ব্রেকিং:
টিউশনির টাকায় গুজবের বিরুদ্ধে ৩১ দিন হাঁটলেন সাইফুল কন্ডিশনিং ক্যাম্পেই যাত্রা শুরু নতুন দুই কোচের প্রথম সমকামী ক্রিকেটার হিসেবে মা হচ্ছেন স্যাটারওয়েট তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি কাদেরের স্মার্ট কার্ড অনলাইনে সংশোধন করবেন যেভাবে একজনের কিডনি ও লিভারে বাঁচলো তিনজনের প্রাণ পিতলের পুতুলকে সোনার মূর্তি বলে বিক্রি করে, চার জীনের বাদশা আটক বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে মোদির আমন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আজ ভয়াল ২১ আগস্ট পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে: জয়শঙ্কর কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে বাঁচালেন পুলিশ কর্মকর্তা রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের আগ্রহ প্রকাশ ভারতের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী কমছে মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে এসপির মন্তব্য জানতে চান হাইকোর্ট

বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৫৫১

সবজি বেচেই চলে সংসার

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯  

সাত সকালেই হাকডাক। কে নিবেন গো স-ব-জি। এরপর ঘরের দরজা খুললেই দেখা মেলে বয়োবৃদ্ধ আরশেদ চাচা না হলে গফুর চাচার। এভাবে চলছে প্রায় ৪০ বছরেরও অধিক সময়। তাই তারা শহরের ছোট বড় সবারই সবজি চাচা।
উভই বয়স ৮০’র কোঠা পার করেছেন। আর দুজনই সবজির বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন শহরের মানুষের যোগান দিচ্ছেন সতেজ পেঁপে, কুমড়া, লাউ, কলার মোচা ও থোড়, ডাটা, সজনে, কচু শাক, লাল শাকসহ গ্রামীণ বিভিন্ন শাক সবজি।

আরশেদ আলীর বাড়ি উপজেলার নিয়ামতপুর ইউপির নিয়ামতপুর গ্রামে। আব্দুল গফুরের বাড়ি জামাল ইউপির তৈলকুপ গ্রামে।

বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করার কারণ জানতে চাইলে আরশেদ আলী জানান, এ বয়সে কেউ শখ করে পরিশ্রম করে না। কপালে ছিল তাই করছি।

তিনি আরো জানান, ছেলেরা বিয়ে করে সবাই আলাদা সংসার করছেন। তাই সংসার চালাতে অল্প কিছু চাষযোগ্য জমিতে ফসল ফলান তিনি। আর সারা বছর বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন শাক-সবজি কিনে শহরে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এতে কোনো মতে চলে যায় তার সংসার । এভাবে চলছে প্রায় ৪৫ বছর।

আরশেদ আলী দাবি করে বলেন, পরিশ্রমের কারনেই এখনো সুস্থ আছি। গ্রাামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি।

আব্দুল গফুর বলেন, বসত ভিটের পাশে অল্প কিছু জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক চাষ করি। আর বাকি সময় মাঠে, নদীর কিনার থেকে বা বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বাজারের দুর্লভ কিছু শাক কিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিক্রি করি। চাষযোগ্য কোনো জমি না থাকায় ছেলেরা পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে তাদের সংসার সামলায়। আর এ বয়সে কাঁধে বোঝা টেনে আমাকে সামলাতে হয় আমাদের বুড়ো-বুড়ির সংসার।

তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে কালীগঞ্জে ইএনওর বাসায় বিভিন্ন ধরনের শাক বিক্রি করতাম। তিনি আমার কষ্ট দেখে আমাকে বয়ষ্কভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। যা এখন আমার সংসার চালাতে খুব কাজে আসছে। তার এ উপকারের কথা আমি কোনো দিন ভুলব না।

তারা দুজনেই বলেন, যে জিনিস মানুষের শারীরিকভাবে উপকারে আসে সেগুলোই আমরা ৪০-৪২ বছর ধরে বিক্রি করে আসছি। তাছাড়া মানুষ সার ছাড়া উৎপাদিত টাটকা ও বাজারের দুর্লভ শাক-সবজি আমাদের কাছে পায় বলেই শহরের বিভিন্ন মহল্লার অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমাদের কাছ থেকেই নিয়মিত শাক-সবজি নিয়ে থাকেন। যে কারণে শহরে বেশি সময় ঘুরতে হয় না।

আরশেদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এ বয়সে এমন পরিশ্রম করতে আমরা অনেক নিষেধ করেছি। কয়েকবার বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু কাজ বন্ধ করলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে এখন আর তার কাজে বাধা দেই না।

গৃহিণী কল্যাণী রানী বিশ্বাস জানান, ভোর হলেই তারা বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি নিয়ে চলে আসেন মহল্লায়। তাদের আনা টাটকা শাক-সবজি পেতে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকেই।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর