ব্রেকিং:
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণা প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২
  • শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১১ ১৪২৭

  • || ০৭ সফর ১৪৪২

৪১৮

নিষিদ্ধ এলাকাতে ইটভাটা

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩শ’ মিটার দূরত্ব পবন ইটভাটার। আর আখাউড়ার মোগড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থেকে দেড়শ’ মিটার দূরত্বে অবস্থান তিতাস ব্রিকসের। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে আরো বেশ কয়েকটি ইটভাটা। আবার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই এমন ইটভাটাও সচল এ জেলায়। তবে অবৈধ বা অনিয়মে চলা এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ১৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৫০টি ইটভাটা চলছে অনিয়মে। ৩৫টি ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নবায়ন নেই, আর বাকি ১০-১৫টি চলছে ছাড়পত্র ছাড়াই।

শহরের গোকর্নঘাটের আরব ব্রিকস ২০০৩ সালে পরিবেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাড়পত্র নবায়ন করলেও ২০১৬ সাল থেকে এই ইটভাটাটি কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। তাছাড়া ইটভাটার ৬শ’ মিটার দূরত্বের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫শ’ মিটারের মধ্যে পৌরসভার সীমানা ও আবাসিক এলাকা রয়েছে। মোট কথা নিষিদ্ধ এলাকাতে চলছে ইটভাটাটি। একই স্থানে থাকা রনি ব্রিকসও চলছে কোন ছাড়পত্র ছাড়াই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পৌরসভার সীমানা ও আবাসিক এলাকাতেই এই ইটভাটাটির অবস্থান। এদুটি ইটভাটা ছাড়াও সরাইলের শাহজাদাপুরের নিউ সমতা ব্রিকস, রাজামাড়িয়াকান্দির মেসার্স সূবর্ণ ব্রিকস, বিজয়নগরের টানমনিপুরের মেসার্স রতন ব্রিকস, সদর উপজেলার মেহেদী আলম ব্রিকসের বিরুদ্ধে বিচার আদালত করার উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। পরিবেশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ছাড়পত্র ও নবায়ন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ইটভাটাগুলো। এরমধ্যে রনি ব্রিকস আদালতে রিটের মাধ্যমে চলছিলো বলে জানান তারা। এটি ছাড়াও আরো ২টি ইটভাটা রয়েছে যারা আদালতে রিটের মাধ্যমে এতোদিন চালিয়েছে। আদালত থেকে তাদের রিট খারিজ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশ অধিদফতর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৮নং ধারার ৩(ঙ) উপধারাতে বিশেষ কোন স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই আইনের তোয়াক্কা না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ইটভাটা।
বিজয়নগর উপজেলার ভূঁইয়া ব্রিকস নামের ইটভাটাটি গড়ে উঠেছে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫শ’ মিটার দূরত্বের মধ্যে। হাজী ব্রিকসের অবস্থান চান্দুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৬শ’ মিটার দূরত্বে। বুধন্তী আহলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৬শ’ মিটার দূরত্বে চান্দুরার টিএন্ডসি ব্রিকসের অবস্থান। সরাইলের রাজামারিয়াকান্দির নিউ মায়ের দোয়া ব্রিকস বৈশামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬শ’ মিটার দূরত্বে গড়ে উঠেছে। শাহবাজপুর ইউনিয়নের মদিনা ব্রিকস রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫শ’ মিটার দূরত্বে রয়েছে। সদর উপজেলার বাকাইলের পবন ব্রিকস বাকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩শ’ মিটার দূরত্বে। আখাউড়ার মোগড়ায় তিতাস ব্রিকস ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথ থেকে দেড়শ’ এবং মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয থেকে ৬শ’ মিটার দূরত্বে গড়ে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদফতরের রিসার্চ অফিসার মো. রুনায়েত আমিন রেজা বলেন, এসব ইটভাটাকে আমরা অবস্থান পরিবর্তনের জন্যে দুই দফা নোটিশ করেছি। এরপর আমরা চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবো। আর যেসব ইটভাটা নবায়ন ও ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে চলছে সেসব ইটভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা কার্যক্রম গ্রহণের জন্যে আমরা চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর