ব্রেকিং:
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য শিক্ষক চায় ইউজিসি মিন্নি-নয়ন বন্ডের গোপন বিয়ের বিস্তারিত তথ্য ফাঁস রিফান্ডের নামে ইভ্যালির প্রতারণা ফেসবুক লাইভে এসে বিকৃত উল্লাস করা সেই ৪ ধর্ষক রিমান্ডে চীনে আটকে পড়াদের ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হঠাৎ সাক্ষাতে ভোট চাইলেন আতিকুল, ফখরুল বললেন... বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোলাইমানিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিহত! ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম-সিলেটের নতুন রুট হচ্ছে নাসিরনগরে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শ্রীঘর একাদশকে হারিয়ে নাসিরনগর সদর একাদশ বিজয়ী নবীনগরে জাতীয় জলাতঙ্ক রোগের টিকাদান অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত জলাতঙ্ক নির্মূলে মানুষের পাশাপাশি কুকুরকেও ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে করোনা ভাইরাস নিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে সতর্কতা অবলম্বন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষকের উপর হামলা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সন্তানহারা মায়ের আকুতি জলাতঙ্ক নির্মূলে কুকুরকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু ৩০ জানুয়ারি বোর্ড পরীক্ষায় সফলতার বিকল্প নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ এক নারী ধরা আখাউড়ায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

বুধবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৫ ১৪২৬   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৩৩৭

জনগণই ছিল বঙ্গবন্ধুর ‘দুর্বলতা’

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯  

বঙ্গবন্ধুর এক ঘোষণার পর লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, আত্মত্যাগ করেছিলেন, প্রিয়জনকে হারিয়েছিলেন, নিঃস্ব হয়েছিলেন, এত ত্যাগের পর একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছিল বাঙালি জাতি। সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন দেশে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসেছিল ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে। পাকিস্তানের কারাগারে ২৯০ দিন থাকার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে মহানয়ক ‘ব্রিটিশ কমেটে’ করে অবতরণ করেন। এরপর তিনি প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় নিয়ে রেসকোর্সে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পৌঁছান। সেখানে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

ওই ভাষণে ‘আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে’, বঙ্গবন্ধু এ কথা বলছিলেন আর কাঁদছিলেন। একজন নেতা দেশের মানুষকে কতটা আপন করে নিতে পারেন, সেটা তখনই তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। ভাষণে তিনি বলেন, ‘ভাই হিসেবে নেতা হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই। এই স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনরা কাপড় না পায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এ দেশের যুবক শ্রেণি যারা আছে তারা যদি চাকরি না পায়, কাজ না পায়।’ 

বঙ্গবন্ধু কতটা শান্তিপ্রিয় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নেতা ছিলেন তা ওইদিনের ভাষণে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। উপস্থিত সকলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা বাংলায় যারা কথা বলো না, তারা এখন থেকে বাংলার মানুষ হও। ভাইয়েরা, তাদের গায়ে হাত দিও না, তারাও আমাদের ভাই। বিশ্ববাসীকে আমরা দেখাতে চাই, বাঙালীরা কেবল স্বাধীনতার জন্যই আত্মত্যাগ করতে পারে, তাই না, তারা শান্তিকেও বাস করতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। ওই দিন ভোর রাতে তাকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছান। ১০টার পর তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকে তিনি দিল্লি হয়ে দেশে ফেরেন। 

স্বাধীন দেশে ফেরার প্রায় একমাস পর বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য বিবিসির সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি ওই সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?’  উত্তর ছিল, ‘আমার জনগণ’। ফ্রস্ট আরেকটি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনার দুর্বলতা কী?’ প্রশ্নের উত্তর এভাবে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধ, ‘আমার জনগণের জন্য ভালোবাসা’।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া