ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৭২

বরিশল গ্রাম যেন এখন ত্রাসের রাজত্ব!

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

বরিশল গ্রাম যেন এখন ত্রাসের রাজত্ব। সেই ত্রাসের নাম মুখে আনতেও যেন ভয় পান গ্রামবাসী। কথায় কথায় মামলার হুমকি আর পুলিশি হয়রানীর কারণে এ ভয়ভীতির বিস্তার হয়েছে। শহরের এক প্রভাবশালী ব্যাক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে নুরু মিয়া নামে এক নেতা এ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সবশেষ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।এমনকি তার রোশানল থেকে বাঁচতে পারেনি শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আবুল মিয়া। চলার শক্তি না থাকলেও অন্যের বাড়িতে গিয়ে হামলা-মারধোরের অভিযোগে মামলার আসামী হয়েছেন। শুধু তাই নয় পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানান, তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত এবং ভাতা সুবিধেভোগী। পায়ে সমস্যার কারণে যেখানে হাঁটতে পারেননা সেখানে অন্যের বাড়িতে গিয়ে কিভাবে মারধোর করলেন সেটাই তার প্রশ্ন। পূর্ব শত্রুতা মেটাতে করা ওই মামলাটিতে আরো অনেক নিরপরাধ লোকজনকে আসামী করার অভিযোগ উঠেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামে লোহার রড দিয়ে অন্তঃসত্বা কাজল বেগমের পেটে আঘাত করে ৪ মাসের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় এই মামলা হয় ১লা নভেম্বর। কাজল বেগমের স্বামী মোঃ সালমান মিয়া বাদী হয়ে করা এই মামলায় কাজলের পিতার বাড়িতে হামলা, ভাঙ্গচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় আসামী করা হয় ১৪ জনকে । ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৭শে অক্টোবর। মামলা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকার লোকজন জানান, ওই দিন তুচ্ছ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এরমধ্যে মামলাটি হয়।

সরজমিনে ওই গ্রামে গেলে স্থানীয় সর্দার মোঃ ইসহাক মিয়া জানান-কাজলের ভাই আলমগীরের ফোনে তাদের বাড়িতে যাই। কিন্তু আমাকে কেউ হামলার কথা বলেনি।

এ বিষয়ে বাসুদেব ইউপির ৬নং সদস্য হাজী রমজান আলী মেম্বার বলেন, রুবেলের চাচাতো বোনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আমরা একটা সালিশে বসেছিলাম। সেখান “পুলিশের সোর্স” বলায় রুবেলের সাথে নুরুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে নুরু ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে রুবেলকে মারধর করে। এর মধ্যে নুরুর চাচা আরব আলী আমার কাছে এসে তাদেরকে মারধর করা হয়েছে বলে নালিশ করে। আমি তদন্ত করতে গিয়ে কোন স্বাক্ষী প্রমাণ পাইনি। এই এলাকায় নুরুর আইন চলে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সাংসদের ঘনিষ্ট এক প্রভাবশালী আত্বীয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে নুরু এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে বলেও জানান এ ইউপি সদস্য।

হারিজ মিয়ার স্ত্রী বলেন-আমার স্বামী ব্ল্যাড ক্যান্সারের রোগী। বাড়ির সামনের দোকানটিই আয়ের উৎস। দোকান বন্ধ থাকায় সন্তানদের নিয়ে বিপাকে আছি। রোশেনা বেগম বলেন, ছেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ায় কেউ কাজে যেতে পারছে না। কুলসুম বেগম জানান, গ্রামের সিএনজি অটোরিকসা চালক রুবেলের ওপর হামলা হয় কয়েক মাস আগে। ওইসময় রুবেলকে উদ্ধার করায় এ মামলায় আমার চার ছেলেকে আসামী করা হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় তাদের অভাব অনটনে দিন কাটছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, পূর্ব বিরোধেই এই মামলার সুত্রপাত। কাজল বেগমের পিতা আরব আলীর সাথে একই গ্রামের হোসেন মিয়ার বিরোধ রয়েছে। এর জেরে হোসেন মিয়া, তার ছেলে রুবেলকে মামলার আসামী করা হয়। গত ২১সেপ্টেম্বর হোসেন মিয়ার ছেলে সিএনজি অটোরিকসা চালক মোঃ রুবেল মিয়াকে বেদম মারধোর করে গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে নূরু মিয়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। তাকে মারধোর করে রাস্তার ফেলে দেয়। আহত রুবেলকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাধা দেয় নূরুর ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। এঘটনায় মামলা দিতে গেলে এজাহারে নূরু আর তার ভাই মানিকের নাম থাকায় পুলিশ মামলা নিতে আপত্তি করে। ২৬ তারিখ মামলা হয়।

রুবেলের মামা মোঃ মোনায়েম বলেন, পুলিশ ৪ দিন পর্যন্ত আমাদের মামলা নেয়নি। এসব বিরোধের জের ধরেই সর্বশেষ মামলাটি হয়। এভাবে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রামের লোকজনকে হয়রানী করার অভিযোগ নূরু মিয়ার বিরুদ্ধে।

তবে নূরু মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর