ব্রেকিং:
কসবায় ভিজিডি কার্ডের চাউল বিতরণ মাদক বিরোধী অভিযানে আটক তিন কারা থাকছে আখাউড়ায় ছাত্রলীগের কমিটিতে সুশাসনের জন্য দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায় সরাইলে অপপ্রচার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ বিএনপি নেতা দুদুর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা বিএনপি’র পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মুসলিম যাত্রী থাকায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক নোটের আদলে বিল ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হুঁশিয়ারি তিন স্পা সেন্টার থেকে ১৬ নারী ও ৩ পুরুষ আটক দেশে বেড়েই চলেছে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের ঘাটতি নেই ক্যাসিনো চালাতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ নেবে সৌদি আরব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ মাদক ব্যবসায়ীদের চেনার উপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১১ জন খেলাঘরের জাতীয় পরিষদে

সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৩৮

‘রোহিঙ্গা স্থানান্তর সমর্থন করো, নইলে দেশ ছাড়ো’

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

সম্প্রতি জার্মানি ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তরে বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, তাতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সমর্থন দিক, নয়তো তারা দেশ ছেড়ে চলে যাক।

নিম্নে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলোঃ

ডয়চে ভেলে: অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীই মিয়ানমারে ফিরতে চায় না। সে কারণেই কি আপনারা তাদের ভাসান চরে সরাতে চাইছেন?

একে আব্দুল মোমেন: আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে পাঠানোর এখনই সময়। তবে ঐ দ্বীপে সব রোহিঙ্গাকে পাঠানো সম্ভব নয়। আমরা মাত্র এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠাতে পারি।

আমরা তাদের জোর করে পাঠাতে চাই না। আমরা আশা করেছিলাম, তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যাবে।

দ্বীপে শরণার্থীরা অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। কিন্তু কক্সবাজারে কাজ করা ত্রাণ সংস্থাগুলো ভাসান চরে যেতে চায় না। কক্সবাজারে তারা পাঁচ তারকা হোটেলে থাকতে পারেন, তাই তারা অন্য জায়গায় যেতে চান না।

আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার মধ্যে যারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে রাজনীতিকরণ করতে চাইছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

তার মানে কি এই যে, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আপনাদের পরিকল্পনা সমর্থন না করলেও আপনারা রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে পাঠাবেন?

হ্যাঁ, সম্ভবত। আমরা অনেক লিফলেট, সিডি ও ভিডিও জব্দ করেছি, যেগুলোতে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি না মানলে মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কিছু দাবি মানতে রাজি হয়েছে, যেমন নিরাপত্তা দেয়া ও চলাফেরার অনুমতি। তবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি দেয়া, রোহিঙ্গাদের এথনিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের ঘরবাড়িতে ফেরার অনুমতি দেয়ার মতো দাবি মানা হয়নি।

জাতিসংঘের সমর্থন ছাড়া কি বাংলাদেশ এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসান চরে সরাতে পারবে?

আমরা তা করতে পারবো। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে পৌঁছে যায় সাত লাখে। আর আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘ কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে?

জাতিসংঘকে এই পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, নয়তো তারা রোহিঙ্গাদের তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। এই মানুষদের অনেকেই ইতিমধ্যে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

ঐ এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয়দের প্রায় দ্বিগুন। স্থানীয়রা নিয়মিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ করছে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। সে কারণে আমরা তাদের ভাসান চরে যেতে বাধ্য করতে পারি।

বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র নয়। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। এরপরও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কিছু করেছি। এখন অন্যদের এগিয়ে আসতে হবে কারণ এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়। এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। আমরা যদি তাদের নিরাপত্তা না দিতাম, তাহলে তারা গণহত্যার শিকার হতে পারতো।

এটা হুমকির মতো শোনাচ্ছে। আমরা তাদের যে কোনো জায়গায় পাঠাতে রাজি, যে কারও কাছে, যারা তাদের নিতে চায়। তাদের অনেক বছর রাখার সামর্থ্য আমাদের নেই।

যদি তা না ঘটে, তাহলে কি রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে যেতে হবে?

এটা একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা। আমরা তাদের চিরদিন রাখতে পারি না।

জাতিসংঘের বিরোধিতা করার সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে?

জাতিসংঘ আমাদের বেশি সাহায্য করছে না। তারা মিয়ানমারের রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না। জাতিসংঘের এই সংস্থাগুলো কেন মিয়ানমারে কাজ করছে না? তাদের মিয়ানমারে যাওয়া উচিত, বিশেষ করে রাখাইনে। সেখানে এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যা রোহিঙ্গারা ফিরতে সহায়তা করতে পারে। জাতিসংঘের কাছ থেকে আমরা যে কাজ প্রত্যাশা করি, তা জাতিসংঘ করছে না।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যদি আপনাদের পরিকল্পনা সমর্থন না করে তাহলে কি আপনারা তাদের তাড়িয়ে দেবেন?

যদি প্রয়োজন হয়, আমরা তা-ই করবো।

দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। সেটি কি মানুষের বসবাসের উপযোগী?

এটা নিরাপদ। আমরা সেখানে সুন্দর বাড়ি ও বাঁধ নির্মাণ করেছি। আমরা যদি বাংলাদেশিদের সেখানে যেতে বলি তাহলে তারা নিশ্চয় যাবে।

রোহিঙ্গারা যদি ভাসান চরে যায় তাহলে কি তারা ইচ্ছেমতো চলাফেরা করতে পারবে, নাকি তাদের ঐ দ্বীপেই থাকতে হবে?

আমার মনে হয় তারা ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করবে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর