ব্রেকিং:
আরো কটা দিন বাঁচার স্বপ্ন দেখছে মাহাবুব ট্রেন দুর্ঘটনায় চালক, সহকারী ও গার্ড দায়ী শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা প্রদান প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ অবশেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আসমার লাশ ফিরে পেল বাবা-মা ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা, অতঃপর... স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিদর্শিকার সেচ্ছাচারিতা প্রতিটি ফার্মেসি ও ক্লিনিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে মরদেহ নিয়ে নিহতের পরিবার ও পুলিশের মধ্যে টানাপোড়া ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ জুয়াড়ির জরিমানা পিকআপের ধাক্কায় অটো যাত্রীর করুণ মৃত্যু মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৬ নারীর এই তিন রোগে সতর্ক হতে হবে এখনই পঞ্চগড় থেকে স্পষ্ট দেখা দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাত্রীকে সোনা কেনার টাকা দেবে সরকার বাংলাদেশি রাজীবের সততায় স্যালুট জানাল সিঙ্গাপুর পুলিশ আজ থেকে শুরু ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট করে লিখতে চিকিৎসকদের নির্দেশ পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র পৌঁছে দেন শিক্ষক! রোহিঙ্গা নির্যাতন: বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সু চি

শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২০৭১

সারেগামাপা’র ফাইনালে নোবেলের সঙ্গে যা ঘটেছিল

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০১৯  

সারেগামাপা'র প্রসঙ্গ এলেই বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন ঢাকার ছেলে মঈনুল আহসান নোবেল। গত সপ্তাহে যখন নোবেলের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি বলেন, ‘এখনো শুটিং-ই হয়নি।’ তবে শুটিং যে ইতোমধ্যেই ধারণ হয়ে গেছে সেটা ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে শোভা পাচ্ছে! তার মানে নোবেল এড়িয়ে যাচ্ছেন! প্রশ্ন থেকেই যায়, নোবেলের সঙ্গে এমন কী হয়েছিল সেদিন? পারফরম্যান্স ও ফলাফল নিয়ে এতো নাটকীয়তা কেন? পুরো ঘটনাটাই পরিষ্কার করে গ্র্যান্ড ফিনালেতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভারতীয় দর্শকের উদ্ধৃতি দিয়ে ঘটনাপ্রবাহ হুবহু তুলে ধরা হলো-

এবারের জি বাংলা সারেগামাপা’র গ্র্যাণ্ড ফিনালের অনুষ্ঠান বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ২৯শে জুন আয়োজন করা হয়েছিল। ভেন্যু ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাটে অবস্থিত বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার। আমন্ত্রিত অতিথিদের হোয়াইট ড্রেস কোড পরিধানের নির্দেশনা দেয়া ছিল, যা অনেকে মানেনি। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩ টায় সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়। ফিনালের সব প্রতিযোগীর বাবা-মা’র ন্যায় বাংলাদেশের নোবেলের বাবা অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অতিথি হিসেবে এসেছিলেন, ছেলের পারফরম্যান্স সামনে থেকে বসে দেখবেন বলে।

তাকে কনভেনশন সেন্টারের সামনে ট্যাক্সিক্যাব থেকে নামতে দেখা যায়। এসময় তার সাথে ছিলেন নোবেলম্যান ব্যান্ডের সদস্যরা এবং কলকাতার তন্ময় প্রামাণিক। ভিড় ঠেলে অতিথিদের আসন গ্রহণ করা এবং শিডিউল মেইন্টেইন করা পুরোটাই ছিল ম্যানেজমেন্ট এর অব্যস্থাপনায় ভরপুর। প্রবেশের সময় কর্তৃপক্ষ বলে দেয় যে রাত ১২ টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা হবে এবং যার যার বাসায় ফিরে রাতের খাবার খেয়ে নেবেন। আর যারা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চাচ্ছিলেন, তাদের খাবার গেটের বাইরে ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়। তা স্তুপ আকারে জমা হতে থাকে এক পাশে।

এরপর সকল আমন্ত্রিত অতিথিরা কনভেনশন হলের ভেতরে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ শেষে বিকেল ৫ টায় সকল ফাইনালিস্টদের ফ্ল্যাশব্যাক মোমেন্ট এক নজরে বড় পর্দায় দেখানো হয়। এরপর ৫টা ৩০মিনিটে ফাইনালের মূল আনুষ্ঠানিকতা মানে প্রথম রাউন্ডের পারফরম্যান্স শুরু হয়। এখানে সকল প্রতিযোগী নিজেদের উপস্থাপন করতে সঙ্গে আরেকজন অতিথি শিল্পীসহ মঞ্চে আসেন। এখানেও জি-বাংলা সারেগামাপা টিমের ছিল পুরোনো স্ট্যান্টবাজি। বরাবরের মতো সবার পারফরম্যান্স শেষে বাংলাদেশের মাঈনুল আহসান নোবেলকে মঞ্চে ডাকা হয়।

এসময় অনুপম রায়ের সঙ্গে আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ গানটি ডুয়েট পরিবেশন করেন নোবেল। তারপরে অতুল প্রসাদ এর ‘আমি বাংলার গান গাই’ এই গানটি নোবেল তার দরাজ কণ্ঠে পরিবেশ করেন। এসময় তার ফ্যানবেজ যার যার আসন থেকে প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে হাত নাড়াতে থাকেন। গানটি শেষ হওয়ার পর বিচারক শান্তনু মৈত্র মঞ্চে এসে নোবেলকে জড়িয়ে ধরেন। অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকা বলিউডের সুখবিন্দর সিং বলেন, ‘আমি তোমার বাংলা গানের ফ্যান হয়ে গেলাম’। তবে ফাইনালের এই আয়োজনে গোল্ডেন গিটার বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু বিচারকরা বলেছিলেন গান বেশি ভালো লাগলে গোল্ডেন গিটার বাটন প্রেস করা হবে। এরপরে বিচারকরা সকলের দেয়া মার্কস খামে ভরে বাক্সে জমা দিচ্ছিলেন। এরমধ্যেই অনেকে কনভেনশন সেন্টার থেকে বাইরে বের হন রাতের খাবার গ্রহণের জন্য। কারণ ফাইনালের দ্বিতীয় রাউন্ডের পারফরম্যান্স এখনো বাকি।

তখন আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি ও বিচারকদের কিছু পারফরম্যান্স বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছিল। হলের বাহিরে যে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল সবাইকে তা নিজের টাকা দিয়ে কিনে খেতে হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য কোনোরকম ব্যবস্থা রাখেনি কর্তৃপক্ষ। এসময় নোবেলের বাবা এবং নোবেলম্যান ব্যান্ডের সদস্যদের খাবারের প্লেট হাতে দীর্ঘ লাইনের সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অন্যান্যদের মতো। হঠাৎ করেই বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় সকলের মধ্যে ঘটে যায় বিপত্তি-ছুটোছুটি। তারপরে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ফাইনালের দ্বিতীয় রাউন্ডের পারফরম্যান্স শুরু হয়। এখানেও নোবেলকে পারফর্ম করার জন্য মঞ্চে ডাকা হয় সবার শেষে।

সকলকে উদ্দেশ্যে করে নোবেল কিছু কথা বলেন। এরপর তার ফ্যানবেজকে দেয়া কথা রাখতে জেমসের এর গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি মঞ্চে পরিবেশন করেন। এসময় অনেকেই তার গান শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এরমধ্যেই চারিদিকে যেন করতালির রোল পড়ে যায়। রাত তখন প্রায় ০২টা ৪০ মিনিট। কিছুক্ষণের মধ্যেই সকল ফাইনালিস্টদের মঞ্চে ডাকা হয়। শোয়ের উপস্থাপক যীশু সেনগুপ্ত ফাইনালিস্ট দের নিয়ে কিছু একটা জানতে চান। তখন যার যার ফ্যানবেজ প্ল্যাকার্ড উপরে তুলে ধরেন। এবার ফলাফল ঘোষণার পালা। মঞ্চ থেকে বলা এবারের সারেগামাপা এর ২য় রানার্সআপ হচ্ছেন প্রীতম। আর শুধু প্রীতমই নয় যৌথভাবে আরো একজন আর সে হচ্ছেন নোবেল। এসময় চারিদিক একদম নিস্তব্ধ। নোবেলের যখন রেজাল্ট দিল, উপস্থিত একটা মানুষও হাততালি দেয়নি! বাংলাদেশ এর মানুষ ছিল হাতেগোনা কয়েকজন, বাকিরা সবাই ছিল কলকাতার। তারাও সবাই হয়তো ভেবে নিয়েছিল নোবেল কিছু একটা ভালো পজিশন ডিজার্ভ করবে। কী পরিমাণ আঘাত পেলে একটা মঞ্চ এভাবে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে আপনারা কেউ কি বলতে পারেন। যেখানে নোবেল নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারেনি। সে নিজেও কেপেঁ উঠেছিল নিজের রেজাল্ট শুনে। কারণ এইরকম রেজাল্ট তো সে ডিজার্ভ করে না। গৌরব ও স্নিগ্ধজিৎ হয়েছে যেখানে ১ম রানার্সআপ এবং অঙ্কিতাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে!

যাহোক অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে দোষ দিতে কথা কি আর বলবো। সবকিছু সিলেক্ট তো করেছিল বিচারকেরা। ফাইনালে বিচারক মোনালি ঠাকুর আলাদাভাবে এবং অঙ্কিতার সঙ্গেও পারফরম্যান্স করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের বাহিরে কনসার্ট থাকায় ফ্লাইট ধরতে তিনি মঞ্চ থেকে চলে যান। একজন প্রফেশনাল জাজের অনুপস্থিতিতে রেজাল্ট কিভাবে দেয় তা ভেবে অনেকেই ভেবে পাইনা তৎক্ষণাৎ! এই সারেগামাপা এতোটা আগ্রহ নিয়ে দেখা এটাই হয়তো শেষ, দুর্নীতির ছায়ায় আচ্ছন্ন সারেগামাপার এই আসল রূপ দেখার পরে মন থেকে আর কেউ ভালোবাসবে না এইটুকু নিশ্চিত। ফাইনাল প্রচারিত না হওয়া পর্যন্ত ফাইনালিস্ট দের কোনো ধরনের বিবৃতি দেয়া বারণ করে দিয়েছে জি-বাংলা কর্তৃপক্ষ। অঙ্কিতা ও স্নিগ্ধজিতের এই ফলাফলে বলিউডের সিঙ্গার সুখবিন্দর সিং এর যথেষ্ট প্রভাব ছিল যা সকলের চোখে পড়েছে। আর নোবেল এর রেজাল্টের সময় পুরো স্টেজ ফাকাঁ হয়ে গিয়েছিল। তখন চারিদিকে ছিল নিস্তব্ধতা। অথচ আগামী ২৮শে জুলাই সন্ধ্যায় জি বাংলায় গ্র্যান্ড ফিনালের অনুষ্ঠান প্রচারিত হওয়ার সময় সবাই ঠিকই দেখবেন নোবেল নোবেল বলে চিৎকারে ভেসে যাচ্ছে মঞ্চ এবং নোবেলও প্রাইজ নিতে আসছে! সত্যিই এসব কাজ দারুণভাবে এডিটিং করা যায়!

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর