ব্রেকিং:
সবজি বেচেই চলে সংসার প্রশাসনের তৎপরতায় বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল তিন স্কুলছাত্রী ৫০০০ মিটার দৌঁড়ে বিশ্ব রেকর্ড ৯৬ বছরের বৃদ্ধের! আর্থিক সহায়তা পেতেই ট্রাম্পের কাছে মিথ্যাচার করলো প্রিয়া সাহা! কারাগারে মিন্নি মিয়ানমারের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পর্যাপ্ত নয়: জাতিসংঘ বদলি খেলোয়াড় নামানোর নতুন নিয়ম চালু আইসিসির বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান বাণিজ্যে নবযাত্রার সূচনা জাতীয় মৎস্য পুরস্কারে স্বর্ণপদক পেল নৌবাহিনী ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট জিম্বাবুয়েকে বহিষ্কার করল আইসিসি রোহিঙ্গা নির্যাতন: আইসিসি’র অনুমতি পেলে তদন্তে নামবে দল ক্রিকইনফোর একাদশেও সাকিব, নেই কোহলি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মিন্নি জেলা হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করার নির্দেশ জঙ্গি-চরমপন্থীদের আবির্ভাব যেন না হয়: ডিসিদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাছ উৎপাদনে আমরা প্রথম হতে চাই: প্রধানমন্ত্রী নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ রিশান ফরাজী গ্রেফতার ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের স্বজনদের হজ করাবে সৌদি

রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

১৯৭

জালিয়াতির দায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৯  

চার কোটি টাকা আত্মসাতসহ, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের পর সমালোচনার মুখে পড়ে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেখান থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি।
ওই সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এস কে সিনহার ভাই, অনন্ত কুমার সিনহার নামে একটি বাড়ি কেনার খবর গণমাধ্যমে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি করে দুদক।  
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য সে সময় বলেছিলেন, অনন্ত সিনহা নিউ জার্সিতে দুই লাখ ৮০ হাজার ডলারে (দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা) চার হাজার বর্গফুটের তিন তলা বাড়ি কিনেছেন; এবং বিদেশে ‘অর্থ পাচার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ পেয়েছেন তারা।
বিচারপতি সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে সরকারের তরফ থেকে তখন বলা হয়েছিল, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা দুদক দেখবে।
দুদকের তদন্তের মধ্যেই গতবছর ২৭ সেপ্টেম্বর, শাহবাগ থানায় বিচারপতির বিরুদ্ধে, উক্ত পদে থেকে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়।

সেই সূত্র ধরে তদন্ত করার সময়, ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে দুই ব্যক্তির নামে ৪ কোটি ঋণের টাকা, বিচারপতি সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকার অভিযোগ পায় দুদক।
এরপর গতবছর অক্টোবরে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির প্রমাণ তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
এর ৮ মাস পর গতকাল বুধবার, দুদকের পক্ষ থেকে যে মামলা করা হল, তাতে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২), (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে এস কে সিনহা ও বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে।
এস কে সিনহা ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হল- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র,  ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পরদিন তারা ওই ব্যাংক থেকে, দুই কোটি টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন।
তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে, উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়; যার মালিক ছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
দুদক বলছে, ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি এ কে এম শামীম কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই, ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ দুটি অনুমোদন করেন। 
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ নভেম্বর ঋণের আবেদন হওয়ার পর 'অস্বাভাবিক দ্রুততার' সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট ৪ কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। 
পরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এরই মধ্যে ওই বছরের ২৮ নভেম্বর, এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে, শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে ২ কোটি ২৩ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ।
ওই ঋণের ৪ কোটি টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি জানিয়ে, এজাহারে দুদক বলেছে, “আসামি রনজিতের মাধ্যমে অন্যান্য আসামিদের ভুল বুঝিয়ে কাগজপত্র স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা করেছিলেন এস কে সিনহা।”

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর