ব্রেকিং:
নূর চৌধুরীর তথ্য প্রকাশে কানাডার আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আখাউড়ায় শিক্ষকের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সড়কে শিক্ষার্থীরা সরাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশে জুয়া ও মাদকের আসর নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগে পদ পেতে এ কি শর্ত দিলেন আইনমন্ত্রী! সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্রিটেনের প্রধান গির্জায় কোরআন তিলাওয়াতের বিরল ঘটনা স্মার্টফোনের বদলি হিসেবে ‘স্মার্ট গ্লাস’ আনছে ফেসবুক এডিআর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক আওয়ামী লীগের নেতারা দুর্নীতি করলে ছাড় নয়: কাদের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতেমা ভাবির পরকীয়া দেখে ফেলায় জীবন দিতে হলো দেবরকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুমকি ইরানের বেশি খাস জমি উদ্ধারকারী ডিসিকে পুরস্কৃত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী বকেয়া পরিশোধে সময় পাচ্ছে রবি-গ্রামীণফোন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ স্বর্ণজয়ী রোমান সানার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আন্তরিক সরকার: প্রধানমন্ত্রী আজ থেকে টানা তিন দিনের ছুটিতে আখাউড়া স্থল বন্দর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থী সম্পৃক্তকরণ বিষয়ক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

২৪

রব হওয়ার স্বীকৃতিমূলক শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যে ময়দানে

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৯  

বিশ্ব মুসলিমের আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হওয়ার এ মিলন-মেলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী? কেনইবা আরাফাতের ময়দানে অনুপস্থিতির কাফফারাও হয় না? এখানে উপস্থিত হওয়াকে হজের অন্যতম রোকনই বা করা হলো কেন?

আরাফাতের ময়দানে মুসলিমদের একত্রিত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ জাবালে রহমতের পাদদেশে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হওয়া হজের অন্যতম বিধান। হাদিসের ভাষায়- ‘আল হাজ্জু আরাফাহ’ অর্থাৎ হজ হলো আরাফাহ।

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফার ময়দানে একত্রিত হওয়া হজের অন্যতম রোকন। তাই ৯ জিলহজ জাবালে রহমত থেকে শুরু করে মসজিদে নামিরাসহ আরাফার ময়দানের চিহ্নিত সীমানার মধ্যে যে কোনো সুবিধামত স্থানে অবস্থান গ্রহণ করা।

যে কারণে আরাফায় উপস্থিতিই হজ:
ওকুফে আরাফা বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রধান কারণ হলো, আল্লাহর মেহমানদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, সৃষ্টির সূচনাতে এ পবিত্র উপত্যকায় সবার আগে ‘আহদে আলাস্তু’ তথা রব হওয়ার স্বীকৃতিমূলক শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আল্লাহ তায়ালা সেদিন আদমের পিঠ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত যত বনি আদম আসবে, তাদের পিপীলিকার অবয়বে সৃষ্টি করে তাদের জিজ্ঞাসা করেন- ‘আলাসতু বিরাব্বিকুম অর্থাৎ আমি কি তোমাদের প্রভু নই?’

জওয়াবে সেদিন দুনিয়ার সব মানুষ আল্লাহকে প্রভু বলে স্বকৃতি দিয়েছিলেন বলেছিলেন ‘হ্যাঁ’। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে সে ঘটনা এভাবে উল্লেখ করেছেন,

وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُواْ بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُواْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ
অর্থ: ‘আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার না কেয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।’

أَوْ تَقُولُواْ إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِن قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِّن بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ
অর্থ: ‘অথবা বলতে শুরু কর যে, অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের বাপ-দাদারা উদ্ভাবন করেছিল আমাদের পূর্বেই। আর আমরা হলাম তাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান-সন্ততি। তাহলে কি সে কর্মের জন্য আমাদেরকে ধ্বংস করবেন, যা পথভ্রষ্টরা করেছে?’

وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
অর্থ: ‘বস্তুত: এভাবে আমি বিষয়সমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আরাফ : আয়াত ১৭২-১৭৪)।

প্রতি বছর ৯ জিলহজ হজের দিন বিশ্ব মুসলিম সম্মিলন ‘ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে’-উপস্থিতি সব মানুষকে সেই তাওহিদের স্বীকৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ কারণেই মানুষের ইয়াওমে আরাফা তথা ৯ জিলহজকে হজের অন্যতম রোকন সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এ দিন মানুষের সৃষ্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও স্বীকৃতির স্মরণ হলেই মানুষ আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি, তাওবা-ইসতেগফারে, তাসবিহ-তাহলিল ও তাকবিরে নিয়োজিত হয়।

বিশেষ করে, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে সে ইতিহাস স্মরণ করা বা স্মৃতিচারণ করা জরুরি যে, ‘এ ময়দানেই একদিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের থেকে তাকে প্রভু হিসেবে মেনে নেয়ার স্বীকৃতি গ্রহণ করেছিলেন। আর আমরা তাকে প্রভু হিসেবে স্বীকার করেছিলাম।

সুতরাং হজে গমনকারীরা ছাড়াও সারাবিশ্বের সব মুসলমানের এ প্রতিজ্ঞা করা উচিত, ‘শয়তানের দাসত্ব থেকে বের হয়ে আমৃত্যু আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করা এবং তার যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে নিষ্পাপ জীবন-যাপন করা। মানুষের জীবন-মরণ-ইবাদত ও ত্যাগ একমাত্র আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করা।

এ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে পারলে মহান আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা না করে পারেন না। তাই ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে তার তাসবিহ-তাহলিল, তাকবির ও দোয়া-দরূদের মাধ্যমে নিয়োজিত রাখা জরুরি।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস মানুষকে ইয়াওমে আরাফার ইবাদত-ক্ষমাপ্রার্থনা ও আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। হাদিসে এসেছে-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আরাফার দিন আল্লাহ তায়ালা সর্বাধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করে থাকেন এবং তার নিকটবর্তী হন ও ফেরেশতাদের কাছে গৌর্ব করে বলেন, দেখ ওরা কি চায়? (মুসলিম)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তিনি নিম্ন আকাশে নেমে আসেন ও ফেরেশতাদের বলেন, তোমরা সাক্ষী থাক আমি ওদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম।’ (মুসনাদে বাযযার, তাবারানি, তারগিব)।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দোয়া।’

তাই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির কথা স্মরণ করে তার কাছে দোয়া-দরূদ ও ইসতেগফারে নিয়োজিত থাকা জরুরি।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া