ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • শনিবার   ০৬ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

৯৩৫

সীমান্ত হাটে এক জন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত টাকার জিনিস কিনতে পারবে?

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত হাট। এ হাটে রয়েছে ৫০টি দোকান। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ২৫টি ও ভারতীয়দের জন্য ২৫ টি দোকান। প্রথমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ধাক্কা খেলেও নানামুখী উদ্যোগ নেয়ায় হাটটি জমে উঠেছে।

বাংলাদেশ-ভারত’র এক একর ৫০ শতাংশ ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় সীমান্ত হাট। ২০১৫ সালের ৬ জুন কমলাসাগর ও তারাপুরে সীমান্ত হাটটি চালু হয়। প্রতি সপ্তাহে হাটের জন্য দুই হাজার টিকেট বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য এক হাজার ও ভারতীয়দের জন্য এক হাজার টিকেট বরাদ্দ রয়েছে। কসবা ইউএনওে কার্যালয় থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিয়ে অগ্রিম টিকেট কেনা যায়। প্রতি টিকেটের মূল্য ৩০ টাকা। এছাড়া হাটবারে হাটের গেইট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিয়ে টিকেট কেনা যায়। তবে ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকায় বাংলাদেশি ক্রেতাদের অনেকেই কসবা ইউএনও’র কার্যালয় থেকে টিকেট কিনেন।

প্রতি সপ্তাহের রোববার সীমান্ত হাটটি বসে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। হাট চালুর পর থেকে ভারতীয়দের ব্যবসা ভালো হলেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ে। এতে বেশ কিছু দিন হাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানামুখী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কেনাবেচা পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে।

 

 

বর্ডার হাটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত পণ্য সামগ্রী হচ্ছে-শাড়ি, লুঙ্গি, স্থানীয় কুটির শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী, শুঁটকি, ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত পণ্য সামগ্রী হচ্ছে- শাক-সবজি, ফল, বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, ওয়াশিং পাউডার, চকলেট, মসলা জাতীয় দ্রব্য, থ্রি-পিস, শাড়িসহ কুটির শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যাদি, ক্রোকারিজ সামগ্রী।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ইকরাম মিয়া জানান, ব্যবসা আগের চেয়ে ভালো। আগে প্রতি হাটে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হলেও এখন ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজীপাড়ার বাসিন্দা মাজহারুল করিম অভি জানান, হাট দেখতে এসে পছন্দ অনুযায়ী পণ্য-সামগ্রী দেখেন। তাই পরিবারের জন্য পণ্য সামগ্রী কিনেছেন। হাটটি ধীরে ধীরে জমে উঠছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ২৫টি দোকান থাকলেও সবকটি দোকান খোলা হয় না বলে জানান এ ক্রেতা ।

বাজারের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, সীমান্ত হাটে বাংলাদেশের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্য আগের চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি। ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় তেল, সাবান, শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক, শাড়ি, থ্রি-পিস বেশি পছন্দ।

সীমান্ত হাটে আসা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালঘরের কেশব দাস, বিনা দাস জানান, বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে হাটে এসেছেন। পরে সেখান থেকে পছন্দ অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য কিনেছেন।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা ঝুটন সাহা, তুলি সাহা, লিটন সাহা জানান, ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে এ হাটটি নিরাপদ। স্বজনদের দেখার পাশাপাশি কেনাকাটাও করা যায়। 

এ ব্যাপারে কসবা ইউএনও মাসুদুল আলম জানান, আগামী বাজার থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মানুষ হাটে প্রবেশ করতে পারবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এক বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় চার কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য কিনেছে। অপরদিকে ভারতীয়রা ৩৫ লাখ টাকার বাংলাদেশি পণ্য কিনেছে। এ বাণিজ্যিক ঘাটতি দূর করতে অধিক ভারতীয় পণ্য না কিনতে হাটে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ২০০ ডলার (১৬০০০) টাকার সর্বোচ্চ জিনিস কিনতে পারবে। কিন্তু তা বাণিজ্যিকের জন্য নয়। এ বাণিজ্যিক ঘাটতি দূর করতে আরো চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর