ব্রেকিং:
জমি-পেনশন হাতিয়ে বাবাকে ফেলে গেছে সন্তানেরা ফের বৃষ্টিতে ভেসে যাবে বাংলাদেশের স্বপ্ন? ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ বিতর্ক মানুষকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে : শিক্ষামন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-দক্ষতা বিবেচনায় সেনা সদস্যদের পদোন্নতি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের লক্ষ্য উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়া ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইও ট্রেনের নিচে প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসা সহায়ক: এফবিসিসিআই শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না ফিলিস্তিনি শিশুটির মুজিব কোটেই ছয় দফা! মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি’ আজ বিশ্ব বাবা দিবস কেন সুন্দর গন্ধ ভেসে আসে যুবতীর কবর থেকে…কেন? কয়েলের আগুনে ঘর, গরুসহ নগদ টাকা পুড়ে ছাই ! নবীনগরে ‘সেভ আওয়ার জেনারেশন’এর আত্মপ্রকাশ বাজেটে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণে বরাদ্দ বেড়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা পদ্মা সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৯ হাজার কোটি টাকা

রোববার   ১৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ২ ১৪২৬   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

যেভাবে রওশন জামিলকে চিনেছিল পুরো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০১৯  

বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী রওশন জামিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনে তার জন্ম। তবে বর্তমানে তিনি রয়েছেন না ফেরার দেশে। ২০০২ সালে ১৪ মে সবাইকে ছেড়ে পরপারে চলে যান এই অভিনেত্রী। তার মৃত্যুতে নিভে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের একটি উজ্জ্বল প্রদীপ! কারণ, বাংলা সিনেমায় বহু খল অভিনেত্রীর আবির্ভাব হয়েছে। তবে তার মতো খল-অভিনেত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। আদৌ আর আসবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।

রওশন জামিল জন্মেছিলেন ১৯৩১ সালে। এরপর চলচ্চিত্রে এসে তিনি নৃত্য ও আপন মেধায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য স্থানে। বাংলা সিনেমায় মূলত তার আবির্ভাব ঘটে ৫০-এর দশকে। তখন মেয়েরা অভিনয়ই করতো না। ওই সময় সমাজে এই রকম ট্যাবু ছিল। তখন ছেলেরাই মেয়ে সেজে অভিনয় করতো। কিন্তু সেই প্রথা ভাঙেন রওশন জামিল। জগন্নাথ কলেজে থাকাকালীন (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) তিনি শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’-এ অভিনয় করেন।

এই ছবি থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে রওশন জামিলের শুরু। তবে স্বনামধন্য এই অভিনেত্রী পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন প্রথম নৃত্য দিয়ে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সেই ৬০-এর দশকে ‘রক্ত দিয়ে লেখা’ নাটকে অভিনয় করে সবার নজরে আসেন তিনি। এরপর ১৯৬৭ সালে ‘আলীবাবা চল্লিশ চোর’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

রওশন জামিল ১৯৭০ সালে জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’য় অসাধারণ অভিনয়ের পর বেশ পরিচিতি পান। যে চলচ্চিত্রে তৎকালীন রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থার স্বরূপ গল্প ফুটে উঠেছে। এতে তিনি এতটাই বাস্তব ও প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন যে, এরপর থেকে তাকে চিনেছে পুরো বাংলাদেশ। মোদ্দাকথা সিনেমাটি করার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রওশন জামিলকে।

কোমলমতী কিংবা কঠিন সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল। ক্যারিয়ার জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন ‘টাকা আনা পাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘সুজন সখি’, ‘নয়ন মনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘মিস লোলিতা’, ‘দহন’, ‘পেনশন’, ‘প্রফেসর’, ‘রামের সুমতি’, ‘পোকামাকড়ের ঘর বসতি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ‘প্রেমের তাজমহল’সহ আরো বেশ কিছু বিখ্যাত ও জনপ্রিয় ছবিতে।  

রওশন জামিল এতটাই সাবলীল অভিনেত্রী ছিলেন যে, ক্যারিয়ারে তিনি একাধারে জহির রায়হান, ঋত্বিক ঘটক, শেখ নিয়ামত আলী, আমজাদ হোসেনের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করেছেন। সু-অভিনয় দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। শুধু চলচ্চিত্র নয়, নৃত্য, নাটকেও ছড়িয়েছেন নিজের প্রতিভা। বিজ্ঞাপনের মডেল ও হয়েছিলেন। রক্সি পেইন্টের বিজ্ঞাপনে তার ‘ইশ! রঙ দেখে আর বাঁচি না’ ডায়লগটা বেশ বিখ্যাতও হয়। এখনো অনেকের মুখে বাজে এই ডায়লগটি।

এদিকে, রওশন জামিলের ক্যারিয়ারে অর্জনের যেন শেষ নেই। তিনি বর্ণিল ক্যারিয়ারে দু’বার জাতীয় পু্রস্কার অর্জন করেন। এবং ১৯৯৫ সালে নৃত্যকলায় দেশের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া বাচসাস পুরস্কারও অর্জন করেন এই অভিনেত্রী। মূলত অভিনয়ে তিনি এতটাই পারদর্শী ছিলেন যে, নিজের মেধায় সব ধরণের পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হন। চলচ্চিত্র জগতে তার মত একজন অভিনেত্রীর আবির্ভাব কী পুনরায় হবে, এই নিয়েও প্রশ্ন অনেকের।  

রোকনপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে রওশন জামিলের জন্ম। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় লক্ষ্মীবাজার সেন্ট ফ্রান্সিস মিশনারি স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি ইডেন কলেজে পড়াশোনা করেছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা পাসের পর ওয়ারী শিল্পকলা ভবনে নাচের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যকলার শিক্ষক গওহর জামিলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকে শুরু হয় প্রেম।

এরপর গওহর ধর্ম বদলে মুসলিম হবার পর ১৯৫২ সালে তাকেই বিয়ে করেন রওশন জামিল। চলচ্চিত্রঅঙ্গনের সুখী দম্পতির উদাহরণ ছিলেন তারা। তাদের ছিল দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। এই দম্পতি মিলে ১৯৫৯ সালে রাজধানীর স্বামীবাগে প্রতিষ্ঠা করেন নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘জাগো আর্ট সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানটিতে এখন ৫০০’র বেশি শিক্ষার্থী আছেন।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর