ব্রেকিং:
‘আল্লাহর দল’র টার্গেটে ছিল পিলখানার ঘটনায় চাকরিচ্যুতরা আমি চাই সবার সঙ্গে মিশতে: প্রধানমন্ত্রী পানিতে তলিয়ে যেতে পারে জাকার্তা, বাঁচানোর কোনো উপায় নেই! সাত সপ্তাহ পর মন্ত্রিসভার বৈঠক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেকোনো সময়: পররাষ্ট্র সচিব এডিস মশার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তরে ‘চিরুনি অভিযান’ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৮৬ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী ১০৯ নম্বরে ফোন পেয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি, ২১ জেলায় দুদকের অভিযান ৯৯৯ এ ফোন করে উদ্ধার হলেন ২০০ লঞ্চ যাত্রী পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে রয়েছে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘুষদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী হুজুর সেজে ধর্ষককে ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩ ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের রমণীদের পছন্দ বাংলাদেশি ছেলে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকায় মিয়ানমারের তদন্ত দল ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ টাইগারদের হেড কোচ হলেন রাসেল ডমিঙ্গো

সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৪ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৩১৩

এরশাদের সেই ‘মৃত্যু’ কবিতা

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯  

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতিও ছিলো ঝোঁক। তাই বাংলা সাহিত্য প্রেমীদের বেশ কিছু কবিতার বই উপহার দিয়েছেন। মৃত্যু নিয়েও তার একটি কবিতা রয়েছে।

তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন সময় এসব কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে- এক পৃথিবী আগামী কালের জন্য, কনক প্রদীপ জ্বালো, নির্বাচিত কবিতা, নবান্নে সুখের ঘ্রাণ, যুদ্ধ এবং অন্যান্য কবিতা, এরশাদের কবিতা সমগ্র, ইতিহাসে মাটির চেনা চিত্র, যেখানে বর্ণমালা জ্বলে, কারাগারে নিঃসঙ্গ দিনগুলো।

২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলাতে নতুন চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন তিনি। বইগুলো হলো- হে আমার দেশ, ঈদের কবিতা, বৈশাখের কবিতা ও প্রেমের কবিতা।

এরশাদ ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেয়ার সময় মৃত্যু নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তার মৃত্যু নিয়ে লেখা সেই কবিতাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

মৃত্যুকে আর আমার কোনো ভয় নেই-

যাকে আমি দেখেছি- একবার নয়,

একাধিকবার খুব কাছে থেকে

একেবারে একান্তভাবে- আলিঙ্গনরত

প্রিয়তমার মতো। সৈনিক ছিলাম

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে শিখেছি তখন।
বন্দিজীবনে পাণ্ডু–রোগকে আজরাইল

রূপে দেখেছি- আল্লাহতা’লার

ভর্ৎসনায় ফিরে গেছে আমাকে না নিয়েই-

তারপর ভেবেছিলাম- স্রষ্টার কিছু কাজ

হয়তো এখনো বাকি রয়ে গেছে- সেটুকু

করার দায়িত্ব নিতে হবে আমাকেই- আমার

দেশের জন্য- আমার অসহায় মানুষের জন্য।

শুরু করলাম নতুন যাত্রা- দুর্গম পথে

যে পথে চলতে গিয়ে কখনো বা হয়ে যাই

ক্লান্ত-শ্রান্ত-অবসন্ন। তখন ভাবনাগুলো

চারপাশে ভিড় জমায়। জীবন সায়াহ্নে

আর কত কি কাজ আছে বাকি?

সেই চিন্তার মাঝে মৃত্যু নামের

অবধারিত সত্যের নোটিশ আসে-

যেতে হয় অপারেশন থিয়েটারে।

সেখানে ভুলতে হয়- পৃথিবীর সব

মায়া-মমতা-প্রেম-ভালোবাসা,

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন,

জীবন প্রবাহ, ইতিহাস, অতীত-বর্তমান,

কর্মের তাগিদ সব হিসাব-নিকাশ-

জীবন আর মৃত্যুর এই সংযোগ স্থলে।
চিন্তার কোনো অবকাশ নেই সেখানে-

ঠিক যেনো মৃত্যুর মতো- এখানে এসে

আমিও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

সেখানেও বিধাতা আমাকে জাগিয়ে দিলেন-

আবার জেগে দেখি সেই আলো-

সেই বাতাস- সেই প্রিয় আপনজনেরা-

যারা আমার জন্য প্রার্থনায় বসে ছিলো-

মসজিদে-দেবালয়ে দু’হাত বাড়িয়ে।

তাদের প্রার্থনার হাত খালি হয়ে

ফিরে আসেনি করুণাময়ের দরবার থেকে।

মৃত্যু আমাকে আবার জানিয়ে দিয়ে গেলো-

‘আমি নিতে চাইলে কি হবে- তোমার

ভালোবাসার মানুষেরা তো যেতে দেয় না তোমাকে-

তাদের দোয়া যে কবুল হয়ে গেছে।’
আজ আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা- দেশের সকল

মানুষের কাছে- চিরদিনের ঋণ তাদের কাছে-

যারা আমার জন্যে হাত পেতে নিয়ে এসেছে

আরো কিছু আয়ু, আরো এক নতুন জীবন।

(সিঙ্গাপুর-২৯ অক্টোবর, ২০১৭। হাসপাতাল থেকে ফিরে)

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর