ব্রেকিং:
টিউশনির টাকায় গুজবের বিরুদ্ধে ৩১ দিন হাঁটলেন সাইফুল কন্ডিশনিং ক্যাম্পেই যাত্রা শুরু নতুন দুই কোচের প্রথম সমকামী ক্রিকেটার হিসেবে মা হচ্ছেন স্যাটারওয়েট তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি কাদেরের স্মার্ট কার্ড অনলাইনে সংশোধন করবেন যেভাবে একজনের কিডনি ও লিভারে বাঁচলো তিনজনের প্রাণ পিতলের পুতুলকে সোনার মূর্তি বলে বিক্রি করে, চার জীনের বাদশা আটক বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে মোদির আমন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আজ ভয়াল ২১ আগস্ট পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে: জয়শঙ্কর কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে বাঁচালেন পুলিশ কর্মকর্তা রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের আগ্রহ প্রকাশ ভারতের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী কমছে মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে এসপির মন্তব্য জানতে চান হাইকোর্ট

বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৫৭১

মহামায়া লেক: পাহাড়, লেক ও ঝরনার দারুণ প্যাকেজ

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯  

ছোট-বড় পাহাড়ের মাঝখানে লেক। সেখানে একটি ঝরনাও রয়েছে। এ যেন লেক, পাহাড় ও ঝরনার দারুণ এক প্যাকেজ! বলছিলাম মহামায়া লেকের কথা! চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এই লেক যেন এক মায়াজাল, একবার যিনি আসবেন বারবার আসতে চাইবেন সেখানে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি পুরো এলাকাটি। চমৎকার এই লেকটি ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আমাদের ফেলে আসা তপ্ত দুপুরের শেষভাগে এই লেকটি হয়ে উঠেছিল চোখ এবং মনে প্রশান্তির বাহক।

ভ্যাপসা গরমেও এই লেকের পানি বেশ টলমলে ও শীতল। পুরো লেক জুড়েই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়, পাহাড়ি গুহা এবং ঝরনা। এখানে কায়াকিং করার দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। প্যাডেল নৌকাতেও নিজেদের মতো করে ঘুরতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট, বড় নানা আকৃতির নৌকাতেও ঘুরতে পারবেন লেকে।

জলের কাছাকাছি এসে এই লেকের সৌন্দর্য ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। এই লেকটির নাম ‘মহামায়া’ হওয়ার স্বার্থকতা এখানেই। আমরা প্রচণ্ড মায়ায় সত্যিই হারিয়ে যাচ্ছিলাম। পাহাড়ের পাশঘেঁষে বয়ে চলা নৌকায় বসে পুরো সৌন্দর্যে একেবারে ডুবে যাচ্ছিলাম। সকাল থেকে বহু পথ হেঁটে ট্রেকিং করে আসার ক্লান্তি নিমেষে মিইয়ে দেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এই প্রকৃতির, তা খুব করে টের পেলাম। সবুজে মোড়ানো পাহাড়, অদ্ভুতভাবে আকৃষ্ট করা পাহাড়ি গুহাগুলো, লেকের টলটলে জলে মেশা আকাশের নীল আর সাদায় অদ্ভুত এক ঘোর জাগানো সৌন্দর্যের মিশেল তৈরি হয়েছিল যেন!

 

ঝরনার পথে আমরা

ঝরনার পথে আমরা

স্বচ্ছ জল থৈ থৈ চারদিকে। ফাঁকে ফাঁকে সবুজ পাহাড়ের ভাঁজ। এরমধ্যে নৌকায় আধা ঘণ্টা চলার পর আমাদের নামিয়ে দেয়া হলো একটি পাহাড়ে। জানলাম এখান থেকে হেঁটে একটু সামনে গেলেই ছোট্ট একটি ঝরনা রয়েছে। আমাদের মতো আরো কিছু নৌকা এসে ভিড়লো এই একই স্থানে। একটু হেঁটে যেতেই ছোট্ট ঝিরিপথ, এরপর দূরের ছোট্ট ঝরনাটি। এখন ছোট মনে হলেও প্রচণ্ড বৃষ্টির সময় এর জলের ধারা খুব বেড়ে যায়, মাঝি বললো সে কথা।

এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অসংখ্য নৌকাকে তোয়াক্কা না করে আমাদের নৌকাটি ফেরার পথ ধরলো। নিজেরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলেও সময়ের তাড়াটা ঠিক টের পাচ্ছিল মাঝি ছেলেটি। সে বললো, আরেকবার আসলে কায়াকিং করতে। সেখানকার লোকরাই শিখিয়ে দেয় কিভাবে কায়াকিং করতে হয়। যার কারণে চালাতে তেমন বেগ পেতে হয় না। বিষয়টাতে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে।

নৌকায় ঘোরা শেষে আমরা লেকের পাড়ে বসে বিকেলটিকে হারিয়ে যেতে দেখলাম। একে অন্যের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। লেকের পাড়ের শীতল বাতাসে সন্ধ্যার গন্ধ ছড়াতেই সবাই উঠে পড়লাম। মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ডের হোটেলে ফেরার পথ ধরলাম। অনেকটুকু প্রাকৃতিক প্রশান্তি ভেতরে নিয়ে আমাদের ফেরার পালা দেয়াল ভর্তি শহরে।

 

মহামায়া লেকে কায়াকিং করার ব্যবস্থা রয়েছে

মহামায়া লেকে কায়াকিং করার ব্যবস্থা রয়েছে

যাওয়া ও খাওয়া

ঢাকা-চট্টগ্রামের যেকেনো বাসে করে সরাসরি নামতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইতে। সেখান থেকে সিএনজি চালিতে অটো রিকশা কিংবা হিউম্যান হলারে করে আসতে পারবেন লেকে। অটোরিকশায় ভাড়া পড়বে একশ’ টাকা। এছাড়া লোকাল চলাচলরত হিউম্যান হলারে চড়ে যেতে পারেনে। ভাড়া পড়বে ১০ টাকা। লেকে ঘুরতে এসে দিন শেষে ফিরে গেলেই ভালো। কারণ মিরসরাইতে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও থাকার তেমন ভালো থাকার ব্যবস্থা নেই। থাকতে হবে চট্টগ্রাম অথবা পাশের জেলা শহর ফেনীতে। এ দুই শহরেই রয়েছে থাকার মত ভালো হোটেল।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর