ব্রেকিং:
শীতার্তদের পাশে সংবাদপত্র কর্মীরা স্বাস্থ্য সেবা হচ্ছে মানবতার প্রধান উৎস মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়তে ‘আলোর সিঁড়ি’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনার দাবিতে বিক্ষোভ মাদকাসক্ত স্বামীকে পুলিশে দিলেন স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন আগুন শেখ হাসিনা সড়কে ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিদর্শন বিশ্ববিখ্যাত ইনটেলের চেয়ারম্যান হলেন বাংলাদেশি ওমর ইশরাক পবিত্র জুমাবারের সুন্নতগুলো জেনে নিন ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস, সৌদিতে ভারতীয় আক্রান্ত পাকিস্তানকে হারাতে আজ মাঠে নামবে টাইগাররা রোহিঙ্গা গণহত্যা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চার আদেশ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ মাদরাসায় এক কেজি মুড়ির বিল ১৪ হাজার ৮৮০ টাকা! সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী আজিজুল হকের মায়ের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের শোক সরকারি নির্মাণাধীন বাসগৃহ পরিদর্শন করেন ইউএনও মৎস্য ব্যবসায়ীদের বাজার বর্জন বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন আকস্মিক কলেজ পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী

শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৫০৭

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নাসিরনগর রাজবাড়ি

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য হারানো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউপির জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরীর বাড়িটির সংস্কার কাজ চলছে। 

স্থানীয়রা এটিকে রাজবাড়ি হিসেবেই চেনেন। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রায় এক বছর ধরে জমিদার বাড়িটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ করছেন।  

১৮৭০ সালে জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ৪৮০ শতাংশ জমির উপর (প্রায় ৫ একর) তিনতলা বিশিষ্ট এই মনোমুগ্ধকর বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটি নির্মাণের পর জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী তার পরিবার পরিজন নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতেন। পরে বংশ পরস্পরায় গৌর প্রসাদ রায় চৌধুরী, হরেন্দ্র লাল চৌধুরী, হরিপদ রায় চৌধুরীও তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতেন।

 

 

তিনতলা বিশিষ্ট বাড়িটিতে রং মহল, দরবার হল, নাচ ঘর, মন্দিরসহ ৬০টি কক্ষ রয়েছে। বাড়ির ভেতরে রয়েছে খেলার মাঠ ও পুকুর। বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবন লাল ইট, সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি। ভবনের দুপাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করছে জমিদার বংশের ঐতিহ্যের কথা। বাড়িটির একেকটি ভিম দুই থেকে আড়াই ফুট চওড়া। উপরে উঠার জন্য রয়েছে চার দিক থেকে সিঁড়ি। বাড়ির দক্ষিণে পাকা ঘাটলা। ঘাটলা ঘেষে তিতাস নদী। ঘাটলার দিক দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ পথ। অনেক বড় বারান্দা ডিঙ্গিয়ে মূল বাড়ি। বাড়িটিতে গেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়বে কারুকাজ খচিত দেয়াল।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমিদারের উত্তরাধিকারী হরিপদ রায় চৌধুরী বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়িটিতে রেখে যান পুরোহিতদের। বংশ পরস্পরায় পুরোহিতরাই বর্তমানে বাড়িতে বসবাস করছেন।

১৯৪৭ সালে জমিদারের উত্তরাধিকারী হরিপদ রায় চৌধুরী বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যাওয়ার পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বাড়িটি ধ্বসের মুখে পড়ে। বাড়িটির বিভিন্ন স্থানের প্লাস্টার খসে পরে ও লোহার পাটাতনগুলো ক্ষয় হতে থাকে। ভবনের  মূল্যবান দরজা জানালা চুরি হয়ে যায়।

 

 

এমতাবস্থায় স্থানীয় এমপি ও প্রয়াত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাড়িটির ঐতিহাসিক নিদর্শন বিবেচনা করে ২০১৬ সালে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রতিদিন দেশ ও বিদেশের অনেক লোক আসে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে তিতাস নদীর তীরে নির্মিত পুরনো জমিদার বাড়িটিকে একনজর দেখতে। বিশেষ করে বর্ষার  মৌসুমে পিকনিক পার্টির আগমনে বাড়িটি থাকে উৎসব মুখর। প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ঘেটুপুত্র কমলা ও মধুমালতীসহ অসংখ্য ছবির শুটিং এখানেই হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে বাড়ির পুরোহিত সন্তোষ চক্রবর্তী জানান, বংশানুক্রমে ৭০ বছর ধরে তারা জরাজীর্ণ এই জমিদার বাড়িতে বসবাস করছেন। বর্তমানে বাড়িটি সরকারে তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  প্রায় ১ বছর ধরে বাড়িটির সংস্কার কাজ চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটির সামনের অংশের কাজ করছে। শ্রমিকদের প্রধান অজিত সরকার জানান, প্রায় এক বছর ধরে রাজবাড়ির সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ করছি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটিকে পর্যটন ভিত্তিক করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। 

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পাইকপাড়ার রাতুল, অর্ণব ও রাকেশ জানান, তারা রাজবাড়ির অনেক গল্প শোনে বন্ধুদেরকে নিয়ে হোন্ডা নিয়ে ঘুরতে আসছি। আসলে গল্পের সঙ্গে বাস্তবের তেমন মিল নেই। ভেতরের পরিবেশ তেমন ভালো না। সংস্কার হলে যদি কিছুটা উন্নত হয়।

এ ব্যাপারে হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আাঁখি জানান, শুনেছি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটির সংস্কার কাজ করছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা বাড়িটির সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও নাজমা আশরাফী বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বাড়িটিকে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে অন্তর্ভুক্ত করে সংরক্ষণ এবং সংস্কারের কাজ করছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর