ব্রেকিং:
খালেদার মুক্তিতে তারেকের অনীহা, হতভম্ব বিএনপি নেতৃবৃন্দ! নিউজ টুয়েন্টিফোরের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন সরাইলে অবৈধ গাইড বই’র বিরুদ্ধে অভিযান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ মিয়া আর নেই সদর সার্কেলে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের যোগদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন গ্রেফতার গাছের চারার মধ্যে গাঁজা পাচারেও শেষ রক্ষা হলো না নারীর টিফিন বক্সে হাজার টাকার মাদক! নদী দূষণ ও দখল প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীর ওপর হামলা সরাইলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লাখো মানুষ! ভুল আসামির সাজা খাটার বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ বই পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষায় বদল আনছে সরকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের তিন কোটি অবৈধ স্মার্টফোন! ইসলামে ধর্ষণ-হত্যা প্রতিরোধে করণীয় অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে মহাতারকা হয়েছেন যারা ‘অন্তঃস্বত্ত্বা’ বুবলীকে ডলার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছেন শাকিব! দেশপ্রেমীরা দুর্নীতি করে না: পরশ করোনায় মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ালো তালাক দেয়া স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে হত্যা
  • বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৭ ১৪২৬

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

১০৭

সমকামী এই ব্যক্তির মাধ্যমেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তি হয়!

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৯  

পুরো পৃথিবী তখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে এক মহাযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। সময়টা ১৯৩৯ সাল। এক পক্ষে জার্মান নাৎসিবাদী হিটলার ও তার মিত্রদের নিয়ে গঠিত অক্ষশক্তি। অন্যপক্ষে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্রশক্তি। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী জার্মান নৌ ও বিমানবাহিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণে ইউরোপ তখন ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠছে। সেইসঙ্গে মিত্রশক্তির মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল জার্মানদের এনিগমা কোড। 

জার্মান সেনারা আসন্ন আক্রমণের খবর একে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ এক এনিগমা মেশিন ব্যবহার করত। এই মেশিনে তৈরি এনিগমা কোড ছিল খুবই দুর্বোধ্য। একমাত্র এনিগমা ডিকোডার ছাড়া সেই কোড কোনো সাধারণ মানুষ কিংবা মেশিনের পক্ষে ডিকোড করা সম্ভব ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোড সম্পর্কে যাদের একেবারেই ধারণা নেই, তাদেরকে প্রাথমিক ধারণা দেয়া যেতে পারে সিজার কোড নামে এক বিশেষ ধরণের কোডের কথা বলে। সম্রাট জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম এই কোড ব্যবহার করেছিলেন। 

 

এনিগমা মেশিন

এনিগমা মেশিন

মিত্রদের কাছে তিনি পাখির মাধ্যমে যে বার্তা পাঠাতেন, তা যেন শত্রুরা পাখিটিকে হত্যা করে না পড়তে পারে সে কারণে তিনি বিশেষ এক উপায়ে বার্তা লিখতেন। যেমন আমি যদি বলি ‘BUUBDL’ আপনারা এর তর্জমা উদ্ধার করতে পারবেন না। এখন যদি বলি শব্দটির অন্তর্গত প্রত্যেকটি বর্ণের ঠিক আগের বর্ণটি নিয়ে শব্দ গঠন করুন তাহলে কি দাঁড়াবে? B এর আগের বর্ণ হলো A, U এর আগের বর্ণ T, D এর আগের বর্ণ C, L এর আগের বর্ণ K। তাহলে ‘BUUBDL’ মানে দাঁড়ায় ‘ATTACK’! 

যাই হোক, এবার ফিরে আসি মূল কাহিনীতে। জার্মানদের এনিগমা ওয়েভ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল ঠিকই কিন্তু সেগুলো ধরার পর ডিকোড করা কিছুতেই ব্রিটিশ বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। উপরন্তু জার্মানরা প্রতিদিন তাদের এনিগমা সিস্টেমে পরিবর্তন আনত। যার ফলে একদিন প্রতিপক্ষের কেউ কোনো কোড ডিকোড করে ফেললেও পরবর্তী দিন ডিকোডিংয়ের ওই পদ্ধতি আর কাজে লাগত না। 

 

অ্যালান টিউরিং

অ্যালান টিউরিং

এই এক এনিগমার কারণেই জার্মানদের পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। চোখের সামনে দিয়ে শত্রুর বার্তা চলে যাচ্ছে কিন্তু তা পড়া যাচ্ছে না, চরম হতাশাজনক এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ল ব্রিটিশরা। সেইসঙ্গে জার্মানরা কখন কোথায় আক্রমণ করবে, এনিগমা পড়তে না পারায় তাও আগে থেকে জানা যাচ্ছিল না। এক এনিগমার খেল দেখিয়েই জার্মানরা প্রতিপক্ষকে ঘোল খাইয়ে ছাড়ছিল! 

এমন সময় ব্রিটেনের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলেন অ্যালান টিউরিং নামের এক গণিতবিদ। টিউরিং ছিলেন ব্রিটেনের এক সম্ভ্রান্ত মিলিটারি পরিবারের সন্তান। শৈশব থেকেই তার গণিত ও ক্রিপ্টোগ্রাফির প্রতি ঝোঁক ছিল। স্কুলের বন্ধু ক্রিস্টোফার ছিল টিউরিংয়ের কোড ব্রেকিংয়ের নেশার সঙ্গী। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ক্রিস্টোফারের সঙ্গে টিউরিংয়ের প্রণয়ের সমকামিতার সম্পর্ক ছিল ছোটবেলা থেকেই। তবে কয়েক বছর পরেই টিউরিংকে একা করে দিয়ে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ক্রিস্টোফার। 

 

দ্য ইমিটেশন গেম সিনেমার দৃশ্য

দ্য ইমিটেশন গেম সিনেমার দৃশ্য

বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে টিউরিং ভর্তি হন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে। পরিসংখ্যানের সুবিখ্যাত সমস্যা ‘সেন্ট্রাল লিমিট থিওরেম’ যখন টিউরিং প্রমাণ করে দেখান, তখন তার বয়স মাত্র ২২! এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে তাদের অধিভুক্ত কিংস কলেজের ফেলো হিসেবে নিয়োগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরি ব্রিটিশ সেনাবাহিনী একটি কোড ডিকোডার গ্রুপ তৈরি করে। 

সমগ্র ব্রিটেনের সেরা সেরা গণিতজ্ঞ, ভাষাবিজ্ঞানী, দাবাড়ুদের নিয়ে লন্ডনের ব্লেচলি পার্কে স্থাপন করা হয় সরকারি কোড ও সাইফার স্কুল। এই স্কুলের উদ্দেশ্য ছিল একটাই, জার্মানদের এনিগমা ভাঙার উপায় বের করা। তবে কিছুদিন কাজ করার পরই হতাশা জেঁকে বসে তাদের মনে। কারণ ব্রিটেনের সবচেয়ে মেধাবী একেকজন ব্যক্তির চোখের জল নাকের জল এক করে ফেলছিল জার্মানদের এনিগমা! 

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এনিগমার ব্যবহার করছে সৈন্যরা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এনিগমার ব্যবহার করছে সৈন্যরা

সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে তারা বাড়ি ফিরতেন। পরদিন সকালে এসে দেখতেন, জার্মানরা এনিগমার সেটিং পরিবর্তন করে ফেলেছে! আগের সব কাজ তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিতে হতো তখন। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো মানুষই তো হতাশ হয়ে পড়বেন। কিন্তু হতাশ হলেন না অ্যালান টিউরিং। তার হার না মানা মনোবলই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছিল মিত্রশক্তিকে। কীভাবে? তা জানতে হলে অপেক্ষায় থাকতে হবে আগামী পর্বের। আর এর মধ্যে দেখে নিতে পারেন অ্যালান টিউরিংয়ের জীবনের ওপর নির্মিত বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ অভিনীত ‘দ্য ইমিটেশন গেম’ সিনেমাটি। 

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর