ব্রেকিং:
মাদক সম্রাট বাদল ডাক্তার আটক পাইকপাড়া ও বুল্লা গ্রামের বিরোধের শান্তিপূর্ণ মিমাংসা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনকালে সঙ্গী কুখ্যাত রাজাকারপুত্র আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা চাইলেন ওসি ইউপি সদস্য সহ ৭ জুয়ারী গ্রেফতার ব্যাডমন্টিন টুর্নামেন্টে দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় সম্মিলিতভাবে পালন করতে হবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত প্রেমিককে না পেয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা সবজি গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগর চোলাই মদ বিক্রির দায়ে কারাদণ্ড নিয়মের ‘গ্যাঁড়াকলে’ তালিকাভুক্তহীন ১৭ মুক্তিযোদ্ধা ‘ডায়াবেটিস’ তাই ভাত ছেড়ে রুটি? বিপদ আরো বাড়ছে মিথিলা-ফাহমির ছবি ইন্টারনেট থেকে সরানোর নির্দেশ গবাদি পশুর প্রজননের খবর জানাবে বাংলাদেশি ছাত্রের তৈরি যন্ত্র অ্যাপিকটা বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিল বেসিস ইসলামে সড়ক ও পরিবহন নীতিমালা জমকালো আয়োজনে শেষ হলো বিপিএলের উদ্বোধন শুদ্ধি অভিযান সফল করতে হবে: কাদের পঙ্গু-বয়স্কদের জন্য ইউএনওর ‘কলিং বেল’ সেবা

মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

৩৬৮

এরশাদের সেই ‘মৃত্যু’ কবিতা

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯  

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতিও ছিলো ঝোঁক। তাই বাংলা সাহিত্য প্রেমীদের বেশ কিছু কবিতার বই উপহার দিয়েছেন। মৃত্যু নিয়েও তার একটি কবিতা রয়েছে।

তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন সময় এসব কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে- এক পৃথিবী আগামী কালের জন্য, কনক প্রদীপ জ্বালো, নির্বাচিত কবিতা, নবান্নে সুখের ঘ্রাণ, যুদ্ধ এবং অন্যান্য কবিতা, এরশাদের কবিতা সমগ্র, ইতিহাসে মাটির চেনা চিত্র, যেখানে বর্ণমালা জ্বলে, কারাগারে নিঃসঙ্গ দিনগুলো।

২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলাতে নতুন চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন তিনি। বইগুলো হলো- হে আমার দেশ, ঈদের কবিতা, বৈশাখের কবিতা ও প্রেমের কবিতা।

এরশাদ ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেয়ার সময় মৃত্যু নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তার মৃত্যু নিয়ে লেখা সেই কবিতাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

মৃত্যুকে আর আমার কোনো ভয় নেই-

যাকে আমি দেখেছি- একবার নয়,

একাধিকবার খুব কাছে থেকে

একেবারে একান্তভাবে- আলিঙ্গনরত

প্রিয়তমার মতো। সৈনিক ছিলাম

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে শিখেছি তখন।
বন্দিজীবনে পাণ্ডু–রোগকে আজরাইল

রূপে দেখেছি- আল্লাহতা’লার

ভর্ৎসনায় ফিরে গেছে আমাকে না নিয়েই-

তারপর ভেবেছিলাম- স্রষ্টার কিছু কাজ

হয়তো এখনো বাকি রয়ে গেছে- সেটুকু

করার দায়িত্ব নিতে হবে আমাকেই- আমার

দেশের জন্য- আমার অসহায় মানুষের জন্য।

শুরু করলাম নতুন যাত্রা- দুর্গম পথে

যে পথে চলতে গিয়ে কখনো বা হয়ে যাই

ক্লান্ত-শ্রান্ত-অবসন্ন। তখন ভাবনাগুলো

চারপাশে ভিড় জমায়। জীবন সায়াহ্নে

আর কত কি কাজ আছে বাকি?

সেই চিন্তার মাঝে মৃত্যু নামের

অবধারিত সত্যের নোটিশ আসে-

যেতে হয় অপারেশন থিয়েটারে।

সেখানে ভুলতে হয়- পৃথিবীর সব

মায়া-মমতা-প্রেম-ভালোবাসা,

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন,

জীবন প্রবাহ, ইতিহাস, অতীত-বর্তমান,

কর্মের তাগিদ সব হিসাব-নিকাশ-

জীবন আর মৃত্যুর এই সংযোগ স্থলে।
চিন্তার কোনো অবকাশ নেই সেখানে-

ঠিক যেনো মৃত্যুর মতো- এখানে এসে

আমিও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

সেখানেও বিধাতা আমাকে জাগিয়ে দিলেন-

আবার জেগে দেখি সেই আলো-

সেই বাতাস- সেই প্রিয় আপনজনেরা-

যারা আমার জন্য প্রার্থনায় বসে ছিলো-

মসজিদে-দেবালয়ে দু’হাত বাড়িয়ে।

তাদের প্রার্থনার হাত খালি হয়ে

ফিরে আসেনি করুণাময়ের দরবার থেকে।

মৃত্যু আমাকে আবার জানিয়ে দিয়ে গেলো-

‘আমি নিতে চাইলে কি হবে- তোমার

ভালোবাসার মানুষেরা তো যেতে দেয় না তোমাকে-

তাদের দোয়া যে কবুল হয়ে গেছে।’
আজ আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা- দেশের সকল

মানুষের কাছে- চিরদিনের ঋণ তাদের কাছে-

যারা আমার জন্যে হাত পেতে নিয়ে এসেছে

আরো কিছু আয়ু, আরো এক নতুন জীবন।

(সিঙ্গাপুর-২৯ অক্টোবর, ২০১৭। হাসপাতাল থেকে ফিরে)

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর