ব্রেকিং:
টিউশনির টাকায় গুজবের বিরুদ্ধে ৩১ দিন হাঁটলেন সাইফুল কন্ডিশনিং ক্যাম্পেই যাত্রা শুরু নতুন দুই কোচের প্রথম সমকামী ক্রিকেটার হিসেবে মা হচ্ছেন স্যাটারওয়েট তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি কাদেরের স্মার্ট কার্ড অনলাইনে সংশোধন করবেন যেভাবে একজনের কিডনি ও লিভারে বাঁচলো তিনজনের প্রাণ পিতলের পুতুলকে সোনার মূর্তি বলে বিক্রি করে, চার জীনের বাদশা আটক বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে মোদির আমন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আজ ভয়াল ২১ আগস্ট পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে: জয়শঙ্কর কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে বাঁচালেন পুলিশ কর্মকর্তা রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের আগ্রহ প্রকাশ ভারতের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী কমছে মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে এসপির মন্তব্য জানতে চান হাইকোর্ট

বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১০

আজ হাজিদের আরাফায় অবস্থান, ফজিলত ও করণীয়

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৯  

আরাফা শব্দটি আরবি। যার অর্থ হচ্ছে পরিচয় লাভ করা। কথিত আছে যে, আদম ও হাওয়া (আ.)-কে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয় বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। কারো সঙ্গে কারো কোনো যোগাযোগ ছিলো না। দুনিয়াতে আসার পর সর্বপ্রথম পরিচয় হয় আরাফার ময়দানে। তাই উক্ত স্থানকে আরাফা হিসেবে নাম করণ করা হয়। 

বর্তমানে আরাফার ময়দানের অবস্থান হচ্ছে, এটি মক্কা মুর্কারমা থেকে পূর্বদিকে আনুমানিক নয় মাইল আর মিনা থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত। আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল কাজ।

ইসলামের পূর্ণতা ঘোষণা হয় এই ময়দানে:    
আরাফার ময়দান ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্ব বহন করে। প্রিয় নবী (সা.) এর ওপর আল কোরআনের সর্বশেষ আয়াত, যাতে দ্বীন ইসলামকে কিয়ামত পর্যন্ত পরিপূর্ণ দ্বীন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে উক্ত আরাফার ময়দানেই নাজিল হয়েছিল। আল কোরআনের সেই আয়াতটি হচ্ছে অর্থাৎ ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম। এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীনরূপে মনোনীত করলাম।’ (সূরা: মায়েদা, আয়াত:৩)।

আয়াতের মর্মের গুরুত্ব উপলব্ধির জন্য এই ঘটনাই যথেষ্ঠ যে, একবার এক ইহুদী এসে হজরত ওমর (রা.)-কে বলেছিল, তোমাদের ওপর এমন একটি আয়াত নাজিল হয়েছে, তা যদি আমাদের ওপর নাজিল হত তাহলে সেই নাজিল হওয়ার দিনটিকে আমরা আমোদ-ফূর্তিতে কাটানোর জন্য ঈদ বানিয়ে নিতাম। মূলত ইসলাম তখন সকল দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলো। মক্কায় কোনো মুশরিকের আস্ফালন ছিলো না তখন। মক্কা মুসলমানদের বিজিত এলাকা। শয়তানকে নিরাশ করা হয়েছিলো যে, আরব দ্বীপে আর কখনো মূর্তিপূজার সুযোগ হবে না। শয়তানের জন্য এই দুঃসংবাদ কোরআন নাজিলের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে ‘আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে (অর্থাৎ দ্বীন ইসলামকে মিটিয়ে দেয়ার মিশনের ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তোমরা ওদেরকে ভয় করো না বরং আমাকেই ভয় করো।’ (সূরা: মায়েদা, আয়াত: ৩)।

তবে নবী করিম (সা.) উম্মাহকে শয়তানের নিরাশার সুসংবাদ দানের সঙ্গে সঙ্গে একটা আশংকার ব্যাপারেও সতর্ক করেছিলেন যে, মূর্তিপূজার ব্যাপারে সে নিরাশ হলেও তোমাদের পরস্পর উসকিয়ে দেয়ার কাজে সে সর্বদা লেগে থাকবে। সেই বাস্তবতা আজ আমাদের সামনে। আরবের আমীর সম্প্রদায় নিজেরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন। কেউ কারো সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে না। বরং শয়তান এবং তার দোসরদের উস্কানিতে একে অপরের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মত্ত।

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়া হয়েছিলো আরাফার ময়দানে: 
আরাফার দিনের গুরুত্বের আরেকটি কারণ হচ্ছে, বিদায় হজের ভাষণ। নবী করিম (সা.) দশম হিজরিতে হজে এসে এখানেই ভাষণ দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ হজ, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত। তাঁর ভাষণে এমন কিছু বিষয়বস্তু ছিল, যা শুধু ধর্মের ইতিহাসেই নয় বরং বিশ্ব মানবতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসেও বিরল। তাঁর ভাষণে নারী অধিকারের বিষয়ে কথা ছিল। নারীদের নিয়ে তার ভাষণ ছিল ওই সময় যখন নারীদেরকে অন্যান্য সমাজে মনে করা হত পশুর মতো ভোগের বস্তু। দাস প্রথা ছিল তখনকার সময়ের অন্যতম বিষয় এবং তৎকালীন সমাজ ব্যবস্হার অপরিহর্য অনুসঙ্গ। তিনি তাদের ব্যাপারেও বিদায় হজের ভাষণে কথা বলেছেন। তাঁর আহ্বান ছিল ‘তারা তোমাদেরই ভাই। তাদেরকে তাই খেতে দিবে, যা তোমরা নিজেরা খাও। পরতে দিবে তাই, যা তোমরা নিজেরা পর। অনেকে বলে ইসলাম নাকি একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সামাজ ব্যবস্থা। আর তারা নিজেরা নাকি আলোর যুগের। তারা একটু ভেবে দেখুক! এ আহ্বান কোন জামানার ছিল? বস্তুত এটা ছিল একজন উম্মি ব্যক্তির ঠিক ওই সময়ের আহবান যখন এ বিষয়ে কারো না ছিল কোনো ভ্রুক্ষেপ, আর না ছিলো চেতন। প্রকৃত কথা হলো ইসলাম মানবাধিকার ও মনুষ্যত্ব বিকাশে যে অবদান রেখেছে আজকের বস্তুবাদি কোনো মতবাদই তার সমকক্ষতার দাবি করতে পারবে না। 

রাসূল (সা.) এর একটি আহ্বান ছিল মানুষের জান-মাল ও ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, তোমাদের একজনের ওপর অন্যজনের জান, মাল, ইজ্জত আব্রু তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত এই মাস, আজকের এই দিন...। এভাবে মানবাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের ঘোষণা এসেছিলো এমন এক ব্যক্তির মুখ থেকে যিনি মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনো পড়াশুনা করেছেন, আর না  কোনো ভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করেছেন। নিসন্দেহে তা ছিলো আল্লাহর বাণী, যা তার মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল।

আরাফার ময়দানে অবস্থানের ফজিলত:
জিলহজের নয় তারিখে হাজি সাহেবগণ যখন আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন তখন তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকে অগণিত রহমত নাজিল হতে থাকে। অসংখ্য আদম সন্তানকে মাফ করে দেয়া হয়। এই অবস্থা দেখে শয়তানের গায়ে জ্বালা শুরু হয়। এবং আরাফার দিন শয়তান যতটুকু রাগান্বিত হয় অন্য কোনো সময় এত রাগান্বিত  হয় না। হাদিসে এসেছে  ‘শয়তান অন্যকোনো দিনে নিজেকে এত ছোট, অপদস্ত মনে করে না যতটুকু আরাফার দিনে মনে করে। ওকে এত বেশি রাগান্বিত কখনো দেখা যায় না যতটুক আরাফার দিনে দেখা যায়। তার এই অবস্থার কারণ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রহমত নাজিল হওয়া এবং অগণিত গোনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন, আরাফার দিনে যে পরিমান বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা মুক্ত করেন, অন্যকোনো সময়ে তা হয় না। আল্লাহ তায়ালা তখন আপন রহম ও দয়ার গুণের সঙ্গে আরাফায় অবস্থানকারী বান্দাদের কাছাকাছি চলে আসেন। তারপর ফেরেস্তাদের সঙ্গে ফখর করে বলেন, তারা (আরাফায় অবস্থানকারী বান্দারা) কী চায়? (সহীহ মুসলিম)। রহমত ও দয়ার গুণের সঙ্গে আরাফায় অবস্থানকারীদের নিকটে এসে যাওয়ার দ্বারা ইঙ্গিত হচ্ছে বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া।

হজে আরাফায় অবস্থানের গুরুত্ব:
হজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে জিলহজের নয় তারিখে আরাফার ময়দানে অবস্থান। সামান্য মুহূর্তের জন্যও যদি কোনো হাজি আরাফার ময়দানে নির্দিষ্ট সময়ে অবস্থান করতে না পারে তাহলে তার হজই কবুল হবে না। হজের অন্যান্য বিধান যেমন তওয়াফ, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সায়ী করা, মুজদালিফায় অবস্থান ইত্যাদি কোনো কারণে ছুটে গেলে তা পূরণ করার ব্যবস্থা আছে কিন্তু আরাফার ময়দানে অবস্থান কোনো কারণে ছুটে গেলে তা পূরণ করার কোনোই ব্যবস্থা নেই। এ ব্যাপারে ইমাম তিরমিজী ও নাসায়ীসহ আরো অনেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, হজ হচ্ছে আরাফার ময়দানে অবস্থানের নাম। তাই হজের বিধান হিসেবে আরাফার ময়দানে অবস্থান করার গুরুত্ব অপরসীম।
 
আরাফার ময়দানে অবস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিবিধান:

এক. আরাফার ময়দানে অবস্থান করার জন্য গোসল করে নেয়া মুস্তাহাব।

দুই. আরাফার ময়দানে সবজায়গায় অবস্থান করা বৈধ। তবে রাস্তা এবং জনবিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করাকে উলামায়ে কেরাম মাকরূহ বলেছেন।

তিন. আরাফায় অবস্থানের জন্য বতনে আরনা নামক স্থানকে নির্বাচন করা নাজায়েজ। বতনে আরনা হচ্ছে একটি পাহাড়ি উপত্যকা, যা আরাফার মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে একেবারে লাগুয়া। উলামায়ে কেরামের মতে উক্ত স্থানটি আরাফার ময়দানের বাহিরে অবস্থিত। 

চার. অবস্থানের জন্য উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে সূর্য হেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মসজিদে নামিরার নিকটে অবস্থান করা। তারপর সুযোগ হলে জোহরের নামাজের পরেই বা আসরের নামাজের পর জাবালে রহমতে গিয়ে অবস্থান করা।

পাঁচ. আরাফায় অবস্থানের সময় খুব বেশি দোয়া, ইস্তেগফার ও জিকির-আজকার করা। উলামায়ে কেরাম বলেন, আরাফায় অবস্থানের সময় হাত ওঠিয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব। নিজের জন্য, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্দু-বান্ধবের জন্য দোয়া করা। দোয়ার মাঝে মাঝে তালবিয়া তথা ‘লাব্বায়িক আল্লাহুমমা লাব্বায়িক.... পাঠ করা। দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। একাগ্রতার সঙ্গে দোয়ায় মগ্ন হওয়া। মনে রাখতে হবে, সব জায়গায় সমানভাবে দোয়া কবুল হয় না। বরং তার নির্দিষ্ট কিছু জায়গা আছে যেখানে দোয়া কবুল হওয়ার আশা বেশি। এমন একটি স্থান হচ্ছে আরাফার ময়দান। তাই দোয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া।
 
ছয়.
 গাফলতির সঙ্গে বা শুয়ে শুয়ে আরাফায় অবস্থানের সময় পার করাকে উলামায়ে কেরাম মাকরূহ বলেছেন। তাই হাজিদের কর্তব্য হচ্ছে উক্ত সময়টাকে গণিমত মনে করা। প্রসিদ্ধ ঘটনা আছে এক গরিবকে আল্লাহ তায়ালা ধনী বানানোর সিদ্ধন্তা নিলেন। তাই কারো ওসিলায় তার সামনে এনে একটা স্বর্ণের টুকরা রেখে দিলেন। কিন্তু ওই লোকের বদ আমলের কারণে সে ওই সম্পদ থেকে বিরত হলো। কারণ, যখন সে স্বর্ণের টুকরার সামনে এলো তখন সে অন্ধলোক কীভাবে হাটে তা দেখানোর জন্য চোখ বন্ধ করলো। আর এই ফাঁকে সে স্বর্ণের টুকরাটাকে পেছনে রেখে চলে এল। তাই আরাফার ময়দানেও আমাদের গাফলতির কারণে আখেরাতে মুক্তির পরোয়ানা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই ওখানে আমাদের অবস্থা যেন ওই গরিবের মতো না হয়।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে হজের অংশ হওয়ার কারণে যেমন ইবাদতের দিক থেকে আরাফার ময়দান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমুসলিমের আন্তর্জাতিক সম্মেলনস্থল হওয়ার কারণেও আরাফার ময়দান গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ হাজি, যাদের কারো গায়ের রং কালো, কারো সাদা, তাদের মাঝে আছে আরবি, ইংরেজি, উর্দু ও ফার্সীসহ বহু ভাষাভাষী লোক। সম্পদের দিক থেকে কেউ কোটিপতি আবার কেউ নিজের জীবনের সঞ্চিত অর্থ পুরোটা ব্যয় করেই এখানে জমায়েত হয়েছে, কিন্তু কারো মাঝে বংশ, ভাষা বা অঞ্চল নিয়ে কোনো গর্ব-অহংকার নেই। সবাই এক ময়দানে, এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। এর দ্বারা বিশ্বদরবারে ইসলামের সৌন্দর্য ও সাম্যনীতি আরো ভালভাবে ফুটে ওঠে। এক সময় আরাফার ময়দানের খুতবা বিশ্বমুসলিমের পথপ্রদর্শক হতো। এখন সে অবস্থা আর নেই। আরবের উমারাদের টেবিলে ফাইলবন্দি থাকে এই খুতবা। খুতবার ভাষা আগের হলেও তার প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। জানি না সে প্রাণ আবার সে ফিরে আসবে কীনা?

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া