ব্রেকিং:
ট্রেন দুর্ঘটনার সাহসী সেই পাঁচ যুবক সন্তানের মা হলেন সেই প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা পাল্টে গেছে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ের দৃশ্যপট! নিয়মিত হাঁটুন সুস্থ থাকুন! ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে কাতারে দোয়া মাহফিল হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন আমি জীবিত আছি, আমাকে হেল্প করুন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ট্রেন দুর্ঘটনার আসল কারণ ৪০ জনকে তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুর দায়িত্ব নিলেন উপমন্ত্রী ধান কাটার ধুম পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধের পাঁচ উপায় আর্থিক লেনদেন করা যাবে ফেসবুকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন ৪৮ জন নারীর মন জয় করুন এই কৌশলে তাওবার ৬ উপকারিতা সাকিব না থাকায় ভারতীয় সিকিউরিটি গার্ডের আফসোস ফোকফেস্টের পর্দা উঠছে আজ সমুদ্রের জলে ভেসে এলো ১০০০ কেজি কোকেন

শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৬০৬

সবজি বেচেই চলে সংসার

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯  

সাত সকালেই হাকডাক। কে নিবেন গো স-ব-জি। এরপর ঘরের দরজা খুললেই দেখা মেলে বয়োবৃদ্ধ আরশেদ চাচা না হলে গফুর চাচার। এভাবে চলছে প্রায় ৪০ বছরেরও অধিক সময়। তাই তারা শহরের ছোট বড় সবারই সবজি চাচা।
উভই বয়স ৮০’র কোঠা পার করেছেন। আর দুজনই সবজির বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন শহরের মানুষের যোগান দিচ্ছেন সতেজ পেঁপে, কুমড়া, লাউ, কলার মোচা ও থোড়, ডাটা, সজনে, কচু শাক, লাল শাকসহ গ্রামীণ বিভিন্ন শাক সবজি।

আরশেদ আলীর বাড়ি উপজেলার নিয়ামতপুর ইউপির নিয়ামতপুর গ্রামে। আব্দুল গফুরের বাড়ি জামাল ইউপির তৈলকুপ গ্রামে।

বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করার কারণ জানতে চাইলে আরশেদ আলী জানান, এ বয়সে কেউ শখ করে পরিশ্রম করে না। কপালে ছিল তাই করছি।

তিনি আরো জানান, ছেলেরা বিয়ে করে সবাই আলাদা সংসার করছেন। তাই সংসার চালাতে অল্প কিছু চাষযোগ্য জমিতে ফসল ফলান তিনি। আর সারা বছর বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন শাক-সবজি কিনে শহরে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এতে কোনো মতে চলে যায় তার সংসার । এভাবে চলছে প্রায় ৪৫ বছর।

আরশেদ আলী দাবি করে বলেন, পরিশ্রমের কারনেই এখনো সুস্থ আছি। গ্রাামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি।

আব্দুল গফুর বলেন, বসত ভিটের পাশে অল্প কিছু জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক চাষ করি। আর বাকি সময় মাঠে, নদীর কিনার থেকে বা বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বাজারের দুর্লভ কিছু শাক কিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিক্রি করি। চাষযোগ্য কোনো জমি না থাকায় ছেলেরা পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে তাদের সংসার সামলায়। আর এ বয়সে কাঁধে বোঝা টেনে আমাকে সামলাতে হয় আমাদের বুড়ো-বুড়ির সংসার।

তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে কালীগঞ্জে ইএনওর বাসায় বিভিন্ন ধরনের শাক বিক্রি করতাম। তিনি আমার কষ্ট দেখে আমাকে বয়ষ্কভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। যা এখন আমার সংসার চালাতে খুব কাজে আসছে। তার এ উপকারের কথা আমি কোনো দিন ভুলব না।

তারা দুজনেই বলেন, যে জিনিস মানুষের শারীরিকভাবে উপকারে আসে সেগুলোই আমরা ৪০-৪২ বছর ধরে বিক্রি করে আসছি। তাছাড়া মানুষ সার ছাড়া উৎপাদিত টাটকা ও বাজারের দুর্লভ শাক-সবজি আমাদের কাছে পায় বলেই শহরের বিভিন্ন মহল্লার অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমাদের কাছ থেকেই নিয়মিত শাক-সবজি নিয়ে থাকেন। যে কারণে শহরে বেশি সময় ঘুরতে হয় না।

আরশেদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এ বয়সে এমন পরিশ্রম করতে আমরা অনেক নিষেধ করেছি। কয়েকবার বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু কাজ বন্ধ করলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে এখন আর তার কাজে বাধা দেই না।

গৃহিণী কল্যাণী রানী বিশ্বাস জানান, ভোর হলেই তারা বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি নিয়ে চলে আসেন মহল্লায়। তাদের আনা টাটকা শাক-সবজি পেতে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকেই।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর