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর