ব্রেকিং:
দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় দেশ সেরা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মিশু জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বিষ প্রয়োগে সর্বশান্ত মৎস্য চাষী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সংবর্ধনা পাঁচ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন মসজিদের দেয়ালে ফাটল, আতঙ্কে মুসল্লিরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার মাদক বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত মাদকসেবীর হুমকিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ শিক্ষার্থীর ফুটপাত দখলমুক্ত করলেন ইউএনও শারীরিক সক্ষম হলেই রক্তদান করবে শিক্ষার্থীরা একই তেলে বার বার রান্না ক্যান্সার ও হৃদরোগের কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ওপর জোর দেয়ার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী নারীর মনে জায়গা পাওয়ার উপায় পানিতে পড়া ফোন যেভাবে দ্রুত সারিয়ে তুলবেন যে কারণে ‘সুদ’ হারাম উদ্বোধন হলো শেখ কামাল ক্লাব কাপ আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন মুখ: কাদের

সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

১৮

মা-বাবার খুঁজে ৪২ বছর পর বাংলাদেশে সেলিনা

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৯  

পাঁচ দিন বয়সী শিশু সেলিনাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গিয়েছিলেন বাবা-মা। তার পর চলে গেছে ৪২ বছর। ভাগ্যের জুড়ে বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সেলিনা পাড়ি দেন জার্মানিতে। কিন্তু এখনও বাবা-মাকে ভুলতে পারেনি সেই শিশুটি। বাবা-মায়ের সন্ধান পেতে ছুটে আসেন জন্মস্থান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রামে।

বাবা-মাকে খুঁজে না পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় গ্রামের মেয়েদের জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই জার্মান নারী। জানালেন, বাবা-মায়ের খোঁজে তিনি আবারো নিজ গ্রামে আসবেন।

সেলিনা জানান, দারিদ্র্যের কারণে মাত্র পাঁচ দিন বয়সে তার বাবা-মা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান। গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে একটি এতিমখানায় দেন। এ সময় একজন বিদেশি এনজিওকর্মী শিশুকে লালন-পালনের জন্য নিতে চাইলে গ্রামের লোকজন তার হাতে তুলে দেন। তার পর থেকে সেলিনা জার্মানিতে বসবাস করছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সেলিনা সাংবাদিকদের জানান, তার পালক বাবা জন ম্যাকডোনাল্ড ১৯৭৬ সালের জুন বা জুলাই মাসে সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে দত্তক নেন। ম্যাকডোনাল্ড তখন একটি বেসরকারি শিশু সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতেন। কাজ শেষে তিনি শিশু সেলিনাকে জার্মানি নিয়ে যান এবং পরে একটি স্কুলে ভর্তি করান। সেলিনার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি জানতে পারেন যে, তাকে বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়েছে এবং ম্যাকডোনাল্ড তার পালক বাবা।

তিনি জার্মানিতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং স্টেফান নামে এক জার্মান নাগরিককে বিয়ে করেন। এই দম্পতির অ্যাঞ্জেলা (২২) নামে একটি মেয়ে ও ফিন (১৫) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

সেলিনা জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কাছে এক হাসপাতালের চিকিৎসক মার্ক সেয়ারার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই হাসপাতালে তিনিও চাকরি করেন। একপর্যায়ে তিনি সেয়ারারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ৪ অক্টোবর তিনি প্রথমবারের মতো সেয়ারারকে নিয়ে ঢাকায় আসেন।  

ময়মনসিংহে বসবাসরত জার্মান প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন জানান, সেলিনা ৭ অক্টোবর জামালপুরের গাইতিপাড়া গ্রামে যান। মঙ্গলবার সরিষাবাড়ীতে প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সেলিনার জন্মস্থান গাইতিপাড়া গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সেলিনার ছোটবেলার ছবি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন পরিচয় দিয়েও তার বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেলিনা বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আবেগজড়িত কণ্ঠে তার বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। আবারো তিনি বাবা-মায়ের খোঁজে গাইতিপাড়া আসবেন বলে জানান।

সেলিনা জানান, জন্মস্থানের প্রতি মায়ার কারণে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। এবার আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেলেও আবারো তিনি আসবেন।  

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর