ব্রেকিং:
কসবায় ভিজিডি কার্ডের চাউল বিতরণ মাদক বিরোধী অভিযানে আটক তিন কারা থাকছে আখাউড়ায় ছাত্রলীগের কমিটিতে সুশাসনের জন্য দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায় সরাইলে অপপ্রচার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ বিএনপি নেতা দুদুর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা বিএনপি’র পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মুসলিম যাত্রী থাকায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক নোটের আদলে বিল ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হুঁশিয়ারি তিন স্পা সেন্টার থেকে ১৬ নারী ও ৩ পুরুষ আটক দেশে বেড়েই চলেছে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের ঘাটতি নেই ক্যাসিনো চালাতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ নেবে সৌদি আরব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ মাদক ব্যবসায়ীদের চেনার উপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১১ জন খেলাঘরের জাতীয় পরিষদে

সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

২৩০

শিশু আইনের অসঙ্গতি সংশোধন চান হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০১৯  

শিশু আইনে সাংঘর্ষিক বিধান, অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হাইকোর্ট। এ জন্য শিশু আইন সংশোধন অথবা শিশু আইন ২০১৩-এর ৯৭ ধারার আলোকে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি দূর করতে পারে সরকার।

আদালত বলেছেন, বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বর্তমানে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে এক ধরনের বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

শিশু আইনের একটি মামলায় জামিন চেয়ে করা আপিলের পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

গত ১ আগস্ট পুরান ঢাকার মো. ওসমান হত্যা মামলার আসামি শিশু মো. হৃদয়ের জামিন আবেদন বিষয়ক এক মামলায় হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেন। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আসামি শিশু হৃদয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম মশিউর রহমান। শিশু মো. হৃদয়কে জামিন দিয়েছেন আদালত।

অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট আদালত/ট্রাইব্যুনালসহ সমাজকল্যাণ সচিব, আইন সচিব ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রায়ে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং এ সংক্রান্ত নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করবেন। রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ শিশু আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (ভিকটিম এবং সাক্ষী) বা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।

তদন্ত চলাকালীন সময়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে মামলার ধার্য তারিখে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা হতে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।

তদন্ত চলার সময়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর রিমান্ড, জামিন, বয়স নির্ধারণসহ অন্তর্বর্তী যেকোনো বিষয় শিশু আদালত নিষ্পত্তি করবে। এ সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট নথিসহ ওই দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে পাঠাবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিশু আদালত ওই বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করবে।

অপরাধ আমলে গ্রহণের পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের অধীনে কোনো আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ‘শিশু আদালত’ হিসেবে আদেশ প্রদান করবে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ বিচারক শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে কার্য পরিচালনা এবং শিশু আদালতের নাম ও সিল ব্যবহার করবেন।

আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো এই যে, আইন মন্দ বা কঠোর হলেও তা অনুসরণ করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সংশোধন বা বাতিল না হয়। নালিশি মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক বিশেষ আইনসমূহের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের বিধান এবং অত্র রায়ের পর্যবেক্ষণের আলোকে অভিযোগ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণের পরে অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কাগজপত্র (নথি) সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাবে। অতঃপর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন এবং অপরাধ আমলে গ্রহণ করলে পরে কাগজপত্র বিচারের জন্য শিশু আদালতে পাঠাবেন।

শিশু আইনের প্রাধান্যতার কারণে বিশেষ আইনগুলোর অধীনে জিআর মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের জন্য পৃথক পুলিশ প্রতিবেদন দেয়ার বিধান থাকায় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নেবেন।

রায়ে আদালত বলেন, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইনের ১৫ক নম্বর ধারা, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৭ নম্বর ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ২৭ নম্বর ধারা এবং ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৮ নম্বর ধারাসহ বিভিন্ন বিশেষ আইনের সঙ্গে শুধু অসঙ্গতিপূর্ণই নয়, সাংঘর্ষিকও বটে।

আদালত বলেন, শিশু আইনের প্রাধান্যতার কারণে যদি যুক্তি দেয়া হয় যে, থানার দায়ের করা মামলা, অর্থাৎ জিআর মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন তাহলে সেটা হবে শিশু আইন প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, একই আইনের অধীনে শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন ম্যাজিস্ট্রেট, আর প্রাপ্ত বয়স্কদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রমত, আদালত, যা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক একটি প্রস্তাবনা।

আদালত রায়ে আরো বলেন, এখানে উল্লেখ করা আরো প্রাসঙ্গিক হবে যে, শিশু আইনের অধীনে কোনো আদেশ প্রদানের সময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম, সিল ও পদবী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা লক্ষ্য করছি যে, আগের বিচারগুলোয় বিভিন্ন আদেশ দেয়ার সময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম, সিল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংক্ষুব্ধ পক্ষের উচ্চতর আদালতে আসার ক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর