ব্রেকিং:
দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় দেশ সেরা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মিশু জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বিষ প্রয়োগে সর্বশান্ত মৎস্য চাষী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সংবর্ধনা পাঁচ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন মসজিদের দেয়ালে ফাটল, আতঙ্কে মুসল্লিরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার মাদক বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত মাদকসেবীর হুমকিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ শিক্ষার্থীর ফুটপাত দখলমুক্ত করলেন ইউএনও শারীরিক সক্ষম হলেই রক্তদান করবে শিক্ষার্থীরা একই তেলে বার বার রান্না ক্যান্সার ও হৃদরোগের কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ওপর জোর দেয়ার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী নারীর মনে জায়গা পাওয়ার উপায় পানিতে পড়া ফোন যেভাবে দ্রুত সারিয়ে তুলবেন যে কারণে ‘সুদ’ হারাম উদ্বোধন হলো শেখ কামাল ক্লাব কাপ আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন মুখ: কাদের

সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

৪২৯

রেলপথে থামছে না নারী অপরাধীদের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  

পূর্বাঞ্চল রেলপথে যাত্রীবাহি বিভিন্ন ট্রেনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অর্ধশত নারী অপরাধী। তাদেরকে সহযোগীতা করছে সংঘবদ্ধ এই দলের পুরুষ সদস্যরা। ট্রেনে উঠার মুহূর্তে বা বগির ভেতরে ঠাসাঠাসি ভিড়ে তারা প্রতিনিয়ত যাত্রীদের পকেট কাটছেন। 

নারী যাত্রীদের গলা, কান থেকে স্বর্নালংকার ছিনিয়ে নেওয়া ছাড়াও ব্যাগ কেটে বের করে নিচ্ছেন টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। পুরুষ যাত্রীদেরও পকেট কাটছেন যাত্রীবেশী নারী-পুরুষ মিলিত এই অপরাধ চক্রটি। 

গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা এমন ৪ নারী অপরাধীকে আটক করেন। এরা হলেন, নাসিরনগরের দৌলতপুর গ্রামের মৃত ধন মিয়ার স্ত্রী সোফিয়া বেগম (৫০), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩০), সোহাগ মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম(৩০) ও এলাচ মিয়ার স্ত্রী জহুরা বেগম(২৭)। ওইদিন বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এই ৪ জনকে। 

গত ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশন থেকে ঢাকাগামী আন্ত:নগর মহানগর গৌধুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠার পরই ফারিয়া বিনতে আলম শাওলি নামে এক যাত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে ৬ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায় চক্রটি। শাওলীর স্বামী শাহনিয়াজ আলমও দেখেন তার পকেট কেটে স্মার্ট ফোন নিয়ে গেছে চক্রটি। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোজাম্মেল হক জানান, এই ঘটনার সূত্রেই আটক করা হয় ট্রেনে ও প্লাটফর্মে অপরাধ করে বেড়ানো ৪ নারীকে। এরা রেলপথের সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আগের অনেক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান ফাঁড়ির ইনচার্জ । 

বিভিন্ন সময় তারা রেলওয়ে পুলিশের হাতে আটকও হয়। নাজমা গর্ভবর্তী থাকা অবস্থাতে একবার ধরা পড়েছিলেন। এবার ২১ মাস বয়সী সন্তান আরমানকে নিয়ে ধরা পড়লো সে। শাওলীর পিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মনজুরুল আলম বাদী হয়ে এঘটনায় পরদিন আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ জানায়, এরআগেও সোফিয়া ধরা পড়েছিলো। তখন বয়স্ক মহিলা এই অজুহাত দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। এ ঘটনার ২ দিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশন থেকে কুমিল্লাগামী এক যাত্রীর পকেট কেটে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায় অপরাধীচক্রের সদস্যরা। ২১ আগষ্ট বিকেলে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার পথে মনিরুজ্জামান পলাশ নামক যাত্রীর পকেট থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। 

নিয়মিত এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়তকারী যাত্রীরা। ট্রেনে উঠার সময়, কামড়ায় ভিড়ের সুযোগে নারী-পুরুষ যাত্রীদের পকেট, ব্যাগ কেটে বা অন্যকৌশলে নগদ টাকা, মোবাইল ও স্বর্নালংকার ছিনিয়ে কেটে পড়ছে অপরাধী চক্রের সদস্যরা। 

সূত্র জানায়, নারী অপরাধীরা টার্গেটমতো মালামাল হাতানোর পরই সেটি পুরুষ সদস্যের হাতে তুলে দেয়। পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমানাতেই এধরনের ঘটনা ঘটছে বেশী। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশন থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেনে আসনের বিপরীতে কয়েকগুন বেশী যাত্রী ঢাকা পথে যাতায়ত করে। ভিড়ের এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশন থেকে ঢাকামুখী ট্রেনে উঠতে যে প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে হয় সেটিতেও নেই পর্যাপ্ত কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২/১ টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হলেও সেগুলো অচল দীর্ঘদিন ধরে। প্লাটফরমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। ফলে আধারেই রাতের ট্রেনে উঠতে হয় যাত্রীদের। 

আখাউড়া রেলওয়ে থানার সেফাতুর রহমান নামে একজন কর্মকর্তা জানান, এধরনের অপরাধী কতো সংখ্যক তার কোন তথ্য নেই। যাত্রীরা মালামাল চুরি হওয়ার পর লিখিত কোন অভিযোগ করেন না। সন্দেহবশত ধরলেও সে কারণে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।  

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর