ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২৩৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইবলিশ চত্বরের অজানা রহস্য

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২০  

পৃথিবীতে কত স্থানেরই তো কত আজব নাম শুনেছেন। কিন্তু ‘ইবলিশ চত্বর’ নামে কোনো স্থানের নাম শুনেছেন কি কখনো? ভাবছেন, এরকম নাম হতে পারে নাকি কোনো স্থানের? শুনতে অদ্ভূত মনে হলেও এ চত্বরটির দেখা মিলবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছেই আড্ডার প্রিয় জায়গা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকেই সোজা উত্তরে চোখে পড়বে একটি আম বাগান। ওপাশেই বিশাল মাঠ। মাঠের দক্ষিণে শানবাঁধানো পুকুর। পশ্চিমে আমগাছের সারির ওপাশে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন। উত্তরে মেহগনি গাছের সারির পাশেই ছাত্রীদের মুন্নজান হল। মাঠের উত্তরে শেখ রাসেল মডেল স্কুল। আর পূর্ব দিকে মমতাজউদ্দীন একাডেমিক ভবন। 

সুবিশাল এই মাঠ আর পুকুর পাড়কেই বলা হয় ইবলিশ চত্বর। পুকুর পাড় ঘেষে সুউচ্চ গাছগুলো মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর। চত্বরটির আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে দুচারটি চায়ের দোকান। বিকেল হলেই বেশকিছু ফুড কার্ট আর ভ্রাম্যমাণ দোকানের দেখা মিলে। শীতে বসে পিঠার দোকান। এসব দোকান যেনো আড্ডার রসদ জোগায়।

 

 

জায়গাটির নাম ইবলিশ চত্বর কেনো তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই চত্বরে ‘ইবলিশ’ নামে একটি নাটকের প্রদর্শনী হয়েছিলো। আর সেখান থেকে এর নাম হয় ইবলিশ চত্বর। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে ফোকলোর বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চত্বরের নাম রাখা হয় ফোকলোর চত্বর। ২০০৩ সালে ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীরা এর সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেয়। কিন্তু খাতা-কলমে ফোকলোর চত্বর হলেও সবাই ইবলিশ চত্বর হিসেবেই চেনে এ চত্বরটিকে।

সকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত এখানে আড্ডা চলে বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে। এছাড়াও প্রেমিক যুগলের সময় কাটানোর অন্যতম স্থান এই ইবলিশ চত্ত্বর। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই নন, বহিরাগত ছেলেমেয়েরাও এখানে দল বেঁধে আড্ডা জমান। তাছাড়া পহেলা বৈশাখ আর নানা গুরুত্বপূর্ণ দিবসে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

কথা হয় আড্ডরত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তারা জানান, ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জায়গাটির নাম ইবলিশ চত্বর শুনে এসেছেন। এখন আর নামটি অদ্ভুত মনে হয় না। বরং আড্ডার জন্য পছন্দের জায়গা এটি। বিকেল বেলা এখানে বসে আড্ডা দিলে অনেক ভালো লাগা কাজ করে। বিশাল খোলা মাঠ আর পুকুর পাড়, সব মিলিয়ে আড্ডার জন্য আদর্শ স্থান এ চত্বর।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মাশুক পারভেজ জানান, ইবলিশ চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে অনেক ভালো লাগে। বিকেল বেলার বাতাস ক্লান্ত শরীরে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। ছোট ছোট গ্রুপে সব বন্ধুরা আড্ডা দেয় যা দেখতেও ভালো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যখন চলে যাবো তখন এই ইবলিশ চত্বরের আড্ডা খুব মিস করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে যারা চলে গেছেন তারাও মিস করেন ইবলিশ চত্বরের আড্ডা। এমনই একজন ফারহিন শিমু বলেন, ইবলিশ চত্বর নামটা শুনলে মনের ভেতর কেমন নাড়া দেয়। ইবলিশ চত্বরের পাশেই আছে শেখ রাসেল স্কুল। সেই স্কুলে ছোট বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি, মা বাবার  হাত ধরে স্কুলে আসা যে কাউকেই তার ছোট বেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ইবলিশ চত্বরের আড্ডা ভীষণ মিস করি। বিভিন্ন জায়গায় ঝালমুড়ি আর লেবুচুড় খেতে গেলেই ইবলিশ চত্বরের ঝালমুড়ি আর লেবুচুড়ের কথা মনে পড়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার পুরনো স্মৃতি ভেসে উঠে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর