ব্রেকিং:
প্রতিদিন কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিয়েছি করোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এমপিওভুক্তির সুখবর পেল ১৬৩৩ স্কুল-কলেজ ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ ॥ শেখ হাসিনা লোকসান ঠেকাতে সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনছে সেনাবাহিনী করোনা পরীক্ষায় দেশে চালু হলো প্রথম বেসরকারি ল্যাব যে দোয়ার আমলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তিন ধরনের লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেন না করোনা রোগীদের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে জরুরি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায়: ট্রাম্প গবেষণা প্রটোকল জমা না দিয়েই বিষোদগার করছেন জাফরুল্লাহ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে নিয়োগ করোনা আক্রান্তের শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ঘরেই পরীক্ষার উপায় মধ্যবিত্তরাও খাদ্যসহায়তার আওতায়: শিল্প প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল ত্যাগকারীদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয় নাসিরনগরে শিশু নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২ দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত, আরো ৮ মৃত্যু
  • মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৪৪৪

আঞ্চলিক সড়কের কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২০  

আশুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের তালশহর পর্যন্ত ৮কিলোমিটার সংস্কার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। নিম্নমানের কাজের কারণে দফায় দফায় বাঁধা দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। কোন বাঁধাকে তোয়াক্কা না করে দ্রুতগতিতে অতি নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। দরপত্রে যে পরিমানে বিটুমিন, ম্যাকাডামসহ অন্যান্য পাথর ও খোয়া ব্যবহারের কথা ছিল সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের পাথর খোয়াসহ সবকিছুই। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে চাঁদাবাজির মামলা। আর এসব বিষয়ে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তবে সব বিষয় অস্বীকার করে ঠিকাদার লোকমান হোসেন জানিয়েছেন কাজ শুরুর পর থেকে রাস্তাটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ ও বাঁধা আসার কারণে বিভিন্ন দপ্তর থেকে নজরদারী করা হচ্ছে। তাই এই রাস্তায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ এলাকায় ৬টি ইউনিয়ন ও জেলা সদরের সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগের একমাত্র সড়ক আশুগঞ্জ-তালশহর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই সড়কটি। এই সড়কের দুপাশে বেশ কয়েকটি চাতালকল থাকার কারণে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করে এই সড়কটি দিয়ে। সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দরপত্রসহ অন্যান্য সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২০১৯ সালের ১৬ জুন। সড়কটির কাজ পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেসার্স লোকমান হোসাইন ও মেসার্স মোস্তফা কামাল (জেভি)। এফডিডিআর.আইআরপি প্রকল্পের অধিনে আট কিলোমিটার এই সড়কের কাজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করার জন্য সময় ধরা ছিল ২৩ জুন ২০১৯ এবং কাজ শেষ করতে হবে ১৯ মার্চ ২০২০ এর মধ্যে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার প্রায় ৬ মাস পর কাজ শুরু করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

কাজ শুরু করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠে কাজের মান নিয়ে। স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধি একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয়ার পরও নিম্নমানের পাথর, ইট, বালু, খোয়া,বিটুমিন ও ম্যাকাডম ব্যবহার কিছুতেই থামছে না। এনিয়ে ৪ ডিসেম্বর এলাকাবাসী ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন নিম্নমানের কাজে বাধাঁ দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এনিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার সদর ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনসহ তার সমর্থকদের বিরুদ্বে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করে। এনিয়ে আরো জটিলতা সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মাঝে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দরপত্র অনুযায়ী কাজ করার শর্তে এক সমঝোতা হয়। এর পরেও ঠিকাদার একই কায়দায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেই যাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,দরপত্র অনুযায়ী

২৫মিলি,১৬মিলি,১২মিলি ও ৬মিলি এই ৪ ক্যাটাগরির পাথর এবং পাথরের ডাস্ট ব্যবহার করার কথা থাকলেও এক ইঞ্চি সিঙ্গেল ও বুজুরী পাথর সহ নিম্নমানের পাথর ও পাথরের ডাস্টের পরিবর্তে সাদা বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নমানের ইট দিয়ে ম্যাকাডম ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এসব পাথর উঠে গিয়ে রাস্তায় ফাটল ও গর্তের সৃস্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে প্যালাসাইটিং ওয়ালে ৪ সুতা লোহার পরিবর্তে ৩ সুতা এমএস রড ও জিআই তার দিয়ে রিং করে ডালাই দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় স্থানীয় জনতার চোখ আড়াল করতে নিম্নমানের মালামাল রাখা হয় সদর উপজেলার পুথাই গ্রামের এক খালি জায়গায়। এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উপজেলা প্রকৌশলীকে বার বার বলা হলেও তারা রহস্যজনক কারণে নিরব ভুমিকা পালন করছে। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসাইন ও মেসার্স মোস্তফা কামাল (জেভি)কে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার না করতে চিঠি দেয় উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। তারপরেও ঠিকাদার এসবের তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ হেলাল মিয়া জানান ঠিকাদার দরপত্র অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করার কারণে এই রাস্তা ৬ মাসও টিকবে বলে মনে হচ্ছে না। এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক জয়নাল মিয়া জানান, এই সড়কটিতে যে মানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে এতে করে রাস্তাটি বেশীদিন টিকবে না। কার্পেটিংএ যে বড় বড় পাথর ব্যবহার করা হয়েছে তা চাকার আঘাতে উঠে যাবে। সিএনজি যাত্রী আলাউদ্দিন জানান, রাস্তায় অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর, ম্যাকাডম, বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তাটির দিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর দেয়া উচিৎ।

সড়কটির সংস্কার কাজের ঠিকাদার মো. লোকমান হোসাইন মুঠোফোনে জানান, কাজ শুরুর পর থেকে রাস্তাটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাধাঁ আসার কারনে বিভিন্ন দপ্তর থেকে নজরদারী করা হচ্ছে। তাই এই রাস্তায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আমার ব্যবহার করা প্রতিটি মালামাল ভাল। প্রকৌশল বিভাগ থেকে তা প্রতিদিন লোকজন কাজ তদারকি করছেন।উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ কোনভাবেই খারাপ হচ্ছে না। সিডিউল মোতাবেক কাজ হচ্ছে। প্রথমদিকে কাজের মান খারাপ থাকার কারণে ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের কেউ নিম্নমানের কাজে সহায়তা করবে বিষয়টি সঠিক নয়। প্রতিটি সাইটে কাজ দেখার জন্য লোক থাকে একজন। আর এই কাজে লোক দেয়া আছে ৫ জন। পাশাপাশি সকল মালামাল ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী তা ঠিক আছে। তারপরেও যদি কোন যায়গায় কাজের মান খারাপ হয় তাহলে তা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর