ব্রেকিং:
টয়লেট চেপে রাখলে নারীদের যে ভয়ানক রোগ হয় কোরআন অবমাননা: সেফুদার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট জানাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস গোলাপি বলের সাতকাহন মায়ের সঙ্গে তিন বছর ধরে শিকলবন্দী আওলাদ! প্রপার ভেন্যু পেলে ‘এই শীতেই’ বিয়ে: সৃজিত গতি বাড়াতে কম্পিউটারে প্রচলিত হার্ডডিস্কে সলিড স্টেট ড্রাইভ অজুর যতো দোয়া ও আমল ছয় রোগের সমাধান এক বীজে আশ্চর্য, গাছের গোড়ায় নয় ডগায় পেঁয়াজ! সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তিতে জনগণ পিএসসিতে প্রক্সি, ১৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার আশুগঞ্জ থেকে সাত জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ লবন নিয়ে তুলকালাম! পরিবহন ধর্মঘট থেকে মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গুজব ছড়িয়ে লবনের মূল্য বৃদ্ধি লবনের গুজব প্রতিরোধে মাঠে ভ্রম্যমান আদালত লবণের দাম বাড়েনি বলে ইউএনও’র মাইকিং হারিয়ে যাওয়া শিশুকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর মুক্ত দিবসে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২৫২

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই শিক্ষককে অব্যাহতি

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রভাষক বিলকিস বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি। চাকুরিচ্যুত করার শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে জানানোর একদিন পরই ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সভাপতি আ ফ ম আনোয়ারুল হক অব্যাহতি পত্রে বিলকিস বেগমের যোগাযোগের দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগের কথাও এতে উল্লেখ নেই। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না সেটাও ওই পত্রে উল্লেখ নেই।  

একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধি ১১ ধারা-উপধারায় বলা আছে, শিক্ষককে বরখাস্ত, অপসারণ, অব্যাহতি করতে, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখা প্রদানের জন্য নোটিশ দিয়ে-আনীত অভিযোগে কেন তাকে (অভিযুক্ত শিক্ষক) নোটিশে বর্ণিত সাজা দেওয়া যাবে না বা তিনি ব্যক্তিগত ভাবে শুনানী দিতে চান কি না তাও তাকে জানাতে হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের জবাব এবং ব্যক্তিগত শুনানীতে আগ্রহ আছে এটা জানার পর কর্তৃপক্ষ (নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ) সভাপতিসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের আপিল ও সালিশি কমিটি কর্তৃক শাস্তির প্রস্তাব পরীক্ষা ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষকের উপর বরখাস্ত, অপসারণ, অব্যহতির শাস্তি আরোপ করা যাবে না।

এমন ‘অযাচিত’ সিদ্ধান্তের শিকার বিলকিস বেগম জানান, তিনি ছয় বছরের বেশি সময়ে ধরে কলেজটিতে শিক্ষকতা করে আসছেন। ওই সময়ে অন্যান্য বিষয়ে কিছু শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হতে পারলেও আইসিটিতে এমন হয়নি। কলেজটি এমপিওভুক্তি হওয়ার পর পর তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। চাকরির সরকারি বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর তিনি কোথাও আবেদনও করতে পারবেন না। অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে এমন শঙ্কা থেকে ইউএনও’র কাছে গত ৩১ অক্টোবর আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতির পর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছি।

তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে আমি কলেজে প্রভাষক পদে কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি হাজিরা খাতায় আমাকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। আমার দক্ষতা না থাকলে কলেজের আইসিটি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নিশ্চয় প্রভাব পড়তো। এ কলেজ থেকে আইসিটিতে কেউ ফেল করেনি।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নজরুল জানান, ওই শিক্ষিকাকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি। ১ অক্টোবর কমিটির সর্বশেষ সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। আমিসহ দু’জন ওই শিক্ষককে অব্যাহতি প্রদানের আলোচনা হলে প্রতিবাদ করি। তখন সভাপতি জানায় তার সিদ্ধান্তে এ অব্যাহতি হয়েছে সেটি উল্লেখ করার জন্য। কিন্তু এটা নিয়মমাফিক হবে না বলেও আমি অবহিত করি।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ ফ ম আনোয়ারুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই শিক্ষককে দিয়ে আমাদের আইসিটি বিভাগ ভালোভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। দক্ষতা অর্জনের জন্য ওনাকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি সেটা পারেন নি। যে কারণে ওনাকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন আরেকজনকে অস্থায়ীভাবে নেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে অব্যাহতির চিঠিতে এটা লেখা নেই। আগেও কোনো ধরণের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দেওয়ার বিষয়টি আমাদের অজ্ঞতা। বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তা ভাবছি।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর