ব্রেকিং:
পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে রয়েছে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘুষদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী হুজুর সেজে ধর্ষককে ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩ ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের রমণীদের পছন্দ বাংলাদেশি ছেলে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকায় মিয়ানমারের তদন্ত দল ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ টাইগারদের হেড কোচ হলেন রাসেল ডমিঙ্গো ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’ স্মার্টকার্ড পাবে ছয় বছরের শিশুও! হাঁসে হাসি-খুশির সংসার ‘বিশ্ববন্ধু’ উপাধি পেলেন বঙ্গবন্ধু ল্যান্ড ফোনের মাসিক লাইন রেন্ট বাতিল প্রসব বেদনা নিয়েই ছয় কিলোমিটার হাঁটলেন কাশ্মীরি মা সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিচ্ছে মিয়ানমার ‘ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি’ শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কিনবেন ট্যানারি মালিকরা আখাউড়ায় তিতাস ব্রিজে দর্শনার্থীদের ভীড় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছুটি শেষে বাসায় ফিরে যা করবেন

রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৫৬৮

ফিরে দেখা: হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৯  

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের আজকের এই দিনে (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। গাজীপুরের ‘নুহাশ পল্লী’-তে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম। শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।

পিতার সরকারি চাকরির সুবাদে হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সিলেট, জগদ্দল, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বগুড়া, কুমিল্লা ও পিরোজপুরে অবস্থান করেন। সিলেট জেলা শহরের কিশোরীমোহন পাঠশালায় তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। তিনি ১৯৬৫ সালে বগুড়া জেলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ম্যাট্রিক, ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে ১৯৮২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অধ্যাপনা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন।

বাংলা কথাসাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একজন ব্যতিক্রমী লেখক। রচনার ব্যাপ্তি, বিষয়ের বৈচিত্র্য, চরিত্র নির্মাণ, রচনাশৈলী, সংলাপ প্রভৃতি মিলিয়ে তিনি এক অভিনব ধারা সৃষ্টি করেন, যা  একান্তই তাঁর নিজস্ব শৈলী হিসেবে স্বীকৃত।

ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)। গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প। হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়। তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ শ্যামল ছায়া (১৯৭৪), আগুনের পরশমণি (১৯৮৬), অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২), ১৯৭১ (১৯৯৩), জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪), শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩), আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪), আমার আছে জল (১৯৮৫), ফেরা (১৯৮৬), নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭), বাসর (১৯৮৮), সাজঘর (১৯৮৯), ছায়াসঙ্গী (১৯৯০), এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০), বহুব্রীহি (১৯৯০), গৌরীপুর জংশন (১৯৯০), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০), অমানুষ (১৯৯১), চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক (১৯৯১), দুই দুয়ারী (১৯৯১), নৃপতি (১৯৯১), নী (১৯৯২), কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), মন্দ্রসপ্তক (১৯৯৩), কবি (১৯৯৬), মহাপুরুষ (১৯৯৬), আমাদের সাদা বাড়ি (১৯৯৬), মেঘ বলেছে যাব (১৯৯৭), দূরে কোথায় (১৯৯৭), বৃষ্টিবিলাস (২০০০), মৃন্ময়ী (২০০১), বৃষ্টি ও মেঘমালা (২০০১), আজ চিত্রার বিয়ে (২০০৩), এপিটাফ (২০০৪), লীলাবতী (২০০৫), তিন পুরুষ (২০০৫), বাদশাহ নামদার (২০১১), মেঘের ওপর বাড়ি (২০১২) প্রভৃতি।

আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন। হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক প্রথম প্রহর (১৯৮৩,)। তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিনরাত্রি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক। তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)। তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব (২০০৬), আবদার, নন্দিত নরকে, নিরন্তর, সাজঘর (২০০৭), দারুচিনি দ্বীপ প্রভৃতি।

সৃজনশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার [শ্রেষ্ঠ কাহিনী - ১৯৯৩, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র- ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ সংলাপ - ১৯৯৪], একুশে পদক (১৯৯৪), শেলটেক পুরস্কার (২০০৭)। বাংলাদেশের বাইরেও তিনি সম্মাননা পেয়েছেন। জাপান টেলিভিশন NHK তাঁকে নিয়ে পনের মিনিটের একটি প্রামান্যচিত্র প্রচার করে Who is who in Asia শিরোনামে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর