ব্রেকিং:
দুদকের অভিযানে সরকারি ওষুধ বেচতে গিয়ে ধরা খেল নার্স বাংলাদেশে বিলুপ্তি’র পথে শতাধিক দেশীয় মাছ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সবার উপরে চাঁদপুর, নিচে ফেনী মিন্নির ১০দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ বাংলাদেশে গুগল ম্যাপে যুক্ত হলো নতুন ফিচার বন্যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত: সেনাপ্রধান গাপটিলের সেই থ্রো নিয়ে কথা বলল আইসিসি বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাড়বে কলকাতায়: এফবিসিসিআই বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই ভারতে মুসলিম নিপীড়ন বেড়েছে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ সেনাবাহিনী-বিজিবির চেষ্টায় বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক ‘সব আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে’ কোরবানির ঈদ পর্যন্ত বিদেশি গরু প্রবেশ নিষিদ্ধ এরশাদের আসন শূন্য ঘোষণা, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন কথাবার্তায় সন্দেহ থেকে গ্রেফতার হলো মিন্নি ৩৬ কোটি টাকার ওষুধ ধ্বংস, জরিমানা দেড় কোটি একনেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন ব্যাংক কর্মকর্তাকে ধর্ষণের পর হত্যা, পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড বেশির ভাগ দুধেই সিসা: হাইকোর্টে বিএসটিআইয়ের রিপোর্ট

বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ২ ১৪২৬   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

৮০২

দৃষ্টিজয়ীদের ‘বাংলা বর্ণমালা’

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

দৃষ্টিহীনরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পায় না। কিন্তু তাদের মনের সবচেয়ে বড় দুঃখ এটি নয়। মায়ের ভাষার বর্ণমালাকে না দেখার দুঃখ কি ভুলার মতো? তারা জানে বাংলা ভাষায় কত সুন্দর ও সাবলীল সাহিত্য রচনা হয়। কিন্তু তারা সেটা দেখতে পায় না, এরচেয়ে বড় দুঃখ আর কী হতে পারে? তার জানে আমাদের আছে বর্ণিল বাংলা বর্ণমালা। কিন্তু চোখে দেখে পড়ার সৌভাগ্য তাদের হয় না। 

তবে তারা মনে কষ্ট খানিকটা উড়ায় স্পর্শে! তারা হয়তো আমাদের মতো দু-চোখ মেলে অসাধারণ এই পৃথিবীর রহস্য উপভোগ করতে পারে না। তবে মনের চোখ দিয়ে তারা পৃথিবীকে দেখে, জানে বাংলা বর্ণমালা কত সুন্দর। শুধু তাই নয়, তারা স্পর্শে পড়ে নেয় প্রাণের বাংলায় রচিত ছড়া, কবিতা, গল্প কিংবা উপন্যাস।

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র ব্রেইল প্রকাশনী ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনী’। বইমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাইরের গেটের পাশেই স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর স্টল। এখানে গেলেই দেখা মেলে অসংখ্য দৃষ্টিহীনদের। তারা এই স্টলটির আশির্বাদেই পড়তে পারছে বাংলা বই। 

ফারুক ইজাজ, বয়স ১৭ বছর। মায়ের সাথে বই মেলায় এসেছে সে। কি যে আনন্দ তার চোখে মুখে। অন্য সবার মতো সেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে পারছে। সেই সাথে ভারী করতে পারছে তার ব্রেইল সংগ্রহও। ফারুকের মা ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘বইমেলায় তাকে নিয়ে আরো দু-বার এসেছি। প্রতিদিন বইমেলায় আসতে চায়। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে নিয়ে আসতে পারি না। বইমেলায় এলেই সে কোনো না কোনো বই কিনে নিয়ে যাবে। এবার বইমেলায় শুধু বেশ কয়েকটি ব্রেইল বই প্রকাশিত হয়েছে, তাও আবার শুধু স্পর্শ থেকে। সবগুলো তাকে কিনে দেবো।’

 

 

ফারুকের মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্টল দিয়েছে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনী। স্টল ঘুরে দেখা গেছে, ফারুক ছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তিন শিক্ষার্থী ব্রেইল বই পড়ছেন। দর্শকরা তাদের পড়া শুনছেন। অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করছেন। তারা উত্তর দিচ্ছেন। এতদূর এগিয়ে আসার গল্প বলছেন। স্টলে বই পড়ার মাধ্যমে তারা ব্রেইল বই পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ সময় সোনিয়া হকের ‘অনন্ত নিদ্রা’ বই পড়ছিলেন শাহিন নামের একজন। তিনি বলেন, ‘গ্রন্থমেলা থেকে নতুন বই কিনে পড়ার ইচ্ছা আমাদের। কিন্তু সব বই ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা হয়নি। বছরে যদি প্রতিটি প্রকাশনী একটি করেও ব্রেইল বই বের করে তাহলে আমরা অনেক বই পড়ার সুযোগ পাবো।’

দৃষ্টিজয়ীরা এখন নতুন বই পড়ার যতটুকু সুবিধা পাচ্ছেন তার বেশিরভাগ কৃতিত্বই নাজিয়া জাবীনের। তার হাত ধরেই স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর জন্ম। ২০০২ সালের কথা। নাজিয়া জাবীন তখন ‘প্রেরণা’ নামের একটি সংগঠনে কাজ করতেন। সে সংগঠনের হয়ে দৃষ্টিজয়ীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেই বছরই তিনি প্রকাশ করেন তার প্রথম ছড়ার বই ‘ছড়ার তালে মনটা দোলে’।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে আমি দৃষ্টিজয়ীদের একটি স্কুলে গেলাম তাদের দেখতে। সাথে আমার ছড়ার বই ছড়ার তালে মনটা দোলে নিয়ে গেলাম তাদের উপহার দিতে। তারা কত যে খুশি হয়েছিল সেদিন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা কেউ বইটি পড়তে পারছিল না। কারণ তারা তো আমার আপনার মতো না। তবুও তারা খুশি ছিল। নতুন বইয়ের গন্ধ নিচ্ছিল অনেকেই। কয়েকজন তো বইটির কয়টি পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখছিল। তখন আমার খুব খারাপ লাগলো। আমার বইটি তো তারা পড়তে পারছে না, বইটি শুধু দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষই কেন পড়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদের জন্যও তো এই সুযোগ করে দেওয়া উচিত। তখন সেটাকে ব্রেইল বই করলাম। বলতে পারেন সেটা ছিল তাদের জন্য আমার উপহার। কিন্তু তখনো স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনী করার ভূত আমার মাথায় চাপেনি।

 

 

তার বেশ কিছুদিন পর নাজিয়া আবার ছুটলেন দৃষ্টিজয়ীদের কাছে। তখন গিয়ে আবারো মন খারাপ হলো তার। নাজিয়ার দেওয়া বইগুলোর একদম মিশে গেছে। কোনোভাবেই পড়া যাচ্ছিল না। তখন নাজিয়া ভাবলেন, আমার দায়িত্ব এখানেই শেষ না। তাদের জন্য নতুন কিছু করতে হবে। সেই নতুন কিছু করার চিন্তা-ভাবনা থেকেই উদ্যোগ নেন ব্রেইল প্রকাশনী করার।

২০০৬ সালে প্রকাশনী করার জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামনে নাজিয়া। 

তিনি ভাবলেন, শুধুমাত্র তার লেখা বই দিয়ে দৃষ্টিজয়ীদের পিপাসা মেটানো সম্ভব নয়। তিনি গেলেন সাহিত্য প্রকাশনার প্রকাশক মফিজুল হকের কাছে। তখন তার পরামর্শে কাজ শুরু করেন তিনি। নাজিয়া বলেন, ‘তখন যখন আমি ওনার কাছে গেলাম, উনি আমাকে ফিরিয়ে দেননি। বরং এখনো আমার পাশে আছেন তিনি।’ অনেক পরিকল্পনার পর ২০০৮ সালে জন্ম নিলো স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনী। প্রকাশ করলেন ব্রেইল বই। বই পৌঁছে দিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে। বিনামূল্যে দেওয়া হলো তাদের হাতেও। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পেয়ে তারা তো আনন্দে আটখানা।

নাজিয়া জাবীন জানালেন বইমেলা নিয়ে তাদের উদ্যোগের কথা। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তারা আয়োজন করবেন দৃষ্টিজয়ীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান। সেখানে তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে বিনামূল্যে নতুন নতুন ব্রেইল বই। তবে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হলে দৃষ্টিজয়ীদের নিবন্ধন করতে হবে। স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর স্টলেই বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ থাকছে।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া