ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৬২৬

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নাসিরনগর রাজবাড়ি

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য হারানো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউপির জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরীর বাড়িটির সংস্কার কাজ চলছে। 

স্থানীয়রা এটিকে রাজবাড়ি হিসেবেই চেনেন। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রায় এক বছর ধরে জমিদার বাড়িটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ করছেন।  

১৮৭০ সালে জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ৪৮০ শতাংশ জমির উপর (প্রায় ৫ একর) তিনতলা বিশিষ্ট এই মনোমুগ্ধকর বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটি নির্মাণের পর জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী তার পরিবার পরিজন নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতেন। পরে বংশ পরস্পরায় গৌর প্রসাদ রায় চৌধুরী, হরেন্দ্র লাল চৌধুরী, হরিপদ রায় চৌধুরীও তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতেন।

 

 

তিনতলা বিশিষ্ট বাড়িটিতে রং মহল, দরবার হল, নাচ ঘর, মন্দিরসহ ৬০টি কক্ষ রয়েছে। বাড়ির ভেতরে রয়েছে খেলার মাঠ ও পুকুর। বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবন লাল ইট, সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি। ভবনের দুপাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করছে জমিদার বংশের ঐতিহ্যের কথা। বাড়িটির একেকটি ভিম দুই থেকে আড়াই ফুট চওড়া। উপরে উঠার জন্য রয়েছে চার দিক থেকে সিঁড়ি। বাড়ির দক্ষিণে পাকা ঘাটলা। ঘাটলা ঘেষে তিতাস নদী। ঘাটলার দিক দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ পথ। অনেক বড় বারান্দা ডিঙ্গিয়ে মূল বাড়ি। বাড়িটিতে গেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়বে কারুকাজ খচিত দেয়াল।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমিদারের উত্তরাধিকারী হরিপদ রায় চৌধুরী বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়িটিতে রেখে যান পুরোহিতদের। বংশ পরস্পরায় পুরোহিতরাই বর্তমানে বাড়িতে বসবাস করছেন।

১৯৪৭ সালে জমিদারের উত্তরাধিকারী হরিপদ রায় চৌধুরী বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যাওয়ার পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বাড়িটি ধ্বসের মুখে পড়ে। বাড়িটির বিভিন্ন স্থানের প্লাস্টার খসে পরে ও লোহার পাটাতনগুলো ক্ষয় হতে থাকে। ভবনের  মূল্যবান দরজা জানালা চুরি হয়ে যায়।

 

 

এমতাবস্থায় স্থানীয় এমপি ও প্রয়াত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাড়িটির ঐতিহাসিক নিদর্শন বিবেচনা করে ২০১৬ সালে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রতিদিন দেশ ও বিদেশের অনেক লোক আসে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে তিতাস নদীর তীরে নির্মিত পুরনো জমিদার বাড়িটিকে একনজর দেখতে। বিশেষ করে বর্ষার  মৌসুমে পিকনিক পার্টির আগমনে বাড়িটি থাকে উৎসব মুখর। প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ঘেটুপুত্র কমলা ও মধুমালতীসহ অসংখ্য ছবির শুটিং এখানেই হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে বাড়ির পুরোহিত সন্তোষ চক্রবর্তী জানান, বংশানুক্রমে ৭০ বছর ধরে তারা জরাজীর্ণ এই জমিদার বাড়িতে বসবাস করছেন। বর্তমানে বাড়িটি সরকারে তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  প্রায় ১ বছর ধরে বাড়িটির সংস্কার কাজ চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটির সামনের অংশের কাজ করছে। শ্রমিকদের প্রধান অজিত সরকার জানান, প্রায় এক বছর ধরে রাজবাড়ির সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ করছি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটিকে পর্যটন ভিত্তিক করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। 

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পাইকপাড়ার রাতুল, অর্ণব ও রাকেশ জানান, তারা রাজবাড়ির অনেক গল্প শোনে বন্ধুদেরকে নিয়ে হোন্ডা নিয়ে ঘুরতে আসছি। আসলে গল্পের সঙ্গে বাস্তবের তেমন মিল নেই। ভেতরের পরিবেশ তেমন ভালো না। সংস্কার হলে যদি কিছুটা উন্নত হয়।

এ ব্যাপারে হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আাঁখি জানান, শুনেছি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটির সংস্কার কাজ করছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা বাড়িটির সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও নাজমা আশরাফী বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বাড়িটিকে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে অন্তর্ভুক্ত করে সংরক্ষণ এবং সংস্কারের কাজ করছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর