ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

৩৫

করোনায় চিকিৎসার ‘ওষুধ পেয়েছে’ যুক্তরাষ্ট্র

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২০  

মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। তবে এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও প্রাণহানি উভয় দিক থেকেই বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে দেশটি। করোনায় সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ।এদিকে এমন পরিস্থিতে দেশটিতে আলো দেখাচ্ছে একটি কোম্পানির তৈরি রেমডিসিভির ওষুধ।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সংক্রামণ ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলছেন, করোনার চিকিৎসায় রেমডিসিভিরের কার্যকারিতার ‘সু্স্পষ্ট প্রমাণ’ পেয়েছেন তারা।

বুধবার জিলেড সায়েন্সেসের পরীক্ষামূলক অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল পাওয়ার পর দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে রেমডিসিভির গ্রহণকারীরা অন্যদের তুলনায় কম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, যাদের প্লেসবো দেয়া হয়েছে তাদের তুলনায় রেমডিসিভির গ্রহণকারীরা ৩১ শতাংশ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ফাউচি। যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের চিকিৎসক বলেছেন, প্রাথমিক ফল খুবই আশাব্যঞ্জক।

বুধবার ফাউচি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তটা অনেকটা ১৯৮৬ সালের মতো, যখন এইচআইভির ওষুধের জন্য আমরা সংগ্রাম করছিলাম এবং হাতে কিছুই ছিল না। সেবার একটা মানদণ্ড তৈরি হবে।

জানা গেছে, বুধবার হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ-এর তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০৬৩ মানুষের অংশগ্রহণে এই ওষুধের পরীক্ষা হয়। তাদের এক অংশকে দেয়া হয় রেমডিসিভির, আরেক অংশকে দেয়া হয়েছিল প্লেসবো। রেমডিসিভির গ্রহণকারীরা গড়ে ১১ দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। আর প্লেসবো চিকিৎসা নেয়ারা সুস্থ হয়েছেন ১৫ দিনে।

ফাউচি বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ করছে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার সময় কমিয়ে আনতে রেমডিসিভিরের ভূমিকা সুস্পষ্ট, গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক। তার মতে, পরীক্ষার ফলাফল প্রমাণ করেছে একটি ওষুধ করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় আমাদের সামনে নতুন দুয়ার খুলে গেলো।

সংবাদ সংস্থা সিএনএন বলছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা নিশ্চিত হলে তা হবে দুর্দান্ত ফলাফল, তবে ম্যাজিক বুলেট নয়।

অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে ওষুধ, চাপ কমবে হাসপাতালের ওপর এবং আংশিকভাবে লকডাউনও প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

আসলে ইবোলার চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল রেমডিসিভির। যদিও রোগটির বিরুদ্ধে এ ওষুধের সুফল মেলেনি। তবে এই ওষুধ করোনায় মৃত্যুহার কমাতে ভূমিকা রাখে কিনা তা প্রমাণিত হয়নি।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, রেমডিসিভির গ্রহণকারীদের মৃত্যুহার যেখানে ৮ শতাংশ, সেখানে প্লেসবো গ্রহণকারীদের মৃত্যুহার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে এই পার্থক্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন না এটি আসলেই মৃত্যু প্রতিরোধ করে কিনা।

ফাউচি আশাবাদী হলেও তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়, কারা এই ওষুধ থেকে সুবিধা পাবে বেশি।

এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে এমন কিছু প্রশ্ন উঠেছে, যার উত্তর মেলেনি পরীক্ষার ফলাফল থেকে- রেমডিসিভির কি কেবল দ্রুত সুস্থ করে? নাকি এটি গ্রহণ করলে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয় না? তরুণ নাকি বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে? আর অন্য রোগের বেলায় এর আচরণ কেমন হয়?

যখন পুরো ফলাফল প্রকাশ করা হবে, তখন এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, একটি ওষুধের কারণে যদি কারো ইনটেনসিভ কেয়ারে চিকিৎসা না লাগে তাহলে হাসপাতালের ঝুঁকি কমবে এবং সামাজিক দূরত্বও ততটা প্রয়োজন হবে না।

রেমডিসিভির যত দ্রুত সম্ভব সহজপ্রাপ্য করার অনুমোদন দিতে জিলেডের সঙ্গে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কিন্তু এনিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চায়নি তারা।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
করোনাভাইরাস বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর