ব্রেকিং:
শীতার্তদের পাশে সংবাদপত্র কর্মীরা স্বাস্থ্য সেবা হচ্ছে মানবতার প্রধান উৎস মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়তে ‘আলোর সিঁড়ি’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনার দাবিতে বিক্ষোভ মাদকাসক্ত স্বামীকে পুলিশে দিলেন স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন আগুন শেখ হাসিনা সড়কে ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিদর্শন বিশ্ববিখ্যাত ইনটেলের চেয়ারম্যান হলেন বাংলাদেশি ওমর ইশরাক পবিত্র জুমাবারের সুন্নতগুলো জেনে নিন ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস, সৌদিতে ভারতীয় আক্রান্ত পাকিস্তানকে হারাতে আজ মাঠে নামবে টাইগাররা রোহিঙ্গা গণহত্যা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চার আদেশ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ মাদরাসায় এক কেজি মুড়ির বিল ১৪ হাজার ৮৮০ টাকা! সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী আজিজুল হকের মায়ের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের শোক সরকারি নির্মাণাধীন বাসগৃহ পরিদর্শন করেন ইউএনও মৎস্য ব্যবসায়ীদের বাজার বর্জন বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন আকস্মিক কলেজ পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী

শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

১২৭৪

‘খুনিরা আটক না হওয়া পর্যন্ত কবর জিয়ারত করব না’

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

অপেক্ষায় কেটেছে সাতটি বছর। এতগুলো বছরে একবারও যাননি ছেলের কবরের পাশে। এভাবে আর কত বছর কাটাবেন সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির। জানালেন, যতদিন আমার ছেলে ও বউয়ের হত্যাকারীরা আটক হবে না, ততদিন আমি তাদের কবর জিয়ারতে যাব না।সাগর-রুনি হত্যাকারীরা আটক না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সালেহা মনির বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা বার বার আমার কাছে এসে জানতে চায় আমি কাউকে সন্দেহ করি কিনা। আমি প্রতিবারই তাদের বলেছি, আপনাদেরই তো আমাকে জানানোর কথা- কারা কী কারণে আমার ছেলে ও বউকে হত্যা করল?

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মাছরাঙা টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে। 

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই সাংবাদিক দম্পতির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ণ হল। আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে নানা সময় মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অনেক আশ্বাস দিলেও সে আশ্বাসে চলে গেছে সাতটি বছর। 

মা সালেহা মনির বলেন, সাতটি বছর ধরে টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজে চোখ রাখছি। মাঝে মাঝেই আঁতকে উঠি, এই বুঝি হত্যাকারীদের আটকের খবর এলো। বাড়ির সামনে পুলিশ-র‌্যাবের গাড়ি থামলেই মনে হয় যেন হত্যাকারীদের আটকের সংবাদ নিয়ে এলো ওরা। এভাবেই সাত বছর ধরে অপেক্ষা করছি।

এই মামলার সন্দেহভাজন নিয়ে তিনি বলেন, আমার চেয়ে এই মামলার বাদী রুনীর ভাই নওশাদই ভালো বলতে পারবেন। যাকে তাকে ধরে নিয়ে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছিল বলে, আমি এর প্রতিবাদও করেছি। 

এসময় ক্ষোভের সঙ্গে সাহেলা মনির বলেন, মৃত্যুর আগে আমি ছেলে আর বউয়ের হত্যাকারীদের আটকের খবর শুনে যেতে পারব কিনা, জানি না।

গত ছয় বছরের নানা অভিজ্ঞতায় হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। রুনির মা তো তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন, সেই রাতে তিনি কি ওই বাড়িতে ছিলেন না? যদি না থেকে থাকেন, তবে কেন তিনি ওই দিন ছিলেন না? এটা বের করা প্রয়োজন।

সালেহা মনির বলেন, ওই ফ্ল্যাটে কারা আসে, কারা যায়- তার সবই তো নিরাপত্তা কর্মীরা লিখে রাখে। আর এত রাত পর্যন্ত নিশ্চয়ই তাদের মেহমান অপরিচিত কেউ ছিল না। 

এই হত্যাকাণ্ডকে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোন চোর-ডাকাত কী ওই ঘরের চাকু-বটি দিয়ে হত্যা করতে আসবে? আর যে গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা দেখানো হচ্ছে, সেটা দিয়ে কি মানুষ ঢুকতে পারবে?

ময়নাতদন্তে চিকিৎসক দেখেছেন, তারা কি খাওয়া-দাওয়া করেছেন, তাদের পাকস্থলিতে কি কি পাওয়া গেছে, হত্যার কারণ নির্ণয়ের পরও আমার সন্তানদের মরদেহ আবার কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। যারা হত্যা করেছে, সেই হত্যাকারীদের ধরার বদলে তদন্তকারী দল শুধু হত্যা কিভাবে হল, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন এটা করা হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।

সাগরের মা সালেহা মনির প্রশ্ন রেখে বলেন, হত্যাকারীরা কত শক্তিশালী, যে এতদিন তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে?

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর