ব্রেকিং:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর বিদায় জুয়া খেলা অবস্থায় চারজন আটক বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোনসহ চোরাকারবারী গ্রেফতার ৭ লক্ষাধিক টাকা আবর্তক ঋণ বিতরণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে প্রতারণা, অতঃপর.. শেখ হাসিনা তিতাস সেতু’র অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বাঁশের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে পাকা ব্রিজ! মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার ধ্বংস বড়শিতে ধরা পড়ল ১০০ কেজির মাছ! আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা বিষ্ণপুর ফেব্রুয়ারিতেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ নোট-গাইড পড়ানো ও বাড়তি ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ পণ্য কিনে প্রতারিত হলে অভিযোগ করুন এভাবে সালাত ও জাকাতে অলসতাকারীর পরিণতি ১ম পর্ব নামের মিল থাকায় জেল খাটছেন চা দোকানি বাংলাদেশের সফরের আগে লাহোরে ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার অধ্যক্ষের নগ্ন ভিডিও ফাঁস, ফেসবুকে তোলপাড়

বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৩৬৬

সরকারের তৃতীয় মেয়াদ: উন্নয়নের আরেকটি বছর

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বার বিজয়ের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। আজ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হলো। এই এক বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা বয়ে এনেছে সরকার।

বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকারের বড় সাফল্য। এরমধ্যে ক্যাসিনো-জুয়াকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। এ অভিযানে বড়-বড় রাঘব-বোয়ালরাও ছাড় পায়নি। এতে সরকারের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে অনেক।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ২১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ।

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। ফলে দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের নাম সারাবিশ্বেই আলোচনায় ছিল। অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেয়া এবং চলমান প্রকল্পের অনেকগুলোর অগ্রগতিও ভালো ছিল।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি: ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়। বর্তমানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) বেড়ে হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে, প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ। গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। আগের বছর প্রবাসী আয় ছিল ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার। দেশের মোট রেমিট্যান্স আয় ১৬.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

এদিকে রফতানি আয় ৪৬.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩৮৮.৯ কোটি মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা রির্জাভ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
এছাড়া দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২০ শতাংশের নিচে।

নতুন কর্মসংস্থানও হয়েছে । ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে মোট বাজেট বরাদ্দ ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা, বর্তমানে প্রায় ৮৭ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে ভাতা পাচ্ছেন।

শিক্ষা: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ২৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা। আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। গত অক্টোবরে সাড়ে নয় বছর পর দুই হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার।

এছাড়া, গত এক বছরে সারাদেশে ২৬ হাজার ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৮ হাজার ৯৪৭ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, ২০০ ল্যাংগুয়েজ কাম আইসিটি ল্যাব, এক হাজার সায়েন্স ল্যাব, দুই হাজার ১২০ স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, ৪৬ হোস্টেল নির্মাণ এবং আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জামাদি ও আইসিটি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এ অর্থবছরে নতুন পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বছরের শুরুতে নতুন বই বিতরণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ফলে এখন শতভাগ শিশু স্কুলে যায়। বর্তমানে মোট ৯৩টি উপজেলার ৩ লাখ ৫ হাজার ৪০৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। 

যুব উন্নয়ন: ২০১৯-২০ বাজেটে যুবকদের ব্যবসা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসৃজন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আইটি খাত: আইটি খাতে রফতানি এখন এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮৫০০টি ই-পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন ৪০ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা সোয়া ৬ কোটি । প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এজেন্ট সংখ্যা ৮ লাখেরও বেশি। 

বর্তমানে দেশে মোবাইল সিম গ্রাহক ১৬ কোটি ৫ লাখের উপরে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ১০ কোটি । সমাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী অধীনে ১৪৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি: বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি। ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ি ও মহেষখালিতে কয়লাভিত্তিক প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার গত বছর নানা উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক কমিউনিটি ক্লিনিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং ৪৫ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দারিদ্র মানুষকে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৪টি শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। 

যোগাযোগ: নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কি মি দীর্ঘ পদ্মাসেতুর বাস্তবায়নের ৮৪.৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর ভৌত অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। টোল প্লাজাসহ উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন। 

উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের কাজ চলছে। ৮ হাজার ৪৪৬টি কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্যানেল নিমার্ণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যা ২০২০ সালে নাগাদ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। 

বিমান: গত অর্থবছরে বিমান নিট মুনাফা অর্জন করেছে ২৭২ কোটি টাকা। নতুন নতুন বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। 

কৃষি ও খাদ্য:  বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ কোটি ৪৪ লাখ মেট্রিক টন। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। মিঠা পানির মাছ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম স্থানে রয়েছে। 

নারী ক্ষমতায়ন: স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ হাজার ২৭৬ জন নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন ।

১৮০টি সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার নারী উদ্যোক্তা আছে। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে আরপিও অনুযায়ী ৩০ শতাংশ নারীকে রাজনীতিতে সুযোগ দেয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা: ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার অধীনে খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, গবেষণা কার্যক্রম, গ্রিন হাউস গ্যাস নি:সরণ হ্রাস এবং  সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য ৪৪টি প্রকল্পের আওতায় ১৪৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর