ব্রেকিং:
জমি-পেনশন হাতিয়ে বাবাকে ফেলে গেছে সন্তানেরা ফের বৃষ্টিতে ভেসে যাবে বাংলাদেশের স্বপ্ন? ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ বিতর্ক মানুষকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে : শিক্ষামন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-দক্ষতা বিবেচনায় সেনা সদস্যদের পদোন্নতি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের লক্ষ্য উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়া ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইও ট্রেনের নিচে প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসা সহায়ক: এফবিসিসিআই শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না ফিলিস্তিনি শিশুটির মুজিব কোটেই ছয় দফা! মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি’ আজ বিশ্ব বাবা দিবস কেন সুন্দর গন্ধ ভেসে আসে যুবতীর কবর থেকে…কেন? কয়েলের আগুনে ঘর, গরুসহ নগদ টাকা পুড়ে ছাই ! নবীনগরে ‘সেভ আওয়ার জেনারেশন’এর আত্মপ্রকাশ বাজেটে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণে বরাদ্দ বেড়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা পদ্মা সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৯ হাজার কোটি টাকা

রোববার   ১৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ২ ১৪২৬   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

৬১৪

‘পাবজি’ তৈরির করুণ ইতিহাস

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯  

নিউজপেপার, টিভি কিংবা ফেইসবুক, যেখানেই যান না কেন সবজায়গাতেই অনলাইন গেইমের ছড়াছড়ি। তাও বিভিন্ন ধরনের নয়, একটি গেইম পাবজি। ‘পাবজিতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা’,‘পাবজি খেলে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে তরুণরা’ কিংবা ‘নেপালে নিষিদ্ধ হলো পাবজি’ ধরনের খবর প্রতিদিনই চোখে পড়ে। আবার ‘চিকেন ডিনার’ পাওয়া বন্ধুদের ফেইসবুক স্টোরি তো আছেই। বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেইম পাবজি এর ছড়াছড়ি সর্বত্রই। কেউ নিচ্ছেন ভালোভাবে, কেউবা খারাপ ভাবে। আজ ওই আলোচনায় যাচ্ছি না। কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা এই গেইমটি কীভাবে আসলো সেটি নিয়ে কথা বলবো আজকে-

তার নাম ব্র্যান্ডন গ্রিন। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এবং ওয়েব ডিজাইনার। বাড়ি আয়ারল্যান্ড। জন্ম ১৯৭৬ সালে আয়ারল্যান্ডেই। তার বাবা একজন মিলিটারি অফিসার ছিলেন। সেই সুবাদে তার শৈশব কাটে এক মিলিটারি ক্যাম্পে। তার বাবা মিলিটারি কাজে সারা ঘুরে বেড়াতেন এবং প্রতিবারই তার জন্য ভিডিও গেইম নিয়ে আসতেন। গ্রিন এর পছন্দের গেইম ছিলো শুটিং গেইম। জীবনে প্রচুর গেইম খেলেছেন কিন্তু সেটি তার প্রথম প্রায়োরিটি কখনোই ছিলোনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন আর্টের উপর, কিন্তু আয়ারল্যান্ডে তখন চাকরির বাজারে এর তেমন দাম নেই দেখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন একজন ডিজে ও ফটোগ্রাফার হিসেবে। পরবর্তীতে ওয়েব ডিজাইনিং এর প্রতি আগ্রহী হন এবং শেখা শুরু করেন। তরুণ বয়সে পরিচিত হন ব্রাজিলিয়ান এক তরুণীর সাথে। ভালোবেসে ফেলেন তাকে। 

পিছু পিছু চলে যান একদম ব্রাজিলে। সেখানেই সেই তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। ২ বছর সুখে সংসার করার পর হুট করেই ডিভোর্স হয় তাদের। ঘরে ছিলো ছোট কন্যা সন্তান। তাকে মায়ের কাছে রেখেই আলাদা হয়ে যান তিনি। আয়ারল্যান্ড ফেরার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু ভাগ্য তার সাথে নেই। পকেট একদমই ফাকা। টিকিট কেটে যে দেশে যাবেন সেই সামর্থও নেই। দিন আনে দিন খায় অবস্থা। সারাদিন কাজ করে রাতে অনলাইনে কল অফ ডিউটি খেলে কাটান। একসময় সেটিও বিরক্ত লাগে। একই জিনিস বারবার। মরে গেলে আবার স্পন হয়, আবার গোলাগুলি আবার মরে গেলে আবার স্পন। মজার কিছুই নেই। তখন আরমা ২ নামে একটি গেইম বের হয়। সেটি পেয়ে তিনি খুশি হয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পর আবার বিরক্ত হয়ে যান। 

নিজের পছন্দমতো গেইম খুঁজে পান না। হুট করেই মাথায় আসে কী করলে এই ধরনের গেইম আরো মজাদার হবে, মাথা খাটানো যাবে, কীভাবে একজন গেইমার নিজের চিন্তাকে ফুটিয়ে তুলতে পারবে, নতুন নতুন স্ট্রাটেজি বের করতে পারবে। তিনি এমন একটি গেইমের কথা চিন্তা করেন যেখানে দুটো ম্যাচ কখনোই এক হবে না, যেখানে জীবনের মূল্য আছে, কল অফ ডিউটির মতো বারবার স্পন করবে না, যেখানে নিজের পছন্দ মতো খেলা যাবে। এই চিন্তা আসার পর তিনি আশার আলো দেখতে পান। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। যদি এমন একটি গেইম না থাকে, নিজে বানাবেন। তিনি স্বপ্ন দেখতে থাকেন তার এই গেইম একদিন কোটি কোটি মানুষ খেলবে, বড় জায়গায় এই গেইমের টুর্নামেন্ট হবে যেখানে কোটি কোটি দর্শক তা দেখবে। 

ব্র্যান্ডন তার গেইম বানানোর আইডিয়া পান জাপানিজ চলচ্চিত্র ‘ব্যাটল রয়্যাল’ এবং তখন নতুন বের হওয়া চলচ্চিত্র ‘দ্য হাঙ্গার গেইমস’ থেকে। চলচ্চিত্র দু’টি তাকে খুবই উৎসাহী করে তোলে। নতুন জীবন ফিরে পান তিনি। ব্র্যান্ডন নিজে কখনো গেইম ডেভেলপার ছিলেননা। কিন্তু তার হাতে এখন অনেক সময়। গেইম ডেভেলপিং শেখা শুরু করেন। অনলাইনে বিভিন্ন গেইমের কোডিং নিয়ে রিসার্চ করতে থাকেন তিনি। একসময় নিজের মতো করে আরমা ২ এর একটি মড বানিয়ে ফেলেন। এটি ছিলো তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। এই মডটি তিনি অনলাইনে ছেড়ে দেন এবং ভালোই সাড়া পান। এর নিজের একটি নামও দিয়ে দেন ‘প্লেয়ার আননোউনস ব্যাটল রয়্যাল’। 

তিনি এবং তার এক বন্ধু মিলে এই গেইমের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলে। সেই কমিউনিটির সাথে তিনি রাত জেগে এটি খেলা শুরু করেন। কিন্তু ভালো ইন্টারনেট না থাকার কারণে তার তৈরি সার্ভার প্রায়ই ঝামেলা করতো এবং তিনি ঘুমিয়ে গেলেই সব অফ হয়ে যেতো। অন্যান্য প্লেয়ারদের স্বাধীনতা ছিলোনা। এরই মাঝে বাড়ি ফেরার জন্য যথেষ্ট টাকা ব্র্যান্ডনের হাতে চলে আসে। আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান তিনি। তার বাবা মা এবার তাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত হন। ব্র্যান্ডন এবার পুরোপুরি গেইমে মনোযোগ দেন। দেশে ফিরেই তিনি সরকারি ওয়েলফেয়ারে যোগাযোগ করেন যাতে তাকে সাময়িক সময়ের জন্য অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেয়া হয়। এসময় তিনি শুরু করেন তার স্বপ্ন পুরণের অসম্পূর্ণ যাত্রা। 

এসময় ব্র্যান্ডনের বাবা মা চিন্তিত হয়ে পরেন যখন শুনেন তাদের ছেলে কোনো কাজ না করে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে গেইম ডেভেলপ করছে এবং সেখান থেকে কোনো ইনকাম হচ্ছেনা। এভাবে আর বেশিদিন চললে ব্র্যান্ডনকে রাস্তায় বসতে হবে। কিন্তু তাদের চিন্তার কোনো কারণই ছিলোনা। আস্তে আস্তে ব্র্যান্ডনের কমিউনিটি বড় হতে থাকে, বড় বড় কোম্পানিগুলো তার এই চমকপ্রদ আইডিয়া লুফে নেয়। বিশেষ করে ডেব্রেক কোম্পানি নতুন একটি ব্যাটল রয়্যাল গেইম বাজে ছাড়ে যার নাম ‘এইচ ওয়ান জেড ওয়ান’। ব্র্যান্ডন তার আইডিয়ার এতো প্রশংসা দেখে টুইটারে একবার মজা করে বলেন, আমার আইডিয়া এতো পছন্দ হলে কপি করার কি আছে? আমার উপরই টাকা ঢালেন এবং একসময় তাই হয়। ডেব্রেকের প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডনকে নিজে টুইটারে মেসেজ দেন সে তার কোম্পানিতে কাজ করতে চায় কি না। ব্র্যান্ডন এই আইডিয়া লুফে নেন। 

আবার প্লেনে করে পাড়ি জমান দেশের বাহিরে। এবার গন্তব্য সান ডিয়েগো। সেখানে ডেব্রেক কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ‘এইচ ওয়ান জেড ওয়ান’ গেমের আইডিয়ার জন্য ব্র্যান্ডনকে ক্রেডিট দেন এবং সেখানেই তাকে চাকরি দিয়ে দেন প্রোফেশনাল গেইম ডেভেলপার হিসেবে। ব্র্যান্ডন এবার ইনকাম করা শুরু করেন। গল্প কিন্তু এখানেই শেষ না। আরো আছে। ডেব্রেকে কাজ করার সময় ব্র্যান্ডন এক কোরিয়ান কোম্পানির কাজ থেকে ডাক পান। নাম ব্লুহোল। ‘এইচ ওয়ান জেড ওয়ান’ এর কাজ শেষ হওয়ার পর তারা ব্র্যান্ডনের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চায়। ব্র্যান্ডন গ্রিন আবারো অন্যত্র পাড়ি জমান। এবার গন্তব্য সিউল। সেখানে যাওয়ার পর তিনি তার পুরো আইডিয়া তাদের খুলে বলেন। কিন্তু ট্রেডিশনাল গেইম ডেভেলপার না হওয়ায় এবং প্রফেশনাল গেমার না হওয়ায় তার আইডিয়াগুলো অনেকটা খাপছাড়া ছিলো যেটা তাদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছিলো। তাও তারা ব্র্যান্ডনের পুরো আইডি শুনলো কারণ তারা এটা বুঝতে পেরেছিলো যে ব্র্যান্ডন নিজে নিজে শিখেছে সব।

ব্লুহোল কোম্পানি তার আইডিয়ার মর্ম বুঝতে পারে এবং একসময় বাজারে প্রথমবারের মতো বের হয়, ‘প্লেয়ার আননোউনস ব্যাটলগ্রাউন্ড’ বা ‘পাবজি’। প্রথমদিকে শুধু স্টিম ইউজারদের জন্য বের হয়। সেখানে এটি প্রথম বছরেই টপে চলে আসে। এরপর আস্তে আস্তে কতো যে ভার্সন বের হয়েছে। পাবজি পিসি, পাবজি লাইট, পাবজি মোবাইল। পুরো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এই গেইম খেলছে। প্রতিনিয়ত বড় বড় টুর্নামেন্ট হচ্ছে। দেখছে কোটি কোটি মানুষ। একসময় দিন আনে দিন খায় অবস্থায় থাকা ব্র্যান্ডন গ্রিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রুপ নেয়। টাকার অভাবে দেশে ফিরতে না পারা মানুষটি এখন সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তার বানানো গেইম এখন খেলছে কোটি কোটি মানুষ।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর