ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৪৯

জানাজায় আসতে বাধা দিলে আমাদের লাশও আসত না

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২০  

দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর ভক্ত-অনুসারী রয়েছেন। জনপ্রিয়তার মোটামুটি তুঙ্গে থাকা ইসলামী এই বক্তার জানাজায় বিপুল জনসমাগম হওয়ার বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সমগ্র দেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণার পরও প্রশাসন কেন জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় জনস্রোত ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি সেটি নিয়েই এখন চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

 

গত শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা এলাকায় জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশবরেণ্য এই আলেমের জানাজার নামাজ পরিণত হয় জনসমুদ্রে! মাঠে জায়গা না হওয়ায় মাদরাসা সংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় জানাজার নামাজে অংশ নেয় মানুষ। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এসএসপি) মাসুদ রানা, সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) নারুল হককে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী। ওইদিন রাতেই মৃত্যুর সংবাদ মাইকিং করে জানানো হয়। পাশাপাশি ফেসবুকেও প্রচার করা হয়। ফলে ‘পর্যাপ্ত সময়’ পেয়েও কেন আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়নি প্রশাসন সেটি নিয়েও প্রশ্নের ডালপাল ছড়াচ্ছে। পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দারাও সরাইল থানা পুলিশকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি সাহাদাত হোসেন। ঘটনাস্থলে মাত্র ২০ জন পুলিশ সদস্য ছাড়া আর কেউ ছিলেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মূলত জানাজার বিষয়টিকে ‘হালকাভাবে’ নেয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মুঠোফোনে সরাইল থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি সাহাদাত হোসেন বলেন, এসপি স্যার আমাকে বলার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমি মাদরাসায় গিয়ে কথা বলেছি। ওনাদের আমরা বলেছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং লোক বেশি জমায়েত করা যাবে না। একেবারেই সীমিতসংখ্যক লোকের ভেতরে জানাজা সম্পন্ন করতে হবে। ওনারা বলেছেন, কোনো লোক আসার জন্য আমরা বলিনি। যদি লোক জমায়েত করতাম তাহলে দুপুরে জানাজার সময় দিতাম। ওনারা নিশ্চয়তা দেয়ার পর আমি চলে আসি। পরদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে আবার মাদরাসা মাঠে আমরা যাই। তখন এত লোকজন ছিল না। মাদরাসা মাঠ ও আশপাশে মিলিয়ে এক-দেড়শ লোক হবে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে দেখি মানুষ চারদিক থেকে স্রোতের মতো আসছে। আমরা মানুষজনকে ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করেছি। মাদরাসা মাঠের মাইক এবং আমাদের মাইক দিয়ে সবাইকে বলেছি। আমাদের অবস্থা তখন বানের পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার মতো। তখন আমরা যদি বাধা দিতাম তাহলে সেখান থেকে আমাদের লাশও আসত না। আমাদের একদম পিষে ফেলত।

তিনি আরও বলেন, আমরা মোট ২০ জন পুলিশ সদস্য সেখানে ছিলাম। যে অবস্থা ছিল পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ এখানে এলেও এই জনস্রোত ঠেকানো যেত না। ঠেকানোর চেষ্টা করলে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতো। আমাদের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না। আমাদের পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) বা ডিজিএফআই, এনএসআই কোনো দিক থেকেই আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। সরাইলে থাকা ডিএসবির প্রতিনিধিও এ ধরনের তথ্য দেয়নি বলে জানান ওসি।

ওসি সাহাদাত বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী থানাগুলো থেকেও আমাকে কোনো বার্তা দেয়নি। এ অবস্থায় আমরা সরাইল থানার কয়জন পুলিশ ছাড়া কোনো সংস্থা, কোনো কর্তৃপক্ষ কেউ সক্রিয় ছিল না। উপজেলা প্রশাসন ও কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সহযোগিতা আমার কাছে ছিল না। আমার ধারণা সবাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে শুধু আমার ওপরে ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি এমন হয়েছে গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ মারা গেলে ওনার দাফন-কাফন হবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমার ব্যর্থতা বা অজ্ঞতা হলো- এই হুজুর সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। কারণ আমি ওনাকে কোনোভাবেই চিনতাম না।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় তারা এটিকে হালকাভাবে নিয়েছে। প্রশাসনের এটি দেখার দরকার ছিল। যখন দেখছে প্রচুর মানুষ আসছে তখনই বাধা দেওয়া দরকার ছিল।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের কথা বলার কোনো কারণ নেই। আমরা এসপি স্যারকে রিপোর্ট করেছি। ওসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে লকডাউন এবং অন্যান্য নিয়ম কানুন নিয়ে। সে অনুযায়ী ওসি কথাও বলেছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, আমার কাছে কোনো ধরনের তথ্য ছিল না। পুলিশের পক্ষ থেকেও আমাকে কিছু জানায়নি। অন্য কোনো মাধ্যম থেকেও জানিনি এতো বড় জমায়েত সেখানে হতে যাচ্ছে। জানাজা শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরে আমি জানতে পেরেছি। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়নি।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর