ব্রেকিং:
সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে জেএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন দিপা হত্যার রহস্য উদঘাটন ট্রেন দুর্ঘটনায় অনেকের দোষ পেয়েছে তদন্ত কমিটি নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণের দায়িত্ব গ্রহণ লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু ঝুঁকিপূর্ণ সিলেট-আখাউড়া রেলপথ! কোরআন-হাদিসে জুমা’র গুরুত্ব ও তাৎপর্য যুবলীগের বয়সসীমা শিথিলের সম্ভাবনা নেই পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করার উপায় রেসলার ও হলিউড অভিনেতা রক মারা গেছেন! রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্তে অনুমোদন দিলো আইসিসি কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক বরখাস্ত রোহিঙ্গার শপিং ব্যাগে মিলল ৪৯ লাখ টাকার ইয়াবা ‘জঙ্গি দমনে পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে’ ট্রেন দুর্ঘটনার সাহসী সেই পাঁচ যুবক সন্তানের মা হলেন সেই প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা পাল্টে গেছে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ের দৃশ্যপট! নিয়মিত হাঁটুন সুস্থ থাকুন! ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে কাতারে দোয়া মাহফিল

শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৪২৮

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০১৯  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় হুগলি বিল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নে বুল্লা ও পাইকপাড়া গ্রামবাসির মধ্যে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য সহ উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা জেলা সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বুল্লা মৎস্যজীবি সংগঠন হুগলি বিলের ইজারা নেয়। অতীতের ন্যায় এবছরও বুল্লা মৎস্যজীবি সমিতি এ বিলের ইজারা পায়। ইজারার ভিত্তিতে তারা বিলে বাঁধতে গেলে একই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কাসেম মেম্বার ও রাজু সরদারের লোকজন বাঁধা দেয়। এতে করে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন সহ এলাকায় ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার মিমাংশা করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে গত শনিবার উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে এতে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনারস্থলে গিয়ে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শনিবারের সংর্ঘষে পুলিশ সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়। পরে শনিবার দিবাগত রাতে উভয়পক্ষগণ বিলের মাছ ধরার চেষ্টা করলে ফের উত্তেজনা দেখা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরে গত রবিবার সকালে পাইকপাড়ার লোকজন বুল্লা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ হামলা করছেন বলে জানা গেছে। এতে বুল্লা বড় উঠান এলাকার  পাড়ার প্রায় ১০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনের পৃথক সংর্ঘষে ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

বুল্লা বড় উঠান এলাকার শামসুন্নাহার জানান,পাইকপাড়া কিছু লোকজন রবিবার সকালে আমার বাড়িতে হামলা করে এতে করে আমার বসত ঘর ভাংচুর করে কাঠের আসবাপত্রে অগ্নিসংযোগ করেন এবং ঘরে থাকা ফ্রিজটি তারা নিয়ে যায়। এছাড়াও আমার মরিচ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।  আসমা বেগম বলেন, ঘরবাড়ি ভাংচুর করে হাড়িপাতিল নিয়ে গেছে। ঘর দুয়ার অনেক ভাংচুর করেছে। খড়ের গাঁদায় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়েছে।  ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, আমরা বিলের সাথে কোনসম্পৃক্ত নয়। তারপরও তারা (পাইকপাড়া লোকজন) এসে ঘর ভাংচুর , অগ্নিসংযোগ ও তান্ডব চালিয়েছে। আমার ঘরে থাকা ৪ ড্রাম চাউল পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার নিয়ে গেছে তারা। কৃষ্ণ দাস নামে একজন জেলে বলেন, এ বিলে আমরা কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ  করি। তারা আমাদের বিলে যেতে দেয় না। বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখা। আমরা আমাদের বিলে যেতে চাই। বড় উঠানের খলিল দাসের ছেলে খোকন বলেন, আমাদের বসত ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে একটি টিউবওয়ে ছিল সেটাও নিয়ে গেছে। ঘরে থাকা সকল আসবাপত্র পুড়ে একবারে শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন সর্বহারা।

আলমগীর মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম বলেন, রবিবার সকালে পাইকপাড়ার লোকজন বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। ফ্রিজ ও কাঠ ফার্নিচার ভাংচুর ও তান্ডব চালায়। আমরা এখন বড় আতংকে আছি বাড়িতে কোন পুরুষ লোক নেই। ছেলে মেয়ে নিয়ে ভয়ভীতিতে সময় কাটাচ্ছি।  বুল্লা মৎস্যজীবি সমিতির সদস্য রবীন্দ্র দাস বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এ বিলে কাজ করে জীবন ধারণ করতো ২০১৮ সালে ৩ বছর মেয়াদে বুল্লা মৎস্যজীবি সমতি ইজারা পায়। তবে পাইকপাড়ার লোকজন তাদের জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করলে আমরার সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বুল্লা গ্রামে প্রায় ২শ পরিবারের মতো হিন্দু পরিবারের বসবাস। এখানে হিন্দু মুসলিমরা সাম্প্রতিক সম্প্রতি বজায় রেখে জীবন ধারণ করেন। আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তবে এ বিল পূর্ব থেকে আমরা ইজারা পেয়ে থাকি। আর এ বিলে আমরা কাজ করে  জীবন জীবিকা নির্বাহ করি।

এ বিষয়ে পাইকপাড়া গ্রামের রাজু সরদার ও কাসেম মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান সময়ে পুরো এলাকায় আইন শৃংখলাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং এলাকার পরিবেশ খুবই শান্ত রয়েছে। দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এলাকা শান্ত রাখার নিমিত্তে মাঠে রয়েছেন। আর যে প্রকার সংর্ঘষ না ঘটে সেজন্য পুলিশ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অস্থায়ী ক্যাম্প করেছেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর