ব্রেকিং:
বিএনপি নেতা দুদুর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা বিএনপি’র পকেট কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মুসলিম যাত্রী থাকায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক নোটের আদলে বিল ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হুঁশিয়ারি তিন স্পা সেন্টার থেকে ১৬ নারী ও ৩ পুরুষ আটক দেশে বেড়েই চলেছে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের ঘাটতি নেই ক্যাসিনো চালাতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ নেবে সৌদি আরব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ মাদক ব্যবসায়ীদের চেনার উপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১১ জন খেলাঘরের জাতীয় পরিষদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অভিযানের নেপথ্যে করা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রাণহানির সম্ভাবনা ১৮ বছর পর জাপার আংশিক কমিটি গঠন আশুগঞ্জে আওয়ামী লীগের কিসের প্রতিবাদ সভা দালালদের খপ্পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল

সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৫১০

ভবন নিরাপদ করতে মালিকদের বাধ্য করা হবে

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯  

রাজধানী ঢাকার যেসকল ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই সেসব ভবন নিরাপদ করতে মালিকদের বাধ্য করা হবে। বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের জন্য এরইমধ্যে রাজউকের ২৪টি টিম কাজ করছে। যারা ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে জড়িত শুধুমাত্র তারাই নয়, এ বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা সহায়তা করছে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবো। একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। 

ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেড়েছে। এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং তার ফলে যেসকল মানুষের মৃত্যু হয়েছে এটা দুর্ভাগ্যজনক। এসব ঘটনায় আমরা সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছি। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা অতি তৎপর হয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনার সৃষ্টি না হয়।

বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের জন্য আমরা রাজউকের পক্ষ থেকে ২৪টি টিম করেছি। পরিদর্শন শেষে তারা প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এসব ঘটনায় কারা সম্পৃক্ত তা উদঘাটনের জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইয়াকুব পাটোয়ারীর নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, স্থাপত্য অধিদফতর, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

আমাদের লক্ষ্য এই ঘটনায় কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা। যারা এখানে শুধুমাত্র ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে জড়িত তারাই নয়, এ বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারা সহায়তা করেছে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করতে চাই। এক্ষেত্রে রাজউকের সে সময়ে কে চেয়ারম্যান ছিলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার কে ছিলেন, ইন্সপেক্টও কে ছিলেন-তাদেরকেও আমরা তদন্তের আওতায় নিয়ে আসছি। যাতে তাদের দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রেও আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

 

 

বাংলাদেশের ইতিহাসের এই প্রথম এ জাতীয় ঘটনা ঘটার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২ এর এ ধারায় মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির অবহেলাজনিত কারণে যদি কারো মৃত্যু হয় সেটা ফৌজদারি অপরাধ। সেই ফৌজদারি অপরাধ যারা করলো তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ্যাঁ কোনদিন হয়নি। আমি প্রথম শুরু করলাম। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে যেখানে আছেন তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চাই। 

অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাহীন ভবন এবং অননুমোদিত অংশের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কি ভাবছে?

ঢাকায় যেসকল ইমারতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই সেসকল ইমারতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সংযোগে মালিকদের বাধ্য করবো। যেসকল বিল্ডিংয়ে ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ অথবা দ্রুত নেমে যাওয়ার সিঁড়ি নেই সেই সিড়ি বা পথ তৈরি করতে বাধ্য করব। যেসকল বিল্ডিংগুলো অননুমোদিতভাবে করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে যেটাকে ভেঙে ফেলা সম্ভব সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে। যেটাকে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওই জায়গায় প্রযুক্তি দিয়ে উপরের অংশকে কিভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপর রাখা যায় সেটা করা হবে। যে বিল্ডিংয়ে গাড়ির গ্যারেজ নেই সেখানে গ্যারেজের ব্যবস্থা করা। এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরনো বিল্ডিংগুলোর ধরণ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

এটা তো একটি জটিল প্রক্রিয়া, কিভাবে সম্পন্ন করবেন? 

আমরা সংশ্লিষ্ট মালিকদের একটা নির্ধারিত সময় দেব। এ সময়ের ভেতরে যদি তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো। আর যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সেক্ষেত্রে সকল খরচ তাদেরকেই বহন করতে হবে। আমার বিশ্বাস তারা সবাই এগিয়ে আসবে।

আমরা নগরবাসীর সহযোগিতা চাচ্ছি। আমরা এবার তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করব। কারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। দেশে কি ঘটছে? ভালো-ভালো ভদ্রলোকরা কি করছে তা সবার জানা দরকার। আমরা যারা ভদ্রবেশী মানুষ তারা কতটা মানুষ আর কতটা অমানুষ সেটাও মানুষের জানা দরকার। কারণ অর্থেও লোভে মানুষরূপী নরপিশাচরা কি কি কাজ করছে এটাও মানুষকে জানতে দিতে হবে। আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তিন মাস হল। কথায় বিশ্বাস করতে চাইনা, আমি কাজে বিশ্বাস করতে চাই।

ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজউকসহ আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী হন, আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী হন বা ডেভলপার হন অথবা মালিক হন যারা কোন না কোনভাবে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে একটি জায়গায় নিয়ে এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। 

রাজউকের ইতিহাসে কোনদিন কোন মেম্বারের (সদস্য) দায়িত্ব মন্ত্রণালয় থেকে বন্টন করা হয়নি। যেদিন থেকে যিনি মেম্বার হয়েছেন সেদিন থেকে শুরু হয়ে অনন্তকাল তিনি সেই জায়গায় ছিলেন। আমার কাছে মনে হয়েছে সকলকে তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা দরকার। আমি মন্ত্রণালয় থেকে রাজউকের মেম্বারদের দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছি। রাজউকের কর্মকর্তাদের ঢেলে সাজাতে শুরু করেছি। গণপূর্ত অধিদফতরের সর্বত্র ঢেলে সাজানো শুরু করেছি। কারণ অন্ধত্ব অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।

আগে একটা প্ল্যান পাস করতে গেলে ১৬টি স্তরে যেতে হতো। আমি ১২টি বাদ দিয়ে মাত্র চারটি স্তরে নিয়ে এসেছি। পহেলা মে থেকে সব অটোমেশন সিস্টেম হবে। কোন ব্যক্তিকে একটি প্ল্যান পাস করার জন্য রাজউকের টেবিলে-টেবিলে যেতে হবে না। বাসায় বসে ল্যাপটপের মাধ্যমে অনলাইনে প্ল্যান সাবমিট করা যাবে। এরপর মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে কিনা অথবা কি কি কারণে প্ল্যান অনুমোদিত হয়নি। রাজউক সরকারি প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই এটি জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। মানুষের ভোগান্তি ও হয়রানি দূর করার জন্য যা যা করার দরকার আমরা সবই করবো। রাজউককে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া