ব্রেকিং:
করদাতাদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত জেলে পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ইঁদুর নিধনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা কার্টুনে ভরা নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার পণ্যের মূল্য তালিকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না থাকায় জরিমানা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ১৫ নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার স্বাস্থ্য সচেতনতায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হাসপাতালে নবজাতক রেখে মা উধাও সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও হলো না চাকরি, কাঁদলেন প্রার্থী ২০২৩ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ! কোটি টাকার কারেন্ট জালে আগুন দেশের ‘অপরিচিত’ কিছু সমুদ্র সৈকত আপনার দেহে কি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে? বুঝে নিন ১০টি লক্ষণে র‌্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আহ্বান ডিজিটাল মেলায় দেশি রোবট নিয়ে কৌতুহল জুতার বাজে গন্ধ দূর করুন সহজ একটি কৌশলে!

বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

২৬

অদ্ভুত সৌন্দর্যে সেজেছে কুয়াকাটা

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

শহর ছেড়ে প্রশান্তির জন্য যেতে পারেন সাগর তীরে। দেশে বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে, এরমধ্যে কুয়াকাটা একেবারেই ব্যতিক্রম। স্বকীয়তার কারণে কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগর কন্যা। কোলাহল মুক্ত, নেই মানুষের গাদাগাদি। আপন মনে নিজের মতো করে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর লঞ্চে গেলে জার্নিটাও উপভোগ করতে পারবেন।

ঢাকা থেকে আমরা সাত জন রওনা দিলাম সাগর কন্যার উদ্দেশ্যে। সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার পর সবাই গেলাম ছাদে। জোসনা রাতে লঞ্চের ছাদে বসে ভেসে ভেসে যাচ্ছি এগিয়ে। সে এক অন্য রকম অনুভূতি। জোসনার আলো যেন ঢেলে পড়ছে। আর নদীর পানি চিক চিক করছে। হিমেল হাওয়ায় জমে উঠল আড্ডা। ভোর চারটায় পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে নেমে অটোতে করে বাস স্ট্যান্ড গেলাম। সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা। নেমেই বন্ধুদের কেউ কেউ বলছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মতো হবে হয়তো! কয়েকটা হোটেল দেখে ওয়েস্টার্ন হোটেলে চার বেডের একটা রুম নিলাম। হোটেলটা বীচ থেকে খুবই কাছে।

বিকেলে সৈকতে গেলাম। সাগরের উত্তাল ঢেউ ও গর্জনে পার্থিব সবকিছু ভুলে অসাধারণ অনুভূতি কাজ করলো। কক্সবাজারের মতো এখানে ফুটবল খেলা নিয়ে কোনো ‘ঝামেলা’ নেই। বেশি ভালো লেগেছে কুয়াকাটায় মানুষ গিজগিজ করে না। আর যে বিষয়টি উল্লেখ্য, কক্সবাজারের সমুদ্রের পানি অনেক নোনতা; যার ফলে কিছুক্ষণ পানিতে লাফালাফি করলেই চোখ-নাক জ্বলে। কিন্তু কুয়াকাটার পানিতে লবন অনেক কম। আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা পানিতে ছিলাম। এদিন সন্ধ্যা আর রাত সৈকত-মার্কেটে কাটিয়ে দিলাম।

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আমরা সেখানে গিয়ে পরদিন ভোরবেলা গিয়ে উপভোগ করলাম সূর্যোদয়। দৃশ্যটি এতটাই সুন্দর ছিল, লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না! এরপর বাইক ভাড়া করলাম অন্যান্য জায়গাগুলো ঘোরার জন্য।

প্রথমেই গেলাম রাখাইন পল্লী। যার মুখেই আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির আছে; যেখানে ৩৬ ফুট লম্বা একটি মূর্তি আছে। রাখাইন পল্লীটা অনেক ব্যাতিক্রম ও চমৎকার লেগেছে। ওদের ঘর বাড়ি, জীবনযাপন সত্যিই অন্যরকম মনে হলো। বাড়ির আঙিনা ছোট ছোট গাছে ভরা, টিনের দোতলা ঘর, ঘরের সামনে ওদের বানানো জামা কাপড়ের দোকান ইত্যাদি। সেখান থেকে গেলাম ঝাউবন সংলগ্ন কুয়াকাটার শেষভাগে। যেখানে গিয়ে মনে হলো, আমি সেন্টমার্টিন আছি! সৈকত পাড় পুরোটা ঝাউ গাছে ভরা, আরেক পাশে কিছুটা নিস্তব্ধ সাগর। ভাগ্য ভালো হলে চোখে পড়বে লাল কাঁকড়ার ঝাঁক।

ঝাউবন থেকে একটু এগিয়ে গেলেই বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও এক পাশের সমুদ্র আপনাকে মুগ্ধ করবেই। হয়তো মনের অজান্তেই গাইতে থাকবেন- ‘এই পথ যদি না শেষ হয়...।’ সেখান থেকে ছোট একটা নদী পার হলেই গঙ্গামতীর চর। সেখানেও এক পাশে সাগর, আরেক পাশে বিচিত্র রকমের গাছ। এরপর গেলাম লেবুর চর ও তিন নদীর মোহনা। তিন নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে ফাতরার চর দেখা যায়; যেটি সুন্দরবনের একটি অংশ। শীতকালে কুয়াকাটা বীচ থেকে বোটে করে সেখানে যাওয়া যায়।

 

ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলবে লাল কাঁকড়ার

ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলবে লাল কাঁকড়ার

নির্দেশনা

নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। আর বাসে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। তবে সবচেয়ে সহজ ও আরামের কথা বিবেচনা করলে নৌপথই উত্তম। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে পটুয়াখালীতে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। অথবা লঞ্চে সদরঘাট থেকে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

পর্যটকদের থাকার জন্য কুয়াকাটায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। মান অনুযায়ী এসব হোটেলে চারশ’ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় থাকতে পারবেন। মোটামুটি মানে থাকার জন্য ৫০০-২৫০০ টাকায় হোটেল রুম পাবেন। শেয়ার করে থাকলে খরচ কম হবে। মৌসুম ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া গেলে আগে থেকে হোটেল বুকিং দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই বিভাগের আরো খবর