ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

৫৮

নববর্ষ ১৪২৭:মৃৎশিল্পীদের ঘরে বিষাদের ছায়া

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২০  

প্রায় হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্পীরা এখনো বেঁচে আছেন বাংলা নববর্ষকে ঘিরে। পহেলা বৈশাখের দিন থেকে শুরু করে পুরো বৈশাখ মাস জুড়েই দেশের বিভিন্ন স্থানে সমারোহের সঙ্গে বৈশাখী মেলা হয়ে থাকে।
বৈশাখী মেলায় গ্রাম-বাংলার একটা বড় অংশ জুড়েই দেখা যায় মৃৎশিল্পের আবেদন। বছরের অন্য সময় মাটির তৈরি প্রয়োজনীয় অনেক তৈজসপত্র খুঁজে পেতে কষ্ট হলেও বৈশাখ মাসে সহজেই হাতের কাছে তা পাওয়া যায়। ফলে একদিকে যেমন মাটির তৈরি প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র সহজেই কিনতে করতে পারে সাধারণ মানুষ অন্যদিকে এই সময়টায় মৃৎশিল্পীদের ঘরে থাকে উৎসবের আমেজ।
কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন। করোনা পরিস্থিতিতে উৎসবের জায়গায় এবার নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া!

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকে গত ১৯ মার্চ থেকে লকডাউন করে রাখা হয়। এছাড়া পুরো মাদারীপুর জেলা বর্তমানে লকডাউন পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া আশেপাশের অন্য স্থানেও প্রায় এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনসাধারণের চলাচল রয়েছে সীমিত। চলছে না কোনো পরিবহনও। বন্ধ রয়েছে বাজার-হাট। ১৪ এপ্রিল যে পহেলা বৈশাখ ঘিরে বাঙালির উদ্দীপনার শেষ থাকে না। যে পহেলা বৈশাখকে ঘিরেই এখনো টিকে রয়েছে পালপাড়াগুলো সেই পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীদের পরিবারে এবার পহেলা বৈশাখ এসেছে বিষাদের কালো ছায়া নিয়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ থেকে জেলার গ্রামে গ্রামে ‘গোলোইয়া’ খ্যাত গ্রামীণ মেলা বসে। এসব মেলায় মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্র বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, ফুলদানি, মাটির ব্যাংক, বাসন-পেয়ালা, বাচ্চাদের নানা রকম খেলনা এসবই বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে থাকে। আর বছরের এই সময়েই এসব মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা বেশি থাকায় অধিক পরিমাণে তৈরি করা হয় মাটির এসব দ্রব্য। পালপাড়ায় বৈশাখ মাস আসার কমপক্ষে একমাস আগে থেকেই চলতে থাকে প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে বইতে থাকে উৎসব আর তৈজসপত্র বানানোর ধুম। বছরের আয়ের একটা বড় অংশই এই বৈশাখকে ঘিরে তারা উপার্জন করে থাকে। তবে করোনার প্রভাবে জনজীবন স্থবির হয়ে যাওয়ায় এই মৃৎশিল্পীদের আয়-রোজগারও বন্ধ এখন। বৈশাখ ঘিরে তৈজসপত্র বানানোর ব্যস্ততা নেই তাদের। কেননা এ বছর আর উদযাপিত হবে না পহেলা বৈশাখ। ফলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে তাদের অন্যতম এই ব্যবসা। তৈজসপত্র তৈরির এই কারিগরদের বেশির ভাগই নিন্ম আয়ের আর দরিদ্র হওয়ায় আগামী দিন কিভাবে যাবে সেই চিন্তায় কপালে হতাশার ভাজ পড়েছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার ঘঁমাঝি ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রাম, কালকিনি উপজেলার থানার মোড় এলাকার পালপাড়া গ্রাম, ডাসার থানার ঘোষেরহাট বাজার সংলগ্ন পালপাড়া গ্রাম, শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের পালপাড়া ও নলগোড়া এলাকার পালপাড়া, রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ও খালিয়া পালপাড়া গ্রামে কমপক্ষে শতাধিক পরিবার রয়েছে যারা এই মৃৎশিল্পকে ধরে রেখেছেন।
শিবচরের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গত দুই মাস আগে থেকেই পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি চলছিল পালপাড়ায়। তৈজসপত্র, খেলনা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন তারা। তবে যে সময়টায় এই ব্যস্ততায় দিন কাটে তাদের ঠিক তখনই সবকিছু পাল্টে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির এখন। এই অবস্থায় জীবন নিয়েই মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বাসন-কোসন কিনবে কে? তাছাড়া বৈশাখী মেলাও কোথাও হবে না এবার। ফলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়েছেন তারা।
অমল পাল নামে এক মৃৎশিল্পী  জানান, মাটি কিনে এনে তৈজসপত্র বানাতে হয়। মাটি কিনে রেখেছিলেন কিছু কিছু তৈজসপত্র ও খেলনা বানানো হলেও তা বিক্রি আর হবে না এবার। অনেকের তৈজসপত্র পোড়ানোর চুলাও জ্বলেনি।
তিনি আরও জানান, বছরের পূজাসহ কয়েকটি স্থানের মেলাতে মাটির এসা জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। তবে বৈশাখ মাসেই আমাদের মূল মৌসুম। এই মৌসুমের আয় দিয়েই বছরের অনেকটা দিন চলে যায়। কিন্তু এ বছর সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে গেছে। সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল পালপাড়ায়।
শিল্পের আগ্রাসনে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্লাস্টিক আর মেটাল দ্রব্যের ছড়াছড়ি থাকলেও মাটির তৈরি তৈজসপত্র হারিয়ে যায়নি একেবারে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহার কম হলেও মাটির তৈরির তৈজসপত্রের প্রয়োজনীয়তা গ্রামীণ পরিবারে রয়ে গেছে এখনো। এছাড়া শহরে পরিবারেও ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে বেশ চাহিদা রয়েছে মাটির তৈরি নানা জিনিসপত্রের। আর এ কারণেই এখনো টিকে রয়েছে গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্য। 
ঐতিহ্যকে ধারণ করে পৈত্রিক পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন অনেক মৃৎশিল্পী পরিবার। তবে আর্থিকভাবে কখনোই স্বচ্ছল ছিলেন না তাদের বেশিরভাগই। পহেলা বৈশাখ যেন এ সব পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। হরেক রকম বাহারি তৈজসপত্র তৈরি হতে থাকে পালপাড়ায়। গনগনে আগুনের চুলোর তাপে ঘাম ঝরে কুমোরের। রঙ-তুলির আঁচড়ে নানা রূপ নেয় মাটির তৈজসপত্র ও খেলনা সামগ্রী। বাঁশের ঝুঁড়িতে সাজিয়ে গ্রামের মেলায় ছুটে বেড়ান এসব পরিবারের কর্তা-ছেলেপুলেরা। লক্ষ্য একটু আর্থিক স্বচ্ছলতা। কিন্তু করোনার প্রভাবে সব স্বপ্ন মিশে গেছে মাটিতে। বন্ধ রয়েছে চুলো, স্তুপ আকারে পরে আছে মাটি। রঙ-তুলির আঁচড় পড়েনি তৈরি করা কিছু তৈজসপত্রেও। মেলা বন্ধ, বিক্রি বন্ধ। এই আর্থিক ক্ষতি আদৌ কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না জানা নেই তাদের।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর