ব্রেকিং:
কসবায় ভিজিডি কার্ডের চাউল বিতরণ মাদক বিরোধী অভিযানে আটক তিন কারা থাকছে আখাউড়ায় ছাত্রলীগের কমিটিতে সুশাসনের জন্য দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায় সরাইলে অপপ্রচার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ বিএনপি নেতা দুদুর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা বিএনপি’র পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মুসলিম যাত্রী থাকায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক নোটের আদলে বিল ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হুঁশিয়ারি তিন স্পা সেন্টার থেকে ১৬ নারী ও ৩ পুরুষ আটক দেশে বেড়েই চলেছে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের ঘাটতি নেই ক্যাসিনো চালাতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ নেবে সৌদি আরব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ মাদক ব্যবসায়ীদের চেনার উপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১১ জন খেলাঘরের জাতীয় পরিষদে

সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৬২৮

শুরু হলো ডাকসুর ভোট

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯  

দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েে উৎসবের আমেজে শুরু হয়েছে ডাকসুর নেতৃত্ব নির্বাচিত করার ভোট। সকাল ৮টা থেকে ভোট দেয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হলে হলে বুথের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন। মোট ১৮টি আবাসিক হলের ৫১১টি বুথে বিকেল ২টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় ব্যালটবাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নেয়া হয় ভোটকেন্দ্রে।

ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলে মোট প্রার্থী ৭৩৮ জন। কেন্দ্রে ২৫ পদ ও হল সংসদে ১৩ পদসহ মোট ৩৮ টি পদে ভোট দিতে পারবে প্রত্যক ভোটার। সে হিসেবে ৩৮ টা ভোট দিতে একজন ভোটার ৪ মিনিট সময় পাবেন।

এবারের নির্বাচনে ১০টি ছাত্র সংগঠন প্যানেল দিয়েছেন। তবে সব হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আছে কেবল ছাত্রলীগের। এবার ডাকসুতে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। যার ৩৬ শতাংশ নারী। আর হল সংসদ মিলিয়ে, মোট প্রার্থী ৭৩৮ জন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ২৫টি পদে লড়ছেন ২২৯ জন। বাকিরা ১৮টি হলের ১৩টি করে পদের জন্য লড়ছেন। সবমিলিয়ে নারী প্রার্থী আছেন ১৫ শতাংশের মতো। এর আগে মধ্যরাতেই বুথগুলোতে ব্যালট বক্স বসানো হয়েছে। 

সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপস্থাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িতরা ছাড়া বহিরাগত কোনো ব্যক্তি কিংবা যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদেরকেও পরিচয়পত্র প্রদর্শনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে।  

এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ, নীলক্ষেত, পলাশী, জগন্নাথ হল ক্রসিং, রুমনা ভবন ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ও শহীদুল্লাহ হল ক্রসিংয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।  এসব স্পটে নিরাপত্তার দায়িত্বে র‌্যাব ও পুলিশ একযোগে কাজ করবে। এছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ, বিএনসিসি ও রেঞ্জার।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রধারী ও ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অনুমোদিত পাসধারীরা ক্যাম্পাস এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যা সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বহিরাগতদের ক্যাম্পাস এলাকা ছাড়তে মাইকিং করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার আগে থেকেই টিএসসি, গ্রন্থাগার ও জনসমাগম জায়গাগুলোতে মাইকিং শুরু হয়। আবাসিক হলগুলোতে থাকা বহিরাগতদেরও হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

ক্যাম্পাস এলাকার প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভেতরে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি খুব একটা চোঁখে না পড়লেও প্রবেশপথগুলোতে পরিচয়পত্র ও পাস দেখানোর শর্তে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি প্রবেশপথ (নীলক্ষেত, শাহবাগ ও হাইকোর্ট) বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকবে। তিন প্রবেশপথ দিয়ে শুধু ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজ নিজ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন। প্রবেশ পথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে সম্পন্ন করতে আড়াই হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেই পুলিশ আইন প্রয়োগ করবে। এ জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকি সবানোর পাশাপাশি ১৮টি হলে ১১৩টি নজরদারি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭২ সালের ২০ মে। এক বছরের মাথায় ১৯৭৩ সালে আগের ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জোট বাঁধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ওই দুই ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেলের নাম দেয়া হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বী আ স ম আবদুর রব সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগের অবস্থানও ছিল বেশ শক্ত। ৩ সেপ্টেম্বর দিনভর নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ হয়। সন্ধ্যায় ভোট গণনা শুরু হলে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে গোলাগুলি, হলগুলোতে ছিনতাই করা হয় ব্যালট বাক্স। এ ঘটনায় পরস্পরকে দোষারোপ করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও রব পন্থী জাসদ ছাত্রলীগ। স্থগিত হয় ভোট গণনা। বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালের পর আরো পাঁচবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানা ২৮ বছর পর কাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অষ্টম ডাকসু নির্বাচন। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এরশাদের আমলে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর